ভিন্নপেশা

গহনা গড়ে বিক্রি করেন ফাতেমা বেগম

আপডেট : ২৮ জুলাই ২০১৩, ১৯:৫০
ফাতেমা বেগমের বাড়ি ডেমরা। ছোটবেলা থেকেই দেখে এসেছেন বাপ-দাদা পরিবারের সকলেই মুক্তার গয়না, ত্রিস্টাল... পুঁথি, বিভিন্ন পাথরের গয়না বানিয়ে বিক্রি করেন। ছোটবেলা থেকেই এই কাজের সাথে যুক্ত তিনি, বিয়েও হয় এই পেশারই একজনের সাথে। সংসার জীবনে এসে দেখেন একজনের আয়ে সংসার চলে না। তিনি নিজেই শুরু করলেন। কিন্তু কোন দোকান নেবার সামর্থ্য ছিল না, আজও নেই। আড়ংয়ের সামনে মাটিতেই একটি পাটি বিছিয়ে শুরু করে দেন গয়না বিক্রির কাজ। তখন তিনি তরুণী গৃহবধূ। জানতে চেয়েছিলাম নারী হিসেবে সমস্যার সম্মুখীন হয়েছিলেন কি? উত্তরে ফাতেমা জানান, ‘সমস্যাতো আছেই। কিন্তু আপা আমার টার্গেট ছিল কাজ। মন দিয়ে কাজ না করলে সংসার চলবে না, মেয়েটাকে মানুষ করতে পারব না। এছাড়া সত্ হয়ে চলেছি, চারপাশের মানুষ আমাকে সম্মান করেছে।’ ফাতেমা বেগম গত দশ বছর যাবত্ মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটে পাটি বিছিয়ে বসেন। রোদ-বৃষ্টি-শীতকে সয়েই তিনি কাজ করে চলেছেন। গয়না বানান সারাদিন, সেখানেই, বিক্রি করেন বসে। অনেক তরুণী, মহিলা তার গয়না নিয়ে থাকে। ঈদ আসলে বেচাকেনা খুব ভালো হয়। কাজটি খুবই কষ্টসাধ্য। ডেমরা ও পুরান ঢাকা থেকে পাথর, মুক্তা, পুঁথি সংগ্রহ করতে হয়। এরপর দীর্ঘ সময় নিয়ে গড়তে হয় গয়নাগুলো তাকে নিজেই। অনেক সময় ও ধৈর্য লাগে এই কাজে। কৃষি মার্কেটে তিনি পরিচিত খালা হিসেবে, সবাই তাকে খুব সম্মান করে। এতো গয়না নিজে গড়েন, নানা রঙের দুল, লহরের হার, চুড়ি, নুপুর তুলে দেন মেয়েদের হাতে, ক্রেতার হাতে, জানতে চাইলাম নিজে কি পড়েন নিজের গয়না? ফাতেমা বলেন, ‘আপা আমার জীবনে শখ-আহ্লাদ করার সুযোগ নাই। নিজের গয়না কখনো পরি নাই। খুব সাদামাটা ভাবেই কেটে গেল জীবন, সংসার চালাতেই সারাদিন রোদেপুড়ে কাজ করি, মাথায় তো ছাউনিও নাই। গয়না পরার সময় বা সুযোগ আমার কোনদিন হয়নি।’ এই ব্যবসা করে স্বামীর পাশে দাঁড়িয়েছেন ফাতেমা, সংসার চালিয়ে, মেয়েকে মানুষ করে বিয়ে দিয়েছেন। ঢাকা শহরে ঊর্ধ্বমুখি খরচের খাতে নিয়মিত বাড়ি ভাড়া দিয়ে, খাওয়া-পড়া, সামাজিকতা, চিকিত্সা খরচ চালিয়ে টিকে থাকা যে কতটা কঠিন সেটা ফাতেমারাই জানেন। এই ব্যবসা করে দৈনন্দিন জীবন সচল হয়েছে কিন্তু ঢাকা শহরে মাথা গোঁজার ঠাঁই হয়নি। এছাড়াও পরিশ্রম তুলনায় এই গয়নায় লাভের পরিমাণ খুবই কম। ব্যবসা ছাড়াও এই কাজ করতে এক সৃজনশীল আনন্দ খুঁজে পান ফাতেমা। তিনি আহ্বান জানান, যদি তিনি গায়ে হলুদ কিংবা অন্যান্য অনুষ্ঠানের জন্য অর্ডার পেতেন তবে তার খুব লাভ হতো। এছাড়া কোন প্রতিষ্ঠান বা সংস্থা যদি তার এই ব্যবসা উন্নয়নে কোন উদ্যোগ গ্রহণ করতো তবে তিনি এগিয়ে যেতে পারতেন। সারাদিন পরিশ্রম করে উপযুক্ত মূল্যায়ন পান না বলে বেশ মন খারাপ হয়ে যায়। নিজের এই পেশায় যুক্ত করেননি মেয়েকে। একজন নারী হয়ে দিনরাত মাটিতে বসে রোদ তাপ সহ্য করে কাজটি করে যাচ্ছেন কিন্তু নিজের মেয়ের জীবনে এই কষ্টের পুনরাবৃত্তি তিনি দেখতে চান না। তিনি চান তার মেয়ে যেন সুখে সংসার করতে পারে। জীবনের অনেকটা পথ এগিয়ে এসে এখন মনে হয় নারী হিসেবে তিনি সংসার চালাতে স্বামীর পাশে দাঁড়াতে পেরেছেন, এটা এক পরম প্রাপ্তি। এজন্য স্বামীও তাকে খুব সম্মান দেন। আগামী দিনগুলোতেও ফাতেমা বেগম... তার কাজ চালিয়ে যেতে চান, রাঙিয়ে তুলতে চান মেয়েদের শখের সাজকে। নারীরা যদি তার পাশে দাঁড়ান, উপযুক্ত মূল্যে তার গয়না কেনেন, অর্ডার দেন... চলমান থাকবে ফাতেমা বেগমের গয়না শিল্প। ফাতেমা বেগমের সাথে যোগাযোগ করতে হলে, অর্ডার দিতে হলে যোগাযোগ করতে হবে ফাতেমা বেগম, প্রযত্নে মোঃ খোকন মিয়া, মোবাইল নং- ০১৯১৩৮৬১৮৫১, ০১৯২৮২৭১৮২৪।