ইন্টারনেট বিশ্বে নারীর রাজত্ব

আপডেট : ২৮ জুলাই ২০১৩, ১৯:৫৩
শেরিল স্যান্ডবার্গ ফেসবুকের নাম নিলে মার্ক জুকারবার্গের পরেই যার নাম আসে তিনি শেরিল স্যান্ডবার্গ। শেরিল বর্তমানে ফেসবুকের প্রধান কার্যকরী কর্মকর্তা (সিওও)। ১৯৬৯ সালে ওয়াশিংটন ডিসিতে জন্ম নেন শেরিল। হার্ভার্ড কলেজ থেকে অর্থনীতিতে সর্বোচ্চ নম্বর নিয়ে গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করেন। এরপর হার্ভার্ড বিজনেস স্কুল থেকে এমবিএ সম্পন্ন করেন। ১৯৯৫ সালেই স্যান্ডবার্গ ম্যাককিনসি এন্ড কোম্পানিতে যোগ দেন ব্যবস্থাপনা উপদেষ্টা হিসেবে। ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত স্যান্ডবার্গ তত্কালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীনে দক্ষতার সাথে কাজ করেন। এরপর ২০০৮ সাল পর্যন্ত স্যান্ডবার্গ ছিলেন গুগল এর অনলাইন সেলস প্রজেক্টের ভাইস প্রেসিডেন্ট। ২০০৮ সালে ফেইসবুকের সাথে যুক্ত হন তিনি। তারই হাত ধরে ফেসবুক পরিচিতি পেলো একটি লাভজনক সামাজিক যোগাযোগসাইট হিসেবে। স্যান্ডবার্গ একাধারে ফেসবুকের বিপণন, মানবসম্পদ, বিক্রয় ও গণযোগাযোগের দিকগুলো দেখাশোনা করেন। শেরিল স্যান্ডবার্গ বিশ্বের সব নারীর জন্যই এখন অনুপ্রেরণার অন্য নাম। মিগ হুইটম্যান ১৯৫৬ সালে নিউইয়র্কে জন্ম নেয়া মিগ হুইটম্যান এইচপির প্রধান কার্যনির্বাহী কর্মকর্তা। ডাক্তার হবার ইচ্ছায় তিনি প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্মান পাস করেন। এরপর একটি ম্যাগাজিনের জন্য বিজ্ঞাপন বিভাগে কাজ করতে গিয়ে তার পেশাজীবনের গতিপথ বদলে যায়। হুইটম্যান হার্ভার্ড বিজনেস স্কুল থেকে এমবিএ করেন ১৯৭৯ সালে। সেই ১৯৭৯ সালেই হুইটম্যানের পেশাজীবন শুরু হয় প্রক্টর এন্ড গ্যাম্বল নামক প্রতিষ্ঠানের ব্র্যান্ড ম্যানেজার হিসেবে। ১৯৮৯ সালে ওয়ালট ডিজনির কৌশলগত পরিকল্পনা বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট হন তিনি। মূলত হুইটম্যানের পেশাজীবনের মূল ভিত্তি ছিলো ১৯৯৮ সালে ইবে (ইবিএওয়াই)-তে যোগ দেয়া। মাত্র ৩০ জন কর্মচারী নিয়ে শুরু করে তিনি সফলতা অর্জন করেন। ২০১১ সালের জানুয়ারিতে হুইটম্যান হিউলেট প্যাকার্ডের পরিচালক সভার সদস্য নির্বাচিত হন এবং কোম্পানির কম্পিউটার ব্যবসার আমূল পরিবর্তন করে একে এক নতুন রূপ দেন। তিনি ২০১৩ সালের মে মাসে বড় বড় কোম্পানিগুলোর সবচেয়ে অর্জনকারী সিইও’র পুরস্কার পান। সুসান উওযকিস্কি উওযকিস্কি ১৯৬৮ সালে ক্যালিফোর্নিয়াতে জন্মগ্রহণ করেন। উওযকিস্কি ১৯৯০ সালে ইতিহাস ও সাহিত্য নিয়ে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্মান শেষ করেন। এরপর ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে মাস্টার্স এবং ইউসিএলএ স্কুল অব ম্যানেজমেন্ট থেকে বিজনেস ম্যানেজমেন্টে এমবিএ করেন। ১৯৯৮ সালে যখন থেকে গুগলের যাত্রা শুরু হয় তখন থেকেই গুগলের সাথে আছেন সুসান উওযকিস্কি। আনুষ্ঠানিকভাবে গুগলের সাথে জড়িত হন ১৯৯৯ সালে ছোট পণ্যের জন্য প্রথম পেশাদার বিপণন প্রধান হিসেবে। এরপর গুগলের প্রথম কাস্টমারদের পণ্য লাইসেন্স ব্যবস্থাপনা ও গুগল ভিডিও তিনিই প্রচলন করেন। গুগলের ইমেজ সার্চ অপশনটিও সুসান উওযকিস্কির কল্যাণে আসে। ২০১১ সালের এপ্রিল থেকে উওযকিস্কি পণ্য ব্যবস্থাপনা ও প্রকৌশল বিভাগের ভাইস চেয়ারপার্সন হিসেবে কাজ করে যাচ্ছেন। সুসান উওযকিস্কি এমন একজন নারী ব্যক্তিত্ব যার হাত ধরে এই প্রজন্ম ইন্টারনেটের সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ এক সার্চ ইঞ্জিনের সব থেকে বেশি উপযোগিতাপূর্ণ রূপ দেখতে পায়। মারিসা মেয়ার ১৯৭৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের উইস্কন্সিনে জন্ম নেয়া পরিশ্রমী মারিসা মেয়ার অত্যন্ত দক্ষতার সাথে গুগল থেকে শুরু করে ইয়াহু ও ওয়ালমার্ট, ইন্টারনেটের ও ব্যবসার সব থেকে উচ্চস্তরের কাজ করে আসছেন। স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সিম্বোলিক সিস্টেমস এর উপর স্নাতক পাস করেন মারিসা মেয়ার, এরপর মাস্টার্স করেন কম্পিউটার সায়েন্সের উপর একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। মারিসা মেয়ার ছিলেন গুগলের প্রথম নারী প্রকৌশলী। ১৬ জুলাই ২০১২ সালে মেয়ার ইয়াহুর প্রধান কার্যনির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) পদে যোগ দেন। ইয়াহুর পরিচালনা পর্ষদের একজন সম্মানিত সদস্য মারিসা মেয়ার। মেয়ার শুধু ব্যবসায়িক কাজই করেননি, মাতৃত্বকালীন ছুটি বাড়িয়ে দিয়েছেন ও সন্তানের বাবা-মা’র জন্য বোনাসের ব্যবস্থা করেছেন তিনি। ইয়াহুর শেয়ার দর কমার পরও মেয়ার নিজ দক্ষতায় এর লভ্যাংশ ধরে রাখেন যা কিনা আগের বছরের থেকেও অনেক বেশি। তিনি ওয়ালমার্টের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য। তার কাজের দ্বারা প্রমাণ করেছেন অভিজ্ঞতা বয়সে নয় দক্ষতায় হয়।