কাউখালীর সন্ধ্যা নদীর তীরে আবহাওয়া অধিদপ্তরের অধীনস্থ নৌ চলাচল পূর্বাভাস কেন্দ্রটির অবকাঠামো নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হওয়ার পরও আজও সেটি চালু করা হয়নি। জনবল ও যন্ত্রপাতির অভাবে কেন্দ্রটি চালু করতে পারেননি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। নৌ দুর্ঘটনা কমিয়ে আনার লক্ষ্যে নির্মাণাধীন নৌ চলাচল পূর্বাভাস কেন্দ্রের মূল ভবনটিতে এখন কেবল কয়েকজন আনসার সদস্যের বসবাস। সেখানে স্থাপন করা হয়নি কোন যন্ত্রপাতি, কোন ব্যবস্থাপনার আওতায়ও আসেনি কেন্দ্রটি। অথচ পরিকল্পনা অনুযায়ী অত্যাধুনিক এই আবহাওয়া অফিসটি চালু করা গেলে এখান থেকেই ঘূর্ণিঝড়ের আগাম নৌ সতর্ক বার্তা দেয়া সম্ভব। এখন নৌ সতর্ক বার্তা দেয়া হয় ঢাকার আবহাওয়া অফিস থেকে। কাউখালীর আবহাওয়া অফিস চালু হলে আর ঢাকার উপর নির্ভর করতে হবে না দুর্যোগপ্রবণ দক্ষিণাঞ্চলকে।
জানা গেছে, নৌ-দুর্ঘটনা প্রশমনে অভ্যন্তরীণ নৌ-চলাচল পূর্বাভাস কেন্দ্র স্থাপন শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় উপকূলীয় অঞ্চলে ২০০৬ সালের জানুয়ারি মাসে উপকূলীয় মানুষের জন্য দুর্যোগের আগাম সতর্ক বার্তা পৌঁছে দেয়ার উদ্দেশ্যে ১৩টি স্থানে নৌ পূর্বাভাস কেন্দ্র নির্মাণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে আবহাওয়া অধিদপ্তর। ২০০৬-২০০৭ অর্থবছরে পিরোজপুরের কাউখালী, মুন্সিগঞ্জের মাওয়া, নরসিংদী সদর, সিরাজগঞ্জের বাঘাবাড়ী, মানিকগঞ্জের আরিচা, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ, লক্ষ্মীপুরের রামগতি, বরিশালের হিজলা ও সদর, ভোলার মনপুরা, চাঁদপুর সদর ও পটুয়াখালী সদরে অবকাঠামো (স্থাপনা) নির্মাণ সম্পন্ন করা হয়। দেশে ক্রমবর্ধমান নৌ-দুর্ঘটনা রোধে ২০০৬-২০০৭ অর্থবছরে এসব কেন্দ্রের ভূমি উন্নয়ন, অফিস ভবন ও সীমানা প্রাচীর নির্মাণ, পাম্পসহ পানি সরবরাহ লাইন স্থাপন ও বৈদ্যুতিক সংযোগের কাজ শুরু করে। সে অনুযায়ী পিরোজপুরের কাউখালীতে প্রায় ৭০ লাখ টাকা ব্যয়ে গণপূর্ত বিভাগ ২০১০ সালের জুন মাসে নৌ চলাচল পূর্বাভাস কেন্দ্রের মূল ভবনের অবকাঠামো নির্মাণের কাজ শেষ করে। কিন্তু ভবনটি আজও আবহাওয়া অধিদপ্তরের কাছে হস্তান্তর করেননি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
এ ব্যাপারে আবহাওয়া অধিদপ্তরের অফিস নির্মাণ প্রকল্প পরিচালক (প্রজেক্ট ডিরেক্টর) মো. মজিদুল ইসলাম বলেন, কাউখালী আবহাওয়া অফিসের ভবন নির্মাণ শেষ হয়েছে। তবে গণপূর্ত বিভাগের কাছ থেকে এখনও সেটি বুঝে নেয়া হয়নি। তিনি জানান, দ্রুত জনবল নিয়োগ দেয়া হবে। এছাড়া যন্ত্রপাতিও খুব তাড়াতাড়ি এসে যাবে বলে আশা করছি। এই অফিসে একজন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, ২ জন সিনিয়র অবজারভারসহ ৯ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী থাকবেন।
