নিয়মিত ট্রেনে বাড়তি বগি, ১০ দিন ৭ জোড়া বিশেষ ট্রেন
নৌপথে নিয়ম ভেঙ্গে লঞ্চের ডাবল ট্রিপ
বিআরটিসির স্পেশ্যাল সার্ভিস
ঈদের আগের ৩দিন স্বাভাবিকের চেয়ে পাঁচগুন মানুষ ঢাকা ছেড়ে যায়
ঈদ মৌসুমে ঘরমুখো মানুষের বাড়তি চাপ সামলাতে বরাবরের মতো এবারও রেলপথ, সড়কপথ ও নৌপথে যাত্রী পরিবহনের জন্য বিশেষ আয়োজন করা হয়েছে। ট্রেনে অতিরিক্ত বগি সংযোজনের পাশাপাশি ঈদের আগে-পরে মোট ১০ দিন ৭ জোড়া বিশেষ ট্রেন চালানো হবে। নৌপথে রাজধানীর সঙ্গে দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন গন্তব্যে চলাচলকারী লঞ্চগুলো সারাবছরের নিয়ম ভেঙ্গে ঈদ মৌসুমে দিনে একাধিক ট্রিপে চলাচল করবে। বেসরকারি দূরপাল্লার সড়ক পরিবহনগুলো ঈদে অতিরিক্ত ট্রিপ না চালালেও রাষ্ট্রায়ত্ত বিআরটিসি ‘ঈদ স্পেশাল সার্ভিস’ নামে দূরপাল্লার রুটগুলোতে অতিরিক্ত ট্রিপের প্রস্তুতি নিয়েছে।
এতসব আয়োজন-প্রস্তুতি সত্ত্বেও ঘরমুখো মানুষের সামনে দুর্ভোগ-দুর্গতিই যেন অনিবার্য। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মূলত মহাসড়কের অব্যবস্থাপনার কারণেই প্রতি ঈদে মফস্বলমুখী মানুষকে ভোগান্তির কবলে পড়তে হয়। কেবলমাত্র মহাসড়কগুলোর ব্যবস্থাপনা উন্নয়নের মাধ্যমে এই সমস্যার অনেকখানি সমাধান খুঁজে পাওয়া সম্ভব বলে মনে করেন তারা। প্রতিবারের মতো এবারও ঈদে ঘরমুখো মানুষের যাতায়াত সুবিধার জন্য বাংলাদেশ রেলওয়ে, সড়কপথে বিআরটিসি এবং নৌপথের লঞ্চ-স্টিমারে বাড়তি যাত্রী পরিবহনের লক্ষ্যে বিশেষ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। ঈদ উপলক্ষে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ১০ দিনের জন্য ৭ জোড়া বিশেষ ট্রেন চালানোসহ ১৩৫টি অতিরিক্ত বগি সংযোজন করছে বিভিন্ন নিয়মিত ট্রেনে। এরমধ্যে ৫টি বিশেষ ট্রেনে ব্যবহার করা হবে ৫৫টি বগি। ঢাকা-দেওয়ানগঞ্জবাজার রুটে ১৮, ঢাকা-খুলনা রুটে ১০ এবং ঢাকা-পার্বতীপুরের জন্য ৯, চট্টগ্রাম-নোয়াখালীর জন্য ৭ ও চট্টগ্রাম-চাঁদপুরের জন্য ১১টি বগি বরাদ্দ রাখা হয়েছে। রেলযোগাযোগ নির্বিঘ্ন রাখতে ইতিমধ্যেই ১৪টি নতুন লোকোমটিভ বা ইঞ্জিন আমদানি করা হয়েছে। ঘরমুখো মানুষের সুবিধার্থে যথারীতি অগ্রিম টিকিটও দেয়া হচ্ছে। কিন্তু এসব আয়োজন ঈদ মৌসুমের চাহিদার তুলনায় খুবই অপ্রতুল।
ঈদে কত মানুষ ঘরে ফেরে?
