বাঘার ঐতিহ্যবাহী শাহী মসজিদে চলতি রমজানে তারাবিহ নামাজ পড়ানো নিয়ে জটিলতা তীব্র আকার ধারণ করেছে। গত ৮ থেকে ১৫ রমজান পর্যন্ত এক সপ্তাহে ১২ জন ইমাম পরিবর্তন করতে হয়েছে। তারপরও সমাধান আসেনি। ফলে ২২ কাতারের তারাবিহ নামাজের জামাত মাত্র এক কাতারে ঠেকেছে।
স্থানীয়দের দাবি, বাঘা শাহী মসজিদে বিপুল অর্থ আয় হলেও ব্যয়ের হিসাব কেউ রাখেন না। তারা ১৯৮৪ সালের পুরাতন কমিটি ভেঙ্গে নতুন কমিটি গঠন এবং বহুল প্রচারিত পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের মাধ্যমে যোগ্য ইমাম নিয়োগের দাবি জানিয়ে বলেন, ঐতিহ্যবাহী শাহী মসজিদের চলমান অচলাবস্থার জন্য বর্তমান পরিচালনা কমিটিই দায়ি।
প্রসঙ্গত, বাংলাদেশে প্রচলিত পঞ্চাশ টাকার কাগজী নোটে এবং কেন্দ্রীয় জাদুঘরে ঐতিহ্যবাহী বিবেচনায় বাঘা শাহী মসজিদের ছবি রয়েছে। সাড়ে ৫শ’ বছর পুরাতন বাঘা শাহী মসজিদ পরিচালনা কমিটিতে ১৯৮৪ সাল থেকে পদাধিকার বলে বাঘা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সভাপতি এবং স্থানীয় সমাজসেবক আব্দুল হান্নান সরকার সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। এ মসজিদে দীর্ঘদিনের ইমাম, স্থানীয় জামায়াত নেতা মাওলানা জিন্নাত আলীর পরিবর্তে তিন বছর আগে পরিচালনা কমিটি জনৈক শফিকুল ইসলামকে ইমাম নিয়োগ করে।
এছাড়া প্রতি রমজান মাসে তারাবিহ নামাজের জন্য আরো দু’জন করে হাফেজ ইমাম হিসাবে নিয়োগ করা হয়। সে মোতাবেক এবারও নিয়োগ পান হাফেজ জয়নাল আবেদীন ও হাফেজ হাবিবুর রহমান। স্থানীয় মুসল্লি আব্দুর রহমান এশা ও শহিদুল ইসলামসহ অনেকে জানান, গত ৭ রমজান পর্যন্ত দুই হাফেজ শাহী মসজিদে সুষ্ঠুভাবে তারাবিহ্ নামাজ পড়িয়েছেন। কিন্তু ৮ রমজান ইমাম শফিকুল ইসলাম তাদের বাদ দিয়ে নিজে ইমামতি করতে যান এবং ওই দিন পরপর দুইবার সুরা পাঠে ভুল করেন। এনিয়ে স্থানীয় মুসল্লি এবং হাফেজদ্বয় প্রতিবাদ করলে গোলযোগের সৃষ্টি হয়। ফলে পরদিন থেকে ইমাম শফিকুল ইসলাম চাকরি ছেড়ে দেন। একইসাথে অবশিষ্ট তারাবিহ নামাজ না পড়িয়ে মসজিদ ছেড়ে চলে যান হাফেজ জয়নাল আবেদীন ও হাফেজ হাবিবুর রহমান। ফলে ১৫ রমজান পর্যন্ত সেখানে পর্যায়ক্রমে ওয়াক্তিয় এবং তারাবি্হ নামাজ পড়ান আরেকজন ইমাম এবং আটজন হাফেজ। এরমধ্যে ৭ জন হাফেজই চলে গেছেন। এখন যিনি রয়েছেন তিনি হাফেজ রাকিবউদ্দীন। তিনি গতকাল শুক্রবার পাবনা থেকে এসে যোগদান করেছেন বলে জানা গেছে।
এ ব্যাপারে মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও বাঘা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুস সোবহান স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন। তিনি বলেন, সব কিছুই ঠিকঠাক চলছিল। স্থানীয় কতিপয় জামায়াত নেতার ইন্ধনে উদ্ভূত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এ বিষয়ে তিনি শীঘ্রই কার্যকর ব্যবস্থা নেবেন বলে জানান।
