মোবারক মাহে রমজান

আপডেট : ২৬ জুলাই ২০১৩, ২২:৫৫
আজ ১৭ রমজান। ঐতিহাসিক বদর দিবস। ৬২৪ খ্রিস্টাব্দের ১১/১৭ মার্চ শুক্রবার ইসলামের ইতিহাসের প্রথম যুদ্ধ সংঘটিত হয়। বদর প্রান্তরে সংঘটিত এই সম্মুখ সমর ইতিহাসে “বদরের যুদ্ধ” নামে পরিচিত। এ বছর থেকেই একমাস রোজা রাখবার বিধান ফরজ হয়। এর মধ্যেই মক্কার অবিশ্বাসীরা মুহাম্মদ (স.)-এর ওপর বদরের যুদ্ধ চাপিয়ে দেয়। তখন রোজা অবস্থায় রসূল (স.) তাঁর ৩১৩ জন সাহাবী নিয়ে বদরের প্রান্তরে হাজির হন। অন্য দিকে অবিশ্বাসীদের সরদার আবু জাহেল এক হাজার যোদ্ধা নিয়ে সেখানে উপস্থিত হয়। ঐ রাতেই আল্লাহ পাক রহমতের বৃষ্টি বর্ষণ করেন। বৃষ্টি কাফেরদের ওপর মুষলধারায় বর্ষিত হয়। যার কারণে তাদের অগ্রগমনে বাধার সৃষ্টি হয়। পক্ষান্তরে মুসলমানদের ওপর বর্ষিত হয় হালকা বৃষ্ট্লি আল্লাহর রহমত স্বরূপ। ফলে মুসলমানগণ পাক-পবিত্র হওয়ার সুযোগ পেলেন, তাদের পদতলের বালুকা শক্ত হলো এবং পা রাখার মত অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি হলো। তাদের মনও মজবুত হলো। রসুল (স.) তাঁর সাহাবীদের নিয়ে অবিশ্বাসীদের আগেই বদরের তালাব বা জলাশয়ের নিকট পৌঁছে গেলেন এবং জলাশয়ের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিলেন (আর রাহিকুল মাখতুম, সিরাতে ইবনে হিশাম)। মদীনা থেকে ষাট মাইল পূর্ব-দক্ষিণে অবস্থিত একটি বাণিজ্য কেন্দ্রের নাম ছিলো বদর। তখনকার দিনে এখানে পানির প্রাচুর্য থাকায় স্থানটির গুরুত্ব ছিল অত্যাধিক। এখানের এই যুদ্ধটি ছিল মূলতঃ ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিজয়। এ কারণে কুরআনের ভাষায় একে “ইয়াওমুল ফোরকান” বা পার্থক্য নির্ণয়কারী দিন বলা হয়েছে। পাশ্চাত্যের ইতিহাসবিদগণও এর গুরুত্ব স্বীকার করেছেন। প্রফেসর পি.কে হিট্টি ‘‘আরব জাতির ইতিহাস” গ্রন্থে বলেন্ল এটি ছিলো ইসলামের সর্ব প্রথম প্রকাশ্য বিজয়। যুদ্ধে পরাজয়ের পর মক্কার অংশিবাদীরা ছত্রভঙ্গ এবং বিপর্যস্ত অবস্থায় ভীত-বিহ্বল চিত্তে মক্কার দিকে পালাতে শুরু করলো। লজ্জায় ও অপমানে তারা এমন দিশেহারা ও অপ্রস্তুত হয়ে পড়লো যে, কিভাবে মক্কায় প্রবেশ করবে তা বুঝতে পারছিলো না। সর্বপ্রথম যে লোকটি মক্কার পরাজয়ের খবর পৌঁছায় তার নাম ছিলো হায়ছুমান ইবনে আব্দুল্লাহ খোবাই। এদিকে মুসলমানদের নিরংকুশ বিজয়ের পর রসূল (স.) মদীনার লোকদের কাছে এই সুখবর জানানোর জন্য আব্দুল্লাহ ইবনে রাওয়াহা, জায়েদ বিন হারেছাকে (রা.) দূত করে পাঠালেন। মদীনার মুসলমানগণ বিজয়ের খবর শুনে আনন্দে উদ্বেলিত হয়ে পড়লেন। আল্লাহু আকবার ধ্বনিতে মদীনার আকাশ-বাতাস মুখরিত হয়ে উঠলো। সুতরাং আজকের দিবসে আমরা এই শিক্ষা গ্রহণ করি যে, অসত্য ও অন্যায়ের কাছে মাথা নত নয় বরং সত্য-ন্যায়ের পথে শির উঁচু করে চলতে হবে আজীবন। দলতে হবে পাপ পংকিলতার সকল উত্সকে। আল্লাহ আমাদের সকলকে সেই তাওফিক দান করুন, আমীন। ই-মেইল: [email protected]