বাংলাদেশ পাবলিক ট্রান্সপোর্ট ইউজার্স ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক আসলাম হোসেন নিজেদের এক গবেষণা প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে ইত্তেফাককে জানান, সাম্প্রতিক বছরগুলোর হিসাব অনুযায়ী প্রতি ঈদে গড়ে প্রায় ৫০ লাখ মানুষ ঢাকা শহর ছেড়ে যান। ঈদের ১০ দিন আগে থেকে যাওয়া শুরু করার পর ঈদের দিন সকাল বেলায়ও অনেক মানুষ রাজধানী থেকে গ্রামের উদ্দেশে রওয়ানা দেন। বিশেষত ঈদের আগের তিনদিন ঢাকা থেকে প্রতিদিন গড়ে ১২ লাখ মানুষ বিভিন্ন ধরনের যানবাহনে ঢাকা ত্যাগ করেন, যা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অন্তত পাঁচগুণ। একইভাবে চট্টগ্রাম ও খুলনাসহ অপরাপর মহানগরীগুলো থেকেও কয়েক লাখ মানুষ ঈদ করতে গ্রামে যায়। আর সে কারণেই ট্রেন এবং লঞ্চে যেমন যাত্রীদের উপচেপড়া ভিড় থাকে, তেমনি মহাসড়কেও সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট। তার মতে মহাসড়কে যানজটের অন্যতম কারণ অব্যবস্থাপনা। এছাড়া রাস্তার বেহাল দশা এবং হঠাত্ গাড়ি বিকল হয়ে যাওয়ার কারণেও যানজট সৃষ্টি হয়।
রেলওয়ের সক্ষমতা সংকট
রেলওয়ের মহাপরিচালক প্রকৌশলী মো. আবু তাহের ‘ইত্তেফাক’কে বলেন, ঈদ মৌসুমে ঘরমুখো মানুষের বাড়তি চাপ থাকবে এটাই স্বাভাবিক। সাশ্রয়ী ও নির্বিঘ্ন রাষ্ট্রীয় গণপরিবহন সংস্থা হিসাবে রেলওয়ের কাছে মানুষের প্রত্যাশা অনেক বেশি। সে অনুযায়ী আমরা বাড়তি ব্যবস্থাও নিয়ে থাকি। কিন্তু বাস্তবতা হলো, ঈদ মৌসুমের চাহিদার বিপরীতে রেলওয়ের সক্ষমতা অপ্রতুল। তাই আমরা চেষ্টা করছি রেলওয়ের ক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবস্থা সুনিশ্চিত করতে। তিনি বলেন, ঈদ মৌসুমে নিয়মিত ও বিশেষ ট্রেন সার্ভিস মিলিয়ে ঢাকা থেকে প্রতিদিন গড়ে ৪৬ হাজার যাত্রী নির্দিষ্ট আসনে বসে ভ্রমণ করতে পারবেন। এর বাইরে ঈদের আগে-পরে কয়েকদিন চাহিদা অনুযায়ী অনেক সময় ১০০ শতাংশ পর্যন্ত দাঁড়ানো যাত্রী বহন করা হয়। সেই হিসাবে রেলওয়ের ব্যবস্থাপনায় প্রতিদিন গড়ে ৯০ হাজারেরও বেশি মানুষ ঢাকা ছাড়তে পারবেন।
অন্যদিকে বন্দরনগরী চট্টগ্রাম থেকে প্রতিদিন ১২ হাজার ২৩৪ জন যাত্রী নিয়মিত ও বিশেষ ট্রেনের নির্দিষ্ট আসনে ভ্রমণ করার সুযোগ পাবেন। এর বাইরে দাঁড়ানো যাত্রী বহন করা হবে চাহিদা অনুযায়ী। একইভাবে খুলনা, রাজশাহী ও সিলেটসহ অন্যান্য মহানগরী এবং বড় শহরগুলোতে আরও বহুসংখ্যক যাত্রী ঈদ মৌসুমে ভ্রমণ করবেন। রেলওয়ের মহাপরিচালক জানান, ঈদ সামনে রেখেই সৈয়দপুর ও পাহাড়তলী কারখানায় ১৩৫টি বগি মেরামতের মাধ্যমে ব্যবহার উপযোগী করা হয়েছে। এগুলোকে ঈদ মৌসুমে যুক্ত হবে বিভিন্ন ট্রেনে। এছাড়া ১৪টি লোকোমটিভও যুক্ত হচ্ছে ঈদের আগেই। যেসব অঞ্চলে যাতায়াতের জন্য ট্রেন-সুবিধা বিদ্যমান সে সব অঞ্চলের মানুষেরা প্রথম পছন্দ হিসাবে ট্রেনেই ভ্রমণ করতে চান। এ জন্য তারা নানাভাবে ট্রেনের টিকিট যোগাড় করার চেষ্টা করেন। শেষ পর্যন্ত যারা ট্রেনের টিকিট সংগ্রহ করতে পারেন না তারা সড়কপথে কিংবা অন্যভাবে যাতায়াত করেন।
