টানা ভারি বর্ষণ ও সাগরের নিম্নচাপে বলেশ্বর ও বিষখালী নদীর পানি স্বাভাবিকের চেয়ে ৩/৪ ফুট বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে উপকূলবর্তী পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার নিম্নাঞ্চলের প্রায় কুড়িটি গ্রামের অর্ধ লাখ মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে।
এদিকে কয়েক দিনের ভারি বর্ষণে মানুষের জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। উপজেলার ১১ ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম, হাট বাজার, আমনের বীজতলা এবং রোপা আমন ক্ষেতসহ পৌর শহরের নিম্নাঞ্চল পানিতে তলিয়ে গেছে। বলেশ্বর নদের বিভিন্ন স্থানের ভাঙ্গা বেড়ি বাঁধ দিয়ে জোয়ারের পানি ঢুকে খেতাছিড়া, কচুবাড়িয়া, ভোলমারা, বড় মাছুয়া, খেজুরবাড়িয়া, ছোট মাছুয়াসহ উপজেলার বলেশ্বর তীরবর্তী কুড়িটি গ্রামের রাস্তা-ঘাট, হাটবাজারসহ ঘর-বাড়ি তলিয়ে গেছে। নিম্নচাপ ও ভারি বর্ষণে পানিবৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় প্রতিদিন নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। কোন কোন এলাকায় ঘরের ভেতর পানি প্রবেশ করায় অনেক পরিবার রান্নাবান্না করতে না পেরে মানবেতর জীবন-যাপন করছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, মিরুখালী ইউনিয়নের ছোট শৌলা, ভগিরথপুর, নাগ্রাভাংগা, বড়শৌলা গ্রামে গত কয়েক দিন ধরে পানি ঢুকে এলাকাগুলোতে জলাবদ্ধতা বেড়েছে।ভারি বর্ষণে পুনরায় ক্ষেতে পানি প্রবেশ করায় কৃষকরা আমন চাষ নিয়ে বিপাকে পড়েছে। পুকুর ও মাছের ঘের পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় প্রায় ৫ লাখ টাকার মাছের ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে।
মঠবাড়িয়া পৌর শহরের খালে শহর রক্ষা বাঁধ না থাকায় জোয়ারের পানি শহরের দক্ষিণ বন্দর গরু হাটা, হাসপাতাল রোড, ড্রেন রোডে পানি ঢুকে রাস্তা ঘাট, দোকান পাট ও বাসা বাড়ি তলিয়ে যাওয়ায় পৌরবাসী চরম দুর্ভোগে পড়েছে।
সাপলেজা ইউপি চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর হোসেন সেলিম জমাদ্দার জানান, বলেশ্বর নদের বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে পানি লোকালয়ে প্রবেশ করলে তীরবর্তী মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়ে। ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধ দ্রুত সংস্কার না করলে চলতি মৌসুমে আমন চাষাবাদ ব্যাহত হওয়ার আশংকা রয়েছে।
