মাধবপুরে অকালের তরমুজ চাষে সাফল্য অর্জন করে সাড়া জাগিয়েছেন এক কৃষক। আধুনিক প্রযুক্তিতে সবজি চাষে সফল এ কৃষক দেড় একর জায়গায় ৩ মাসে জেসমিন-১ ও জেসমিন-২ জাতের তরমুজ চাষ করে ৩০ টন তরমুজ ১৫ লাখ টাকায় বিক্রি করেছেন।
মাধবপুর উপজেলা সদর থেকে প্রায় ১৭ কিলোমিটার দূরে চৌমুহনী ইউনিয়নের গোপিনাথপুর গ্রামে আমজাদ খানের তরমুজের জমি। সেখানে গিয়ে দেখা গেল, শ্রমিকরা জমি থেকে তরমুজ সংগ্রহ করছেন আর ব্যবসায়ীরা তা ওজন দিয়ে গাড়িতে বোঝাই করছেন।
আমজাদ খান জানান, রমজান মাস হওয়ায় তরমুজের প্রচুর চাহিদা রয়েছে। দেশের বিভিন্ন স্থানের ব্যবসায়ীরা এসে তরমুজ ক্রয় করছেন। ১ থেকে ৪ কেজি ওজনের এ তরমুজ খুবই মিষ্টি হওয়ায় চাহিদাও বেশি। আমজাদ খান বলেন, মালসিং সীড ব্যবহার করে তরমুজ চাষ করেছেন তিনি। জমিতে মাছা ও নেট ব্যবহার করার কারণে বর্ষাকালেও কোন তরমুজ নষ্ট হয়নি।
মাধবপুর পৌর এলাকার ৩নং ওয়ার্ডের হরমুজ আলীর ছেলে আমজাদ খান জানালেন তার সাফল্যের কাহিনী। তিনি ১৯৮৯ সালে এইচ.এস.সি পাস করার পর টাকার অভাবে লেখা-পড়া করতে পারেননি। শুরু করেন কিটনাশক ও বীজের ব্যবসা। এক সময় ব্যবসায় প্রচুর লোকসান হওয়ায় প্রায় পথে বসার উপক্রম হয়েছিল তার। এরপর ঠিক করলেন সবজি চাষ করবেন। ধারদেনা করে গোপিনাথপুর গ্রামের মাঠে ৬ একর ভূমি লিজ নিয়ে সবজি চাষ শুরু করেন। আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার আর কঠোর পরিশ্রমের ফলে সফল সবজি চাষি হিসেবে সর্বত্র পরিচিতি লাভ করেছেন তিনি। আমজাদ খানের কৃষি খামারে এখন ৪০ জন শ্রমিক নিয়মিত কাজ করছেন। গত বছর তার খামারে উত্পাদিত টমেটো সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়ায় রপ্তানি করে তিনি প্রচুর অর্থ উপার্জন করেছেন। নিজের ভাগ্যের পরিবর্তনের সাথে সাথে পেয়েছেন সম্মান। সুষম সার ব্যবহার ও কিটনাশক মুক্ত সবজি চাষ ও রপ্তানির জন্য আমজাদ খানকে বাংলাদেশ একাডেমি ফর এগ্রিকালচার ২০১২ সালের ক্রেস্ট অব মেরিট পুরস্কারে ভূষিত করেছে।
মাধবপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আতিকুল হক জানান, আমজাদ খান এই এলাকার কৃষি ক্ষেত্রে চমত্কার দৃষ্টান্ত স্থাপন করায় এলাকার অনেক কৃষকই তাকে অনুসরণ করছেন।
