মাদক আসছে কক্সবাজারের উখিয়া সীমান্তপথে

আপডেট : ২৬ জুলাই ২০১৩, ২১:৪৭
ঈদকে সামনে রেখে উখিয়া সীমান্তের ডেইলপাড়া, আমতলী, করইবনিয়া, ঘুমধুম, রহমতের বিল, ধামনখালীসহ ৬টি পয়েন্ট দিয়ে আসছে মাদকের চালান। বিনিময়ে পাচার হচ্ছে ভোজ্যতেল, চিনি, সেমাইসহ যাবতীয় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যসামগ্রী। একটি সংঘবদ্ধ চক্র চোরাচালান নিয়ন্ত্রণসহ অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গা পাচারকারীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়ে সহায়তা করায় চোরাচালানীরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। গত বৃহস্পতিবার উপজেলা পরিষদের মাসিক আইন-শৃংখলা ও চোরাচালান প্রতিরোধ কমিটির সভায় তেল পাচারের বিষয়ে বিজিবি ও ইউএনও’র পরস্পরবিরোধী তথ্য উপস্থাপনে মিয়ানমারে তেল পাচারের সত্যতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। উপজেলা সদর থেকে মিয়ানমারে ভোজ্যতেল পাচারের ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকলেও ঈদকে সামনে রেখে ভোজ্যতেলের পাশাপাশি সেমাই, চিনি থেকে শুরু করে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত পাচার হচ্ছে নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্য। সীমান্তরক্ষী বিজিবি সদস্যরা দাবি করছেন, সীমান্ত এলাকায় বসবাসরত গ্রামবাসী তাদের পরিবারের চাহিদা ও খুচরা বিক্রির অজুহাত তোলার কারণে পাচারজাত পণ্যসামগ্রী উদ্ধার করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে রমজানের শুরু থেকে এ পর্যন্ত প্রায় অর্ধ কোটি টাকা মূল্যের বিপুল পরিমাণ ভোজ্যতেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যসামগ্রী উদ্ধার করার কথা স্বীকার করেছে। এ সময় বিজিবি সদস্যরা মিয়ানমার থেকে চোরাপথে আসা কোটি টাকা মূল্যের ইয়াবা ও বোতলজাত মাদকদ্রব্য উদ্ধারসহ দুই জন পাচারকারীকে হাতে-নাতে আটক করেছে। সীমান্তের আমতলী পয়েন্ট ঘুরে গ্রামবাসীর সাথে কথা বলে জানা গেছে, স্থানীয় মৃত কালামিয়ার পুত্র আশরাফ আলী ও তার দুই ছেলেসহ ৫ জনের একটি সংঘবদ্ধ চক্র বিজিবি’র সোর্স পরিচয় দিয়ে চাঁদাবাজিসহ চোরাই পণ্য আনা-নেয়ার ক্ষেত্রে চোরাচালানীদের সুযোগ সৃষ্টি করে দিচ্ছে। ঐ চক্র মিয়ানমার থেকে আসা গরুপ্রতি ৫শ’ টাকা, ছাগল তিনশ’ টাকা ও মাদকের প্রতি চালান থেকে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। তাছাড়া অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গাদের তাদের বসতবাড়িতে আশ্রয় দিয়ে সুযোগ বুঝে চোরাই পণ্যসহ নিরাপদে তাদের গন্তব্য স্থানে পৌঁছে দেয়ার বিপরীতে জনপ্রতি হাজার টাকা করে আদায় করে নিচ্ছে। আমতলী বিজিবি’র সুবেদার সোহরাব হোসেন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, সংঘবদ্ধ ঐ দালাল চক্রের সদস্যরা তাদের নাম ভাঙ্গিয়ে টাকা আদায় করার কথা শুনেছেন। তাদের আটক করার জন্য বিজিবি তত্পর রয়েছে। বৃহস্পতিবার উপজেলা পরিষদের মাসিক আইন-শৃংখলা ও চোরাচালান প্রতিরোধ কমিটির সভায় উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এড. একেএম শাহজালাল চৌধুরী সীমান্তে চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবি সদস্যদের আরো সক্রিয় ও আন্তরিক হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তাদের যেকোন মূল্যে শায়েস্তা করার জন্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থার হস্তক্ষেপ কামনা করেন। বিজিবি’র সুবেদার নুরুল ইসলাম জানান, স্থানীয় প্রশাসন ও এলাকার জনসাধারণ আন্তরিক না হলে চোরাচালান বন্ধ করা সম্ভব নয়। তিনি দুঃখ করে বলেন, খুচরা বিক্রির অজুহাত দেখিয়ে উখিয়ার ৭/৮ জন ব্যবসায়ী প্রতি সপ্তাহে লক্ষাধিক লিটার ভোজ্যতেল সরবরাহ আনছে। পরে চোরাচালানীদের মাধ্যমে অধিকাংশ তেল মিয়ানমারে পাচার হয়ে যাচ্ছে। ইউএনও বলেন, উপজেলা পরিষদ থেকে স্থানীয় জনসাধারণের চাহিদা অনুপাতে ৫৫ হাজার লিটার তেল সরবরাহ আনার জন্য ৭/৮ জন ব্যবসায়ীকে অনুমতি দেয়া হচ্ছে। তেল বরাদ্দের বিষয় নিয়ে বিজিবি ও ইউএনও’র পরস্পরবিরোধী তথ্য উপস্থাপন নিয়ে সীমান্তে তেল পাচারের সত্যতা আরো স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।