গতকাল দুপুরে কাওরানবাজার এলাকায় দু’জন যুবককে ময়লা ভর্তি একটি খোলা ভ্যান নিয়ে সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশনের (এসটিএস) দিকে যেতে দেখা যায়। ভ্যানটি থেকে পচা ময়লা-আবর্জনা উপচে পড়ছে। ময়লা থেকে সুরক্ষার জন্য ওই দুই যুবকের গায়ে নেই কোনো পোশাক। পায়ের জুতাগুলোও জরাজীর্ণ। অন্যান্য যানবহনের সাথে সিটি করপোরেশনের ওই ভ্যানটিও আটকে যায় ট্রাফিক সিগন্যালে। ভ্যানটি থামার সাথে সাথে আশেপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে দুর্গন্ধ। দুর্গন্ধ এড়াতে কেউ কেউ নাক চেপে ধরেন। আবার কেউ নাকে কাপড় গুঁজে গন্ধ এড়ানোর চেষ্টা করেন। সরেজমিনে ঘুরে রাজধানীর বেশ কয়েকটি জায়গায় এমন চিত্র চোখে পড়ে।
নাগরিকরা বলছেন, খোলা ও দুর্গন্ধযুক্ত ভ্যানে ময়লা পরিবহন করায় বাসা-বাড়ির সামনে ময়লার ভ্যান আসলেই ব্যাপক দুর্গন্ধ ছড়ায়। অন্য দিকে, ময়লা কর্মীরা একেক দিন একেক সময় ময়লা সংগ্রহ করতে আসে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ময়লা সংগ্রহ ও পরিবহন না করায় ভোগান্তিতে পড়তে হয়। যানজটের মধ্যে পাবলিক বাস আর ময়লার ভ্যান যখন পাশাপাশি দাঁড়ায়, তখন বিবৃত হতে হয় প্রায়ই। রাজধানীর রাস্তায় যখন জনসমাগম বাড়ে, তখনও খোলা ভ্যানে ময়লা-আবর্জনা ভর্তি করে পরিবহন করতে দেখা যায়। দুই সিটি কর্পোরেশন এলাকায় খোলা ভ্যানে বর্জ্য সংগ্রহ ও পরিবহন করা হয়। অন্য দিকে, এ কাজের সাথে সংশ্লিষ্ট শ্রমিকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য নেই নির্দিষ্ট কোনো পোশাক।
শ্রমিকরা বলছেন, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে কাজ করতে তাদের সয়ে গেছে। তবে তাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সিটি করপোরেশনের তেমন কোনো পদক্ষেপ নেই। অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে কাজ করে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের কেউ কেউ নানা রোগে আক্রান্ত হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, খোলা ভ্যানে ময়লা সংগ্রহ ও পরিবহনের কারণে পরিচ্ছন্নতাকর্মী-জনসাধারণ সবাই স্বাস্থ্যঝুঁকিতে আছে।
শ্রমিকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় উদাসীন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। তবে উত্তর সিটি করপোরেশন শ্রমিকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। ডিএনসিসি’র প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা কমোডর এম এ রাজ্জাক জানান, শ্রমিকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার বেশ কিছু পদক্ষেপ এরই মধ্যে নেওয়া হয়েছে। এসব পদক্ষেপের মধ্যে রয়েছে ইবনে সিনা হাসপাতালে ডিসকাউন্টে টেস্ট এবং প্রতিবছর ক্যান্সার স্ক্রিনিং টেস্ট। এ ছাড়া বেশ কয়েকটি হাসপাতালের সঙ্গে চুক্তির বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।
সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা যায়, দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৫৭টি ওয়ার্ড মোট পাঁচটি অঞ্চলে বিভক্ত। সংস্থাটির আওতাধীন এলাকায় প্রায় ৩ হাজার ২০০ মেট্রিক টন বর্জ্য উত্পাদন হয়। পাঁচ হাজার ২১৭ জন চুক্তিভিত্তিক পরিচ্ছন্নতাকর্মী বর্জ্য সংগ্রহ ও পরিবহনের কাজে সম্পৃক্ত। বাসাবাড়ি থেকে প্রাথমিকভাবে বর্জ্য সংগ্রহের জন্য ডিএসসিসির তিন হাজার শ্রমিক ও দেড় হাজার ভ্যান রয়েছে। সবকয়টি ভ্যানই খোলা।
অন্যদিকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনও পাঁচটি অঞ্চলে বিভক্ত। ওই সব অঞ্চলে ৫১টি এসটিএস রয়েছে। প্রায় তিন হাজার পরিচ্ছন্নতাকর্মী বাসাবাড়ি থেকে সংগৃহীত বর্জ্য ওই সব এসটিএসে ফেলেন। প্রায় দেড় হাজার ভ্যান নিয়োজিত বর্জ্য সংগ্রহের কাজে। তবে উভয় সিটি করপোরেশনের ভ্যানগুলো খোলা। ভ্যানে করে ময়লা নিয়ে তা নির্দিষ্ট কনটেইনারে রাখা হয়। ওই সব বর্জ্যবাহী কনটেইনার মাতুয়াইলে অবস্থিত ল্যান্ডফিলে ফেলার জন্য প্রতি ওয়ার্ডে দুটি গাড়ি নিয়োজিত।
