স্বল্প আয়ের মানুষের ভোগান্তি যেন পিছু ছাড়ছে না। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কোনটির দাম কমতে না কমতেই বাড়ছে আরেকটির। চিনি, ছোলা ও সয়াবিনের দাম কমতে না কমতেই এখন বাড়ছে গুঁড়ো দুধের দাম। এছাড়া পিঁয়াজের দাম চড়া।
গতকাল শুক্রবার রাজধানীর কাওরানবাজার, নিউমার্কেট ও মহাখালি বাজার ঘুরে বিভিন্ন নিত্যপণ্যের দামের এই চিত্রই পাওয়া যায়। ব্যবসায়ীরা গুঁড়ো দুধের দাম বাড়ার কোন যৌক্তিক কারণ না দেখিয়ে বলেছেন, আর কয়েকদিন পর থেকেই মানুষ ঈদবাজার করতে শুরু করবে। তখন গুঁড়ো দুধ, সেমাই, পোলাওয়ের চাল এসব পণ্যের চাহিদা বাড়বে। এজন্য গুঁড়ো দুধের দাম কিছুটা বেড়েছে।
গতকাল বাজারে ১কেজির ডানো প্যাকেট ৬১০ থেকে ৬১৫ টাকা, মার্কস ৫১০ টাকা, ফ্রেশ ৫১০ টাকা ও ডিপ্লোমা ৬১০ টাকা দরে বিক্রি হয়। কিন্তু এক সপ্তাহ আগেও এসব কোম্পানির দুধ কোন কোনটি কেজিতে ৫ থেকে ১০ টাকা কমে পাওয়া গেছে।
এ প্রসঙ্গে কাওরান বাজারের ‘রব এন্টারপ্রাইজের’ শরীফ বলেন, গুঁড়ো দুধের দাম একটু বাড়তি। তিনি বলেন, তার দোকানে যে ডানো দুধ ৬১০ টাকা বিক্রি করা হচ্ছে। তা আগের কেনা। কোম্পানি এখন যে ডানো সরবরাহ করছে তা ৬২০ টাকায় বিক্রি করতে হবে। তবে দুধের দামটা বাড়তি হলেও এবার রমজানে অন্যান্য নিত্যপণ্যের দাম এখন কমতির দিকে বলে তিনি জানান। গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে চিনি ও ছোলার দাম আরো কমেছে জানিয়ে তিনি বলেন, বর্তমানে বাজারে প্রতি কেজি ছোলা ৫০ থেকে ৫৫ টাকা ও চিনি ৪৩ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। যা গত সপ্তাহে যথাক্রমে ৫৫ থেকে ৬০ টাকা ও ৪৪ থেকে ৪৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে। গতকাল বাজারে অন্যান্য পণ্যের মধ্যে ১ লিটারের বোতলজাত সয়াবিন ১২৭ থেকে ১২৮ টাকা, ৫ লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তীর ৬২৫ টাকা ও রূপচাঁদা ৬৩৫ টাকা, দেশি মসুরডাল ১০২ টাকা, অন্যান্য মসুর ডাল ৭০ থেকে ৮০ টাকা, এ্যাংকর ডাল ৪০ টাকা, মুগ ১০০ থেকে ১২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
বিভিন্ন ধরনের সেমাইয়ের মধ্যে খোলা বাংলা সেমাই প্রতি কেজি ৫০ থেকে ৫৫ টাকা, লাচ্ছা ৯৫ থেকে ১০০ টাকা, প্যাকেটজাত বনফুল সেমাই ২০০ গ্রাম ৩০ টাকা ও কুলসুন ২০০ গ্রাম ৩২ টাকা, পোলাওয়ের চাল মানভেদে ৮০ থেকে ৯০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
পিঁয়াজের দাম এখনো চড়া। দেশি পিঁয়াজ ৪৮ থেকে ৫০ টাকা ও আমদানিকৃত ভারতীয় পেঁয়াজ ৪৫ টাকা কেজি দরে বিক্রিও হচ্ছে। গতকাল কাওরান বাজারে পাইকারী পিঁয়াজ ব্যবসায়ী জমির বলেন, ভারতে এবার পিঁয়াজের উত্পাদন ভালো হয়নি। আর আমাদের পিঁয়াজের চাহিদার একটি বড় অংশ ভারত থেকে আমদানি করতে হয়। ফলে ভারতে দাম বেশি হওয়ায় দেশের বাজারেও পিঁয়াজের দাম বেশি। তিনি বলেন, শ্যামবাজারে দেশি পেঁয়াজ ৩৮ থেকে ৪০ টাকা ও ভারতীয় পিঁয়াজ ৩৪ থেকে ৩৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। সেখান থেকে পিঁয়াজ কেনার পর বিভিন্ন খরচ বাদে খুচরা ব্যবসায়ী সামান্য লাভে পিঁয়াজ বিক্রি করছেন।
সবজির দাম কমতির দিকে। দাম কমেছে কাঁচা মরিচের। গতকাল বাজারভেদে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ ৯০ থেকে ১০০ টাকা , বরবটি ৩০ থেকে ৩৫ টাকা, পেঁপে ২০, ঢেঁড়স ২৫ থেকে ৩০, ঝিঙা ৩০ থেকে ৩৫ টাকা, করলা ৩০, পটল ২৫ থেকে ৩০, কচুরমুখি ২৫ থেকে ৩০, শসা ২০ থেকে ২৫ টাকা দরে বিক্রি হয়। কমেছে ডিমের দামও। প্রতি হালি ফার্মের লাল ও সাদা ডিম ৩০ টাকা, হাঁস ৩৬ টাকা ও দেশি মুরগির ডিম ৪০ টাকা হালি দরে বিক্রি হচ্ছে।
