মিরসরাইয়ে মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে খানাখন্দ, বাড়ছে দুর্ঘটনা, যানজট

আপডেট : ২৭ জুলাই ২০১৩, ২৩:১৭
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মিরসরাই উপজেলার বিভিন্ন পয়েন্টে প্রতি বছরের ন্যায় এবারও বর্ষা মৌসুমে অসংখ্য খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। আর এ কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। এদিকে মহাসড়কের চারলেন প্রকল্পের কাজে ধীরগতির কারণে প্রতিনিয়তই যানজট লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মিরসরাই উপজেলার বারইয়ারহাট, চিনকি আস্তানা, মস্তাননগর, ঠাকুরদীঘি, মিঠাছরা, সুফিয়া রোড়, মিরসরাই সদর, বাদামতলী, বড়তাকিয়া, নয়দুয়ারিয়া, হাদিফকিরহাট, নিজামপুর কলেজ, বড় দারোগারহাট এলাকায় বৃষ্টিতে অসংখ্য খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। ইট ফেলে কোনরকমে মেরামত করা হয়েছে মহাসড়ক। স্বল্প সময়ের মধ্যে ওই অংশ ফের পুরনো অবস্থা বিরাজ করে। সৃষ্টি হওয়া খানাখন্দের কারণে প্রতিনিয়তই দুর্ঘটনা ঘটছে। বিশেষ করে মালবাহী ট্রাক ও পিকআপগুলো সড়কের খানাখন্দের কারণে দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। বারইয়ারহাট পৌরবাজারে চারলেনের কাজের ধীর গতির কারণে এক পশলা বৃষ্টিতে যানজট তীব্র হয়ে উঠে। বারইয়ারহাট পৌরবাজারে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক তিনভাগে বিভক্ত। এই তিনভাগের মাঝের অংশে চারলেন প্রকল্পের কাজ চলতি বছরের এপ্রিল থেকে শুরু হয়। এছাড়াও মহাসড়কের পূর্বাংশ ও পশ্চিমাংশে অবৈধ স্থাপনাসহ সিএনজিঅটোরিক্সা, পিকআপ, বাসও মিনিবাসের অঘোষিত স্ট্যান্ড যানজটের প্রধান কারণ হয়েও দাঁড়িয়েছে। সড়কের এই অংশের পূর্বাংশ ও পশ্চিমাংশে অসংখ্য খানাখন্দ সৃষ্টি হওয়ায় যান চলাচল করে ধীর গতিতে, ফলে সৃষ্টি হয় দীর্ঘ যানজট। চলতি বছর যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের চারলেন প কল্পের এই অংশের কাজ দুইবার পরিদর্শন করেন। এসময় তিনি রমজানের আগে কাজ সম্পন্ন করারও নির্দেশ দেন। কিন্তু তার সেই নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ শেষ হয়নি। বিগত সময়েও মহাসড়কের বারইয়ারহাট অংশে মেরামতের কাজ নিম্ন হওয়ায় বারবার সড়কের এই অংশে যানচলাচল অযোগ্য হয়ে পড়তো বর্ষা ও শুষ্ক মৌসুমে। তাই চলতি বছরের এপ্রিল মাস থেকে সড়কের বারইয়ারহাট অংশে ঢালাইয়ের মাধ্যমে মেরামত কাজ চলছে। কাজের ধীর গতির কারণে ঢাকা-চট্টগ্রাম পুরাতন মহাসড়কের বারইয়ারহাট থেকে সোনাপাহাড় পর্যন্ত প্রায় ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজট এবং ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মুহুরী ব্রিজ থেকে বিএসআরএম স্টিল মিল এলাকা পর্যন্ত প্রতিনিয়তই যানজট লেগে থাকার কথা জানিয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী জাফর উদ্দিন, মমতাজ আলম জিকু ও মোশারফ হোসেন নিপুন। চট্টগ্রাম জেলা ট্রাফিক সার্জেন্ট ও বর্তমানে জোরারগঞ্জ থানায় দায়িত্বরত দেলোয়ার হোসেন বলেন, ৩০ জুন থেকে দুই শিফটে ৭ জন কর্মকর্তা যানজট নিরসনের জন্য বারইয়ারহাট অংশে সকাল ৭টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত কাজ করে যাচ্ছে। মহাসড়কে খানাখন্দ, গাড়ি পাকিং, লোড আনলোডের কারণে যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। বারইয়ারহাট অংশে সড়কের সংস্কার যে অংশে চলছে তা যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হলে যানজট নিরসন হয়ে যাবে। জোরারগঞ্জ চৌধুরীহাট হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মেহেদী হাসান বলেন, বারইয়ারহাট পৌরবাজার এলাকায় চারলেন প্রকল্পের চলমান কাজ ও বৃষ্টির কারণে গর্ত সৃষ্টি হওয়ায় যানজট সৃষ্টি হয়। আমাদের পুরো টিম যানজট নিরসনের জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। আমি চারলেন কর্তৃপক্ষকে যানজট নিরসনের লক্ষ্যে সড়কের বারইয়ারহাট অংশে সৃষ্টি হওয়া খানাখন্দ মেরামত করার জন্য জানিয়েছি। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চারলেন প্রকল্পের (মিরসরাই অংশ) রেজা কন্সট্রাকশনের প্রকল্প ব্যবস্থাপক ইঞ্জিনিয়ার শাখাওয়াত হোসেন বলেন, বারইয়ারহাট পৌরসভার চলমান কাজ শেষ পর্যায়ে। ২০ রমজানের দিন সড়কের এই অংশ যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হবে। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চারলেন প্রকল্পের অতিরিক্ত প্রকল্প পরিচালক স্বপন কুমার নাথ বলেন, ঈদের আগেই ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে সৃষ্ট খানাখন্দগুলো সংস্কার করা হবে।