ভরা মৌসুমেও মনপুরায় ইলিশের আকাল

আপডেট : ২৬ জুলাই ২০১৩, ২২:৪৬
মত্স্য সম্পদের ‘অভয়ারণ্য’ হিসেবে খ্যাত ভোলার মনপুরার মেঘনায় ভরা মৌসুমেও দেখা মিলছে না ইলিশের। এ সময়টাতে জেলেদের জালে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ ধরা পড়ার কথা থাকলেও ঘটছে উল্টোটা। মেঘনায় মাছ না পড়ায় জেলেদের সংসারের অভাব অনটনের বোঝা ক্রমেই বাড়ছে। জেলে পাড়ায় দেখা দিয়েছে হাহাকার। মনপুরায় ৩০ সহস্রাধিক জেলের বসবাস হলেও দেড় লক্ষাধিক লোকের এই আবাসভূমিতে ৭০ শতাংশ লোক প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে মত্স্য সম্পদের উপর নির্ভরশীল। মেঘনায় মাছ ধরা পড়লে এখানকার মানুষের ভালোভাবে বেঁচে থাকতে সক্ষম হয়। মাছের আকালের সময়ে এখানকার মানুষের দুঃখের সীমা থাকে না। লাখ লাখ টাকা মেঘনায় বিনিয়োগ করে মাছ না পড়ায় আড়তদারদের অবস্থাও শোচনীয় হয়ে উঠেছে। কারণ মেঘনায় মাছ থাক কিংবা না থাক প্রতি হাটবারে জেলেদের সংসার চালানো বাবদ বিলের টাকা পরিশোধ করতে হচ্ছে। দিনে খুব বেশি হলে ২/১টা বড় ইলিশ মিলছে। খুব বেশি হলে ৮/১০টা করে জাটকা ইলিশ পাওয়া যায়। এই মাছ বিক্রি করে ৭/৮ জনের সংসার চালানো কঠিন। মোছলেউদ্দিন মাঝি, জসিম মাঝি, জাহাঙ্গীর মাঝি, ইসলাম মাঝি, কালাম মাঝির সাথে আলাপ করলে তারা বলেন, ‘ভাই মনে করছিলাম রমজান মাসে প্রচুর ইলিশ মাছ পড়বে। আমরা তো আড়তদারদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা দাদন নিয়ে নৌকা ট্রলার নদীতে নামাইছি। সামনে রোজার ঈদ, কীভাবে যে ছেলে-মেয়েদের নিয়ে ঈদ করবো বুঝতে পারি না।’ নদীতে মাছ না পড়ায় অনেক জেলেকে নৌকা বা ট্রলার থেকে ইলিশ জাল রাস্তার উপর উঠাতে দেখা গেছে। এদিকে, আড়তদার নিজামউদ্দিন হাওলাদার, হাফেজ রহিম, কামাল, মিজান বলেন, নদীতে মাছ না পড়ায় আমরাও খুব কষ্টে আছি। আমরা জেলেদের সাপ্তাহিক বিল চালাতে হিমশিম খাচ্ছি।