বিশেষ ট্রিপ নেই বেসরকারি
সড়ক পরিবহনে
এদিকে ঈদ উপলক্ষে দূরপাল্লার বেসরকারি পরিবহনগুলো অগ্রিম টিকিট বিক্রির ব্যবস্থা করলেও কোন বিশেষ সার্ভিস বা অতিরিক্ত ট্রিপের আয়োজন নেই। এ ব্যাপারে বাংলাদেশ বাস ট্রাক ওনার্স এসোসিয়েশনের এক নেতা বলেন, অতিরিক্ত ট্রিপ চালানোর ব্যাপারে আমাদের কোনো আপত্তি নেই। কিন্তু ঈদের আগের কয়েকদিন মহাসড়কের যা দশা থাকে, সে কারণে ইচ্ছে থাকলেও অতিরিক্ত ট্রিপ দেয়া সম্ভব হয় না। তিনি বলেন, ঈদ মৌসুমে যাত্রীদের বাড়তি চাহিদার বিপরীতে আমরা হয়তো বিশেষ ট্রিপ চালানোর ঘোষণা দিতে পারি এবং অগ্রিম টিকিটও বিক্রি করা যেতে পারে। কিন্তু কার্যক্ষেত্রে দেখা যাবে যে, মহাসড়কের যানজটের কারণে বাইরের গন্তব্য থেকে নির্ধারিত সময়ে গাড়ি ঢাকায় এসে পৌঁছাতেই পারেনি। সেক্ষেত্রে উল্টো আমাদের বদনাম হবে। সে কারণে জেনে-বুঝে বদনামের ভাগিদার হওয়ার কোন কারণ নেই। তিনি বলেন, মহাসড়কের অব্যবস্থাপনা ও যানজটের কারণে প্রতি ঈদ মৌসুমে দূরপাল্লার নিয়মিত ট্রিপগুলোই ঠিকমতো চালানো যায় না। অগ্রিম টিকিটধারী যাত্রীরা কাউন্টারে এসে ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করতে থাকেন। এরপর রাস্তায় গিয়েও যানজটে পড়ে সীমাহীন ভোগান্তির কবলে নিপতিত হন যাত্রীরা। এ জন্য পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের খামোখা গালাগালিও শুনতে হয়। তার মতে দূরপাল্লার সড়ক পরিবহেন অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহনের ব্যাপারে সরকারের সদিচ্ছা থাকলে আগে মহাসড়কের ব্যবস্থাপনার উন্নতি করতে হবে। কোথাও যাতে এক মুহূর্তের জন্যও যানজটে না পড়তে হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে। কোথাও কোন গাড়ি বিকল হয়ে গেলে তাত্ক্ষণিক সরিয়ে নেয়ার জন্য প্রয়োজনীয় রেকারের ব্যবস্থা রাখতে হবে।
সড়ক পরিবহন খাতের একজন শীর্ষস্থানীয় উদ্যোক্তা ‘ইত্তেফাক’কে বলেন, কার্যক্ষেত্রে ঈদ মৌসুমে সড়ক পরিবহন মালিকদের তেমন কোন লাভ হয় না। অথচ আমাদেরকে বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ শুনতে হয়। সে কারণেই ঈদ মৌসুমকে ঘিরে আমরা তেমন উত্সাহ দেখাতে চাই না। তিনি বলেন, দূরপাল্লার অধিকাংশ পরিবহন বছরের বাকি সময় সরকার নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে কিছুটা প্রতিযোগিতামূলক হ্রাসকৃত ভাড়ায় যাত্রী পরিবহন করে থাকে। কিন্তু ঈদ মৌসুমে যেহেতু রাজধানী থেকে মফস্বল অভিমুখী যাত্রীর চাপ অনেক বেশি থাকে, সে কারণে পরিবহনগুলো সরকার নির্ধারিত ভাড়ার পুরোটাই নিয়ে থাকে। তখনই বলা হয় যে, পরিবহনে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। তাছাড়া ঈদের সময় ঢাকামুখী ট্রিপগুলো থাকে প্রায় যাত্রীশূন্য। এ কারণেই পরিবহন কোম্পানিগুলোকে বেশ চাপের মুখে পড়তে হয়। এমন পরিস্থিতিতে ঈদ মৌসুমকে ঘিরে দূরপাল্লার বাসের বিশেষ ট্রিপ চালানোর চিন্তা করারও সুযোগ নেই। কেবলমাত্র সরকার সদিচ্ছা নিয়ে এগিয়ে আসলেই আলাপ-আলোচনার ভিত্তিতে ঈদ মৌসুমে অতিরিক্ত যাত্রী বহনের জন্য একটা উপায় খুঁজে বের করা সম্ভব। কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে সে রকম উদ্যোগ কখনোই গ্রহণ করা হয়নি।
