‘প্রতিবন্ধী এই বেটিটার এ্যাটা কার্ডের তোনেক বছর পাঁচেক ঘুরনু। পানুনা। মেম্বার কয় কার্ড আসেনি। অত আর দৌড়ঝাপ করা পারমুনা মুই। বয়স ১০ বছরে পরলো।
কেবল এ্যানা হাঁটোছে। এখন গায়ে খাটে খায়ে বাঁচমু, না বেটিটার চিকিত্সা করে বাঁচামু’ বলতে বলতে কান্নায় ভেঙ্গে পড়লেন পাঁচবিবি পৌরসভার রেলওয়ে কুলিপট্টি গ্রামের আদিবাসী নারী শেফালী রানী শিং। মেয়ে বর্ষা জন্মগতভাবে প্রতিবন্ধী। হাত ও পা অকেজো। কথা বলতে জানে না। দীর্ঘদিন ধরে সে অসুস্থ । মেয়ের অনিশ্চিত ভবিষ্যত্ নিয়ে মা শেফালী পড়েছেন দুর্ভাবনায়।
একটা গরু ছিল তাও বিসর্জন দিয়েছেন মেয়ের চিকিত্সায়। সপ্তাহে এনজিওর ৫ কিস্তি হাজার টাকা। খেয়ে না খেয়ে কিস্তির এ টাকা পরিশোধ করছে একা। ঋণের বোঝা কমাতে দুই দিন পর পর শেফালী ভাটায় যান। প্রতিবন্ধী মেয়ে বর্ষাকে পাশে রেখে ইট ভেঙ্গে খোয়া তৈরি করেন। বোবা মেয়ে মায়ের পাশে সারাক্ষণ বসে থাকে মাটিতে। খিদে পেলে মাটি খায়। মাকে ইশারা দেয়। প্রতিবন্ধী মেয়ের এই ইশারা মা বুঝলেও কিছু করতে পারে না।
অল্প বয়সে বিয়ে হয়েছে শেফালীর। স্বামী গৌর শিং পেশায় দিনমজুর। তার দুই সংসার। সতীনের সংসারে শেফালীর আলাদা খাওয়া। একখণ্ড জায়গাও নেই, রেলওয়ের কুলিবস্তীর ঘরে দু’মেয়েকে নিয়ে তার বসবাস। সংগ্রামী এই নারী আজ বড় অসহায়। মেয়ের চিকিত্সা বা একটি ভাতাকার্ড খুবই দরকার তার।
