সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিগুলো আরো সমন্বিত করার তাগিদ

আপডেট : ২৮ জুলাই ২০১৩, ২১:৫৪
সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিগুলোকে আরো কার্যকর ও ফলপ্রসূ করতে একটি জাতীয় সামাজিক নিরাপত্তা কৌশল (এনএসপিএস) তৈরি করা হচ্ছে। আর এ কৌশলের মাধ্যমে কর্মসূচিগুলোকে আরো সমন্বিত করার তাগিদ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। রবিবার রাজধানীর একটি হোটেলে পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ (জিইডি) ও ইউএনডিপি’র যৌথ উদ্যোগে একটি কর্মশালার আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) এ কে খন্দকার। বিশেষ অতিথি ছিলেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রী এনামুল হক মোস্তফা শহীদ, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী আফসারুল আমীন। মন্ত্রী পরিষদ সচিব মোশাররাফ হোসেন ভুঁইয়ার সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন জিইডি সদস্য ড. শামসুল আলম, ইউএনডিপি কান্ট্রি ডিরেক্টর পলিন তামিসিস। মূলপ্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পলিসি রিসার্চ ইন্সটিটিউটের (পিআরআই) ভাইস চেয়ারম্যান ড. সাদিক আহমেদ। মুক্ত আলোচনায় অংশ নিয়ে বক্তারা বলেন, ২০১২-২০১৩ অর্থবছরের হিসেব অনুযায়ী দেশে প্রায় ২ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলারের সমপরিমাণ অর্থ ৯৫টি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে ব্যয় করা হয়েছে। যা মোট দেশজ আয়ের (জিডিপি) ২ দশমিক ২ শতাংশ। এতে অনেক সাফল্য আসলেও অনেক উন্নয়নশীল দেশগুলোর চেয়ে এই ব্যয় অনেক কম। দেশের মাতৃমৃত্যু হার ও শিশু মৃত্যু হার হ্রাসে বাংলাদেশের প্রশংসনীয় সাফল্য এসেছে কিন্তু ৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের মধ্যে একটি বিরাট অংশ (প্রায় ৪০%) এখনও অপুষ্টির শিকার। তাই বিশাল আকারের এই ব্যয় পুষ্টি বান্ধব নয়। স্কুলে ভর্তির হার বাড়লেও ঝরে পড়ার হার এখনও অনেক। পরিকল্পনামন্ত্রী এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) একে খন্দকার বলেন, দেশে প্রতিবছর ১ দশমিক ৭৪ শতাংশ হারে দারিদ্র্য কমছে। গত দশকে প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখ লোক দারিদ্র্যসীমার উপরে উঠে এসেছে। বিশাল আকারের দারিদ্র্য হ্রাসে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির ব্যাপক অবদান রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এ কর্মসূচিকে আরো ফলপ্রসূ করার জন্য বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কর্মসূচিগুলোকে একই ছাতার নিচে নিয়ে আসার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। সমাজকল্যাণ মন্ত্রী এনামুল হক মোস্তফা শহীদ বলেন, শুধু দারিদ্র্য নিরসন নয়, গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জীবন মানের উন্নয়নে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি ভূমিকা রাখছে। বর্তমান সরকার এই কর্মসূচি প্রতিবছর বৃদ্ধি করছে। পূর্বে বয়স্ক ভাতা দেয়ার বিরোধিতা করা হলেও এখন এ কর্মসূচিকে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির ভিত্তি বলে ধরে নেয়া হচ্ছে। সমাজে সুবিধা বঞ্চিত হিজরা, বেদে, অস্পৃশ্যদেরও এবছর সামাজিক নিরাপত্তা বলয়ের আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে যা আগে কখনও হয়নি বলে তিনি উল্লেখ করেন। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী আফসারুল আমীন বলেন, দেশে সকলের জন্য শিক্ষা কর্মসূচি বাস্তবায়নে দারিদ্র্য বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। শিশুদের স্কুলে ভর্তি করা হলেও দারিদ্র্যতার কারণে ঝরে পড়ার হার এখনও অনেক বেশি। তবে বর্তমান সরকার স্কুলে ঝরে পড়ার হার কমিয়ে আনার জন্য স্টাইপেন, মিড-ডে মিল এর মতো বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে তাদের সহায়তা করছে। জিইডি সদস্য ড. শামসুল আলম জানান, বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগীদের সহায়তায় দেশের সকল সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিগুলোকে আরো কার্যকর করতে একটি সমন্বিত কৌশল নেয়া হচ্ছে। উন্নয়নশীল দেশ বিশেষ করে কম্বোডিয়া, নেপাল ও দক্ষিণ আফ্রিকার মতো দেশগুলোর উন্নয়ন পরিকল্পনা এ ক্ষেত্রে আমাদের সামনে রয়েছে যা পরিকল্পনা প্রণয়নে ফলপ্রসূ অবদান রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সদস্যরা, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিবগণসহ বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিনিধিরা এ কর্মশালায় অংশগ্রহণ করেন।