প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, জরিপের ফলাফলের ভিত্তিতেই আমার ছেলে জয় বলেছে আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নির্বাচিত হতে পারে। ষড়যন্ত্রের ভিত্তিতে নয়। তথ্য ছাড়া এসব কথা বলা যায় না। আর বিরোধী দল এটাকে ‘ষড়যন্ত্র’ নাম দিয়ে মাঠ গরম করেছে। আসল কথা হচ্ছে, যারা ষড়যন্ত্র করে তারাই কেবল ষড়যন্ত্রের গন্ধ খোঁজে। তিনি বলেন, বিরোধী দলের নেতারা জয়ের বক্তব্যকে বিকৃত করে উপস্থাপন করছেন।
রবিবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সহায়তা ভাতা বা অনুদান প্রদান বিষয়ক এক অনুষ্ঠানে তিনি একথা বলেন। ১৫৭ জন সাংবাদিককে এক কোটি টাকার এই সহায়তা দেয়া হচ্ছে। এরমধ্যে ৫৩ জনকে প্রধানমন্ত্রী নিজ হাতে সহায়তা চেক তুলে দেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘জয় বলল, আমি পোল (জরিপ) করে এ তথ্য পেয়েছি। আর বিরোধী দল সেটাকে বিকৃত করে ষড়যন্ত্র নাম দিয়ে ফেলেছে! কাদের মুখ থেকে শুনছি ষড়যন্ত্রের কথা? যারা ষড়যন্ত্র করে অভ্যস্ত-তারাই আজকে এ কথা বলছে। দেশটাকে তারা জঙ্গিবাদে রূপান্তর করতে চায়।’’ তিনি আরো বলেন, ‘‘জয় বলেছে জরিপ করা হয়েছে। যে জরিপ প্রতিবেদনে এসেছে তাতে এখনো দেখা যায়-আওয়ামী লীগের ওপর জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস আছে। নির্বাচনে ভালো ফল করে ক্ষমতায় আসতে পারবে।’’ আওয়ামী লীগ আগামীতে ক্ষমতায় এলে সাংবাদিকদের প্রতি সহায়তা প্রদান অব্যাহত থাকবে বলে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন। এছাড়া সাংবাদিকদের স্থায়ী সহায়তার জন্য ট্রাস্ট ফান্ড গঠনের নির্দেশ দেন তিনি। এছাড়া দ্রুত সময়ের মধ্যে ইলেক্ট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়া পরিচালনায় নীতিমালা করারও নির্দেশ দেন।
অনুষ্ঠানে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেন, বিশেষ কিছু সময় আসে যখন নিরপেক্ষ থাকার সুযোগ থাকে না। অবশ্যই একটি পক্ষকে বেছে নিতে হয়। যেমন স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় ‘নিরপেক্ষ অবস্থান’ বলে কিছু ছিল না। হয় পাকিস্তান না হয় বাংলাদেশ। তেমনি এখনও খালেদা জিয়াকে হয় গণতন্ত্রের না হয় যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষ নিতে হবে। যতদিন অবস্থান পরিষ্কার না করবেন ততদিন তিনি গণতন্ত্রের জন্য হুমকি হয়ে থাকবেন।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব আব্দুল জলিল, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি ওমর ফারুক, সাধারণ সম্পাদক শাবান মাহমুদ ও ভারপ্রাপ্ত তথ্য সচিব বক্তব্য রাখেন।
