প্রয়োজনীয় সংস্কার ও মেরামতের অভাবে দীর্ঘদিন মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে জেলা শহরসহ দেশের অন্যান্য অঞ্চলের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষাকারী খাগড়াছড়ি-পানছড়ি সড়ক। যোগাযোগমন্ত্রী গত বছরের আগস্টে হঠাত্ এসড়কের বেহাল দশা দেখে কর্তব্যে অবহেলার অভিযোগে খাগড়াছড়ি সড়ক ও জনপথ বিভাগের তত্কালীন নির্বাহী প্রকৌশলীকে তাত্ক্ষণিকভাবে সাসপেন্ড ও ১৫ দিনের মধ্যে সড়কটি সংস্কার করার নির্দেশ দিয়ে গিয়েছিলেন সংশ্লিষ্ট সওজ কর্তৃপক্ষকে। অভিযোগ রয়েছে যোগাযোগ মন্ত্রীর নির্দেশের পর তাত্ক্ষণিকভাবে সড়ক বিভাগ খাগড়াছড়ি-পানছড়ি সড়কের সংস্কার কাজ দেখিয়ে প্রায় এক কোটি টাকা ব্যয় করলেও তার কোন সুফল পায়নি পানছড়ির জনগণ। কোনরকম জোড়াতালি দিয়ে নিন্মমানের ইট-খোয়া দিয়ে সংস্কার কাজ সম্পাদন করায় রাস্তা আরো বেশি চলাচল অনুপযোগী হয়ে উঠে। বরং দুর্ভোগের মাত্রা আরো তীব্র হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মন্ত্রীর নির্দেশের পর সড়কটি সংস্কারের জন্য ছয় কোটি টাকার প্রকল্প গ্রহণ ও সেই কাজের টেন্ডার-প্রক্রিয়া শেষ করে যাবতীয় কাগজপত্র যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। কর্তৃপক্ষের অবহেলাজনিত কারণে মূল সংস্কার কাজের কার্যাদেশের অপেক্ষায় লাল ফিতায় বন্ধি হয়ে আছে যোগাযোগ মন্ত্রীর এ নির্দেশনা। সড়ক বিভাগীয় একটি সূত্রে জানা যায়, গত মে মাসে যোগাযোগ মন্ত্রণালয় থেকে একটি চিঠিতে জানানো হয়েছে, ২০১৩-২০১৪ অর্থ বছরের শুরু থেকে অর্থাত্ জুলাই মাস থেকে তিন পার্বত্য জেলার সড়ক ও জনপথ বিভাগের অধীনস্থ জেলার সড়কগুলো পার্বত্য জেলা পরিষদের হাতে হস্তান্তর করা হবে। এ কারণেই যোগাযোগ মন্ত্রণালয় সড়কটি কাজের অনুমোদন দিচ্ছে না। সড়ক বিভাগ পার্বত্য জেলা পরিষদের হাতে হস্তান্তর করা হলে পার্বত্যাঞ্চলের সড়ক ও জনপথ বিভাগ পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সরাসরি নিয়ন্ত্রণে চলে যাবে। এভাবে রশি টানাটানির কারণে প্রকল্পটি মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন লাভে বিলম্বিত হচ্ছে। এদিকে কবে নাগাদ সড়ক বিভাগ জেলা পরিষদের নিকট হস্তান্তরিত হবে সে অপেক্ষায় থাকতে হবে এ অঞ্চলের হাজার হাজার মানুষকে।
এদিকে খাগড়াছড়ি-পানছড়ি সড়কের দীর্ঘ ২৬ কিলোমিটার রাস্তার মধ্যে ৯ কিলোমিটার রাস্তা গত বছর মেরামত করা হলেও বাকি ১৬ কিলোমিটার রাস্তা আজও চলাচলের অনুপযোগী রয়েছে। সড়কটির বেশিরভাগ অংশই ছোট-বড় খানা খন্দে ভরে উঠেছে। কয়েক দিনের বৃষ্টিতে সড়কটির বিভিন্ন অংশে ছোট-বড় গর্তে পানি জমে মিনি পুকুরে পরিণত হয়েছে। এ উপজেলার লক্ষাধিক মানুষের যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম এ সড়ক। স্থানীয়ভাবে উত্পাদিত কাঁচামাল ও বনজ দ্রব্য বিশেষ করে গাছ ও বাঁশ এ সড়কটি দিয়েই সমতলের বিভিন্ন জেলায় রফতানি হয়ে থাকে। অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে এ অঞ্চলে বসবাসরত মানুষের চিকিত্সা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ, কৃষিসহ সকল প্রকার মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হতে হচ্ছে। মৌসুমি ফলের এ সময়ে কৃষকরা পাহাড়ে উত্পাদিত কাঁঠাল, কলা, লিচু, আমসহ অন্যান্য কাঁচামাল যথা সময়ে রফতানি করতে না পেরে ন্যায্য মূল্য প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
খাগড়াছড়ি সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ইসমাইল হোসেন ইত্তেফাককে বলেন, পানছড়ি-খাগড়াছড়ি সড়ক সংস্কার ও মেরামত কাজে কোনরকম নিন্মমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার হয়নি এবং দুর্নীতিও হয়নি। তিনি আরও বলেন, এ সড়কে নতুন করে সংস্কার ও মেরামতের কাজে হাত দেয়ার যাবতীয় প্রক্রিয়া অনেক আগেই শেষ হয়েছে। কাগজপত্র অনুমোদনের জন্য মন্ত্রণালয়েও পাঠানো হয়েছে। মন্ত্রণালয় থেকে কাজের আদেশটি পেলেই কাজ শুরু হবে।
