গল্প নয় সত্যি

মনের খবর জানাবে এক্স-রে!

আপডেট : ২৮ জুলাই ২০১৩, ২০:৪২
হয়তো গাছ থেকে পড়ে ছোট্ট বিল্টুর পা ভেঙে গেছে। কিংবা সিঁড়ি দিয়ে উঠতে যেয়ে হয়তো দুর্ঘটনাক্রমে হাত ভেঙেছেন বাড়ির প্রবীণ ব্যক্তিটি। এসব ক্ষেত্রে খুব সহজেই এক্স-রে করে ভাঙা হাত বা পায়ের খবর জেনে নেন ডাক্তার। কিন্তু শরীরের কোনো হাড় না ভেঙে যদি কারও মনটাই ভেঙে যায় তাহলে তা তো আর এক্স-রে’তে ধরা পড়ে না। আর তাই এসব ক্ষেত্রে নানারকম তথ্য আর অনুমানের ওপরই নির্ভর করতে হয় মনের ডাক্তারদের। তবে এবার হেপটারেস থেরাপিউটিক্স নামের একটি ওষুধ প্রস্তুতকারক সংস্থার একদল বিজ্ঞানী কিন্তু মনের এক্স-রে করার সম্ভাবনাও জাগিয়ে তুলেছেন। তাদের দাবি, তাদের এই গবেষণা পুরো মাত্রায় আলোর মুখ দেখলে সেটি অনেকটা এক্স-রে মেশিনের মতো করেই জানিয়ে দেবে মানসিক চাপ, উদ্বেগ আর অবসাদের খবর। দীর্ঘদিন ধরে মানব মস্তিস্কের গঠন এবং তার উপর বিভিন্ন ঔষধের প্রভাব সংক্রান্ত গবেষণা করতে যেয়ে এই বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, প্রোটিন কম্পোনেন্ট সিআরএফওয়ান পিটুইটারি থেকে হরমোন ক্ষরণ করায় যার ফলে দীর্ঘ সময় ধরে অবসাদে ভোগে মানুষ। আর এই হরেমানগুলোর ক্ষরণকে প্রভাবিত করে মস্তিষ্কের হাপোথ্যালামাসে বিশেষ অনুর উপস্থিতি। এ ক্ষেত্রে সিআরএফওয়ানের গঠন বুঝতে পারলেই সেটি একজন মানুষের মানসিক অবস্থা বা তার অবসাদের কারণ জানা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা। এ লক্ষ্যে তারা ইতোমধ্যেই পরীক্ষামূলকভাবে ডায়মন্ড লাইট সোর্স নামে একটি অনুঘটক ব্যবহার করে সফল হয়েছেন। এতে এক্স-রে প্রযুক্তির আদলে ছোট কিছু অণুকে মস্তিস্কের সংবেদনশীল সূক্ষ্ম অঞ্চলে প্রবেশ করানো হয়। আর এই অণুটিই বিজ্ঞানীদের জানিয়ে দেয় সিআরএফওয়ানের গঠন ও সেখানে চলতে থাকা ক্রিয়া-বিক্রিয়া সম্পর্কে। এভাবে মস্তিষ্কের একেবারে অন্দরমহলে প্রবেশ করে অবসাদের কারণ উদঘাটনের পাশাপাশি ভবিষ্যতে যেন এই প্রেটিন উপাদানটিকে নিস্ক্রিয় করে মানুষের অবসাদবোধটিকেও দূর করা যায় সে বিষয়েও নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন হেপটারেস থেরাপিউটিক্সের এই বিজ্ঞানীরা।