ঈদ উপলক্ষে প্রতিবছরের মতো এবারও ‘ঈদ স্পেশাল সার্ভিস’ নামে বিশেষ ট্রিপ চালুর ঘোষণা দিয়েছে রাষ্ট্রায়াত্ত বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন সংস্থা (বিআরটিসি)। তবে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, বাস্তবে নিয়মিত ট্রিপের বাইরে ঈদের সময় অতিরিক্ত ট্রিপ চালানোর সামর্থ্য নেই সংস্থাটির। তারপরও এক ধরনের আনুষ্ঠানিকতার খাতিরে প্রতিবছর এমন ঘোষণা দেয়া হয়। মূলত নিয়মিত ট্রিপগুলোকেই একটু এদিক-সেদিক করে কথিত ‘ ঈদ স্পেশাল সার্ভিস ’ পরিচালনা করে বিআরটিসি।
হাইওয়ে পুলিশের ভিন্নমত
ঈদ মৌসুমে সড়কপথে যাত্রী ভোগান্তির জন্য সড়ক পরিবহন খাতের বেসরকারি উদ্যোক্তারা মহাসড়কের অব্যবস্থাপনাকে দায়ী করলেও সেই অভিযোগ মানতে নারাজ হাইওয়ে পুলিশ কর্তৃপক্ষ। ইত্তেফাক প্রতিনিধির সঙ্গে আলাপকালে হাইওয়ে পুলিশের উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মো: আসাদুজ্জামান মিয়া বলেন, কোনো এক সময় হয়তো অভিযোগটির সত্যতা ছিল। কিন্তু এখনকার চিত্র একেবারেই ভিন্ন। মহাসড়কগুলোতে এবারের ঈদে বড় রকমের যানজট যাতে না হয়, সেজন্য ইতিমধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, মহাসড়কের যানজটের প্রধান কারণ দু’টি। প্রথমত, রাস্তার নাজুক অবস্থা, দ্বিতীয়ত, রাস্তার অবৈধ দখলদারিত্ব। এবারের ঈদ সামনে রেখে আমরা ইতিমধ্যে যোগাযোগমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেছি। বৈঠকে আলোচনার ভিত্তিতে যোগাযোগমন্ত্রী নিজে উদ্যোগী হয়ে বিশেষ বরাদ্দ এনে ইতিমধ্যেই সবগুলো মহাসড়কের জরুরি মেরামত কাজ সম্পন্ন করেছেন। অন্যদিকে মহাসড়কের ওপর বাজার বসানো কিংবা অবৈধ গাড়ি পার্কিংয়ের মাধ্যমে রাস্তার অবৈধ দখলদারি রোধে সংশ্লিষ্ট প্রতিটি এলাকার পরিবহন মালিক-শ্রমিক প্রতিনিধি ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয়ে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। একইভাবে টোলপ্লাজা ও ওয়েব্রিজগুলোকে ঘিরেও যাতে কোনো যানজট সৃষ্টি হতে না পারে সেজন্য যথাযথ নজরদারির ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ঈদের সময় স্বাভাবিকভাবেই মহাসড়কে যানবাহনের অতিরিক্ত চাপ থাকে। তারমধ্যে কোথাও হঠাত্ কোনো গাড়ি বিকল হয়ে গেলে সেখানে দ্রুত রেকার পৌঁছানো সম্ভব হয় না আর ততক্ষণে দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়। সে কারণে পরিবহন মালিকদের জোরালোভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে, তারা ঈদ মৌসুমে কোন আনফিট গাড়ি রাস্তায় বের না করেন।
