আসন্ন ঈদকে সামনে রেখে নাগেশ্বরীতে বেপরোয়া চোরাকারবারিরা

আপডেট : ২৭ জুলাই ২০১৩, ২১:৪৩
ঈদ আসন্ন তাই চোরাকারবারিরা বেপরোয়া। নাগেশ্বরী সীমান্ত দিয়ে অভিনব কৌশলে প্রতিনিয়ত আসছে ভারতীয় পণ্যসামগ্রী ও বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মাদকদ্রব্য। যাচ্ছে পাঠা ছাগল, জন্মনিয়ন্ত্রক বড়ি সুখী, লুঙ্গি, গেঞ্জি ও তৈরি পোশাক। উপজেলার রামখানা, নারায়ণপুর, নুনখাওয়া ও কচাকাটা সীমান্ত দিয়ে প্রতিদিন আসে প্রায় কোটি টাকার চালানে ভারতীয় মালামাল। নারায়ণপুর ও নুন খাওয়া সীমান্তে ব্রহ্মপুত্র নদের কারণে ভারতীয়রা তাদের অংশে কাঁটাতার নির্মাণ না করায় স্রোতের উজানে ভারতীয় চোরাকারবারিরা চোরাই মালামাল কলাগাছে বেঁধে ভাসিয়ে দেয়। ভাটিতে দাঁড়িয়ে থাকা এদেশীয় চোরাকারবারিরা তা খুলে নিয়ে আসে। গরু আসে ভিন্ন উপায়ে। সুযোগ বুঝে গরুর দলকে পানিতে নামিয়ে দিলে সেগুলো সাতরিয়ে ব্রহ্মপুত্র পাড়ি দিয়ে এপাশে আসলে এদেশের চোরাকারবারিরা সেগুলো নিয়ে আসে। দুইপক্ষের চোরাকারবারিরা মোবাইল ফোনে তাদের ব্যবসায়ীক সম্পর্ক স্থাপন করে। কাঁটাতার থাকায় রামখানাসহ অন্যান্য সীমান্ত দিয়ে ভিন্ন উপায়ে মালামাল আনা-নেয়া করে তারা। ভারতীয় চোরাকারবারিরা সুবিধামত সময়ে লম্বা বাঁশের মাথায় মালামাল বেঁধে কাঁটাতারের উপর দিয়ে ফেলে দেয় কাঁটাতারের এপাশে নো-ম্যান্স ল্যান্ডে। সেখান থেকে পাচারকারী চক্রের সদস্যরা নিয়ে আসে। এখান দিয়ে আসে মদ, গাঁজা, ফেন্সিডিল, নিষিদ্ধ যৌন উত্তেজক ট্যাবলেট, বেলোয়ারী ও মশলাসামগ্রী, টর্চলাইট, কীটনাশক, নাইলনের ব্যাগ, নিম্নমানের ধানবীজ, শাড়ি, বিছানার চাদর। সেগুলো নাগেশ্বরী হয়ে চলে যায় রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায়। একইভাবে এদেশ থেকে যাচ্ছে জন্ম নিয়ন্ত্রক বড়ি সুখী, লুঙ্গি, গেঞ্জি ও তৈরি পোশাক। নো-ম্যান্স ল্যান্ডে ঘাস খাওয়াতে নিয়ে গিয়ে পাচার করছে পাঠা ছাগল। সীমান্তে অধিকাংশ পরিবার এর সংগে জড়িত থাকায় চোরাচালান ক্রমান্বয়ে অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠছে।