নানা কায়দায় অভিনব প্রতারণা চলছে রাজধানীর পার্শ্ববর্তী সাভার, ধামরাই ও আশুলিয়াসহ আশপাশ এলাকাগুলোতে। প্রতারণার শিকার হয়ে অনেকেই থানায় অভিযোগ করলেও বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন না বাড়তি ঝামেলার ভয়ে। সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রটি সুযোগ বুঝে হানা দিচ্ছে বিভিন্ন মিল-কারখানা, ব্যাংক বীমা, হোটেল, রেস্তোরাঁ, এনজিও, ক্লিনিক, ইটভাটা, আইসক্রিম ফ্যাক্টরীসহ নানা প্রতিষ্ঠানে। প্রতারকরা কখনো বা ব্যক্তি বিশেষকে ভয় দেখিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছে মোটা অংকের টাকা। আর এ কাজে সুকৌশলে নারীদেরকেও ব্যবহার করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে প্রতারকদের খপ্পরে পড়ে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে এ অঞ্চলের মানুষ। এ চক্রটি নিজেদের কখনো র্যাব, ম্যাজিস্ট্রেট, মানবাধিকার সংগঠনের কর্মী, সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে প্রতারণা চালিয়ে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত।
অভিযোগে জানা যায়, মাইক্রোবাস যোগে ৮/১০ জনের এ দলটি নিজেদের ভ্রাম্যমাণ আদালতের টিম পরিচয় দিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে বিভিন্ন স্থান থেকে নগদ অর্থ আদায় করে সটকে পড়ে। এ অঞ্চলের বিভিন্ন স্থান থেকে এ রকম একাধিক অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগ বিশ্লেষণে দেখা যায়, প্রতারকরা নিজেদের সাংবাদিক এবং মানবাধিকার কর্মী বলে বেশি পরিচয় দেয়। এমন কি তাদের গলায় নাম সর্বস্ব পত্রিকার ও বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের পরিচয়পত্রও ঝুলানো দেখা যায় ।
নানা নামে অভিনব কায়দায় এ প্রতারক চক্রটি সাভার , ধামরাই, আশুলিয়া, কেরানীগঞ্জ এলাকায় দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। কোন স্থানে কোন ঘটনা ঘটলেই এ চক্রটি হাজির হয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে ফায়দা লুটার চেষ্টা চালায়। কোন পত্রিকায় অপরাধ সম্পর্কিত কোন সংবাদ প্রকাশিত হলেই চক্রের সদস্যরা ওই পত্রিকা হাতে নিয়ে অভিযানে নেমে পড়ে। এছাড়াও এ অঞ্চলে অবস্থিত বিভিন্ন ইটভাটা, আইসক্রিম, বিস্কুট বেকারি, মিল-কারখানায় গিয়ে অনিয়মের অভিযোগ তুলে প্রতিষ্ঠানটি ক্যামেরা বন্দি করে। অনেক ক্ষেত্রে এ চক্রটি নিজেরাই ম্যাজিস্ট্রেট ও র্যাবের ভূমিকা পালন করে থাকে। আর চাহিদা মোতাবেক অর্থ না পেলে প্রতিষ্ঠানটি সিলগালা করারও হুমকি দেয়। পরে ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ হাতিয়ে সটকে পড়ে।
ইতিপূর্বে সাভার বাজার বাসস্ট্যান্ডে একটি ক্লিনিকে চাঁদাবাজি করতে এসে প্রতারক চক্রের ৩ সদস্য আটক হয়েছিল। এই চক্রের অপর সদস্যরা কেরানীগঞ্জ এলাকায় একটি আইসক্রিম ফ্যাক্টরীতে চাঁদাবাজি করতে গিয়ে আটক হয় এবং তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার আইনে মামলা হয়। বিভিন্ন জমি জমার বিরোধ, পাওনা আদায় নিয়ে বিরোধ, ঝুট ব্যবসার বিরোধ, এমনকি পারিবারিক বিরোধেও এ চক্রটি হাজির হয়। এ চক্রটির বিরুদ্ধে সন্ধ্যার পর ছিনতাইয়েরও অভিযোগ রয়েছে।
এ ব্যাপারে সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কামরুল হাসান মোল্লা বলেন, এ ধরনের কোন ঘটনা ঘটলে তাত্ক্ষণিকভাবে প্রশাসনকে অবগত করে প্রতারকদের আইনের আওতায় আনতে হবে।
সাভার সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মশিউদৌলা রেজা বলেন, প্রতারক চক্র কোন প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তি বিশেষের কাছে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে চাঁদা দাবি করলে সে যেই হোক তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