প্রসঙ্গক্রমে এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, হাইওয়ে পুলিশকে প্রায় ৭ হাজার কিলোমিটার মহাসড়ক দেখাশোনা করতে হয়। কিন্তু আমাদের জনবল রয়েছে মাত্র ২ হাজার ২’শ। এ কারণে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে হাইওয়ে পুলিশকে জেলা পুলিশের সাহায্য নিতে হয়। ঈদ মৌসুমের বাড়তি চাপ সামলানোর ক্ষেত্রে জেলা পুলিশের সহায়তা অনেক বেশি প্রয়োজন হয়। তবে ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট প্রতিটি জেলার পুলিশ সুপারদের সঙ্গে সমন্বয় সাধন করা হয়েছে। ঈদের আগের কয়েকদিন কনস্টেবল থেকে এসপি পর্যন্ত সকল পর্যায়ের পুলিশ সদস্যদেরকে রাস্তায় দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এছাড়া যেকোন যানজটের কেন্দ স্থলে দ্রুত পৌঁছানোর জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক মোটরসাইকেলও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যেই
নৌপথে বিশেষ লঞ্চ
প্রতিবারের মতো এবারও ঈদের আগের চারদিন নিয়মিত ট্রিপের পাশাপাশি বাড়তি ট্রিপ পরিচালনা করবেন সদরঘাটকেন্দি ক লঞ্চ মালিকরা। সারাবছর কেবল সন্ধ্যার পর লঞ্চ ছাড়লেও ঈদ উপলক্ষে সকাল-সন্ধ্যা দুই বেলাতেই ছেড়ে যাবে লঞ্চ। ফলে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অনেক বেশিসংখ্যক যাত্রী ঈদ মৌসুমে নৌপথে ঢাকা ছাড়তে পারবেন। তবে নৌযানগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েই গেছে। ইতিমধ্যেই ‘ নিরাপদ নৌপথ ’ নামের একটি সংগঠন বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) কাছে অভিযোগ করেছে যে, ঈদ উপলক্ষে অনেকগুলো ত্রুটিপূর্ণ নৌযান নতুনভাবে রং করে যাত্রী পরিবহনের কাজে নিয়োজিত হওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছে। এসব লঞ্চের ফিটেনস পরীক্ষা ছাড়া যাত্রী পরিবহনের সুযোগ না দেয়ার জন্য কর্তৃপক্ষের প্রতি আহবান জানিয়েছে সংগঠনটি।
লঞ্চ মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌচলাচল (যাত্রী পরিবহন) সংস্থা বরাবরের মতোই এবারও লঞ্চ-কেবিনের অগ্রিম টিকিট বিক্রির ঘোষণা দিয়েছে। যদিও খোদ সংগঠনের একাধিক নেতা নাম প্রকাশনা করার শর্তে ‘ইত্তেফাক’ প্রতিনিধিকে বলেছেন যে, বাস্তবে কেবিনের কোন টিকিটই স্বাভাবিকভাবে অগ্রিম পাওয়া যাবে না। কারণ, ঈদ মৌসুমে কেবিনের টিকিট বিক্রি হয় একেবারেই ভিন্ন পন্থায়। লঞ্চ মালিক কিংবা বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষের বড় কর্মকর্তাদের সঙ্গে ব্যক্তিগত যোগাযোগের সূত্রেই কেবল কেবিনের টিকিট পাওয়া সম্ভব। কারণ, ঈদ মৌসুমে চাহিদার তুলনায় লঞ্চসমূহের কেবিন সংখ্যা নিতান্তই সামান্য। এগুলোর টিকিট কাউন্টারে কিংবা উন্মুক্ত পদ্ধতিতে আগে আসলে আগে পাবেন ভিত্তিতে বিক্রি করতে গেলে খুনোখুনি হয়ে যাবে। তাই অধিকাংশ লঞ্চ কর্তৃপক্ষ কেবিনের টিকিট নিজেদের মতো করেই বিক্রি করেন। অন্যদিকে লঞ্চ-ডেকের টিকিট অগ্রিম বিক্রির কোনো নিয়ম নেই। ডেকের টিকিট যথারীতি ভ্রমণের দিন যেকোন যাত্রী লঞ্চে উঠার সময় সংগ্রহ করতে পারবেন।
