ঈদে শাড়ি-কাপড় কেনাকাটার পাশাপাশি ঘরের জন্য বিভিন্ন পণ্য সামগ্রীরও প্রয়োজন পড়ে। বিশেষ করে ঘর সাজানোর নানা টুকিটাকি জিনিসের হরহামেশা দরকার পড়েই যায় নারীদের। দেশীয় পণ্যের সম্ভার নিয়ে নারী উদ্যোক্তাদের আয়োজনে জয়িতায় জমে উঠেছে এবারের ঈদের কেনাকাটা। রাজধানীর ধানমন্ডি-২৭ নম্বর সড়কে রাপা প্লাজায় চতুর্থ ও পঞ্চম তলায় জমজমাট আয়োজনে চলছে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম।
দেশীয় প্রাকৃতিক নির্ভেজাল পণ্য সামগ্রীর আয়োজনে বিছানার চাদর, রফতানিমুখী কার্পেট, নকশি কাঁথা, নারকেলের মালাইয়ের শো-পিচ, পাপস, কুসন, কুশনকাভার, টেবিল ম্যাট, ওয়ালম্যাট, বিভিন্ন পণ্যসামগ্রীর কাভার জয়িতায় এবার বেশি বিক্রি হচ্ছে। সুতি কাপড়ের ওপর নকশি কাঁথা, রাজশাহী সিল্কের নকশি কাঁথা জয়িতার অন্যতম আকর্ষণ। এসব কাঁথার দাম পড়বে ১২০০ টাকা থেকে ৩ হাজার টাকা। বেডকাভারের দাম পড়বে ১৫০০ টাকা থেকে ৩ হাজার টাকা।
ক্রেতাদের আকর্ষণ বাড়াতে জামদানি শাড়িতে ভিন্ন পাড় লাগিয়ে, এপ্লিক কিংবা হাতের কাজের বাড়তি কারুকাজ শাড়িগুলোকে করেছে আরো আকর্ষণীয়। আছে সুতি জামদানির থ্রি পিস, সিল্ক, হাফসিল্ক শাড়ি, এপ্লিক, ব্লক, বাটিক ও বুটিক করা থ্রিপিস, ফতুয়া, সিঙ্গেল কামিজ, ছোটদের ফ্রক, স্কাট, টপস। বাদ পড়েনি স্যান্ডেল, কানের দুল, হাতের বালা, গলার হাসুলি রূপার ও মেটালের গহনাও।
ষ্টলের কর্ণধাররা জানান, ঈদকে সামনে রেখে ঘর সাজানোর প্রায় সব কিছুই জয়িতার ফ্লোর দুটিতে পাওয়া যাচ্ছে। ঋতুর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শিশুদের জন্যে বিভিন্ন রঙ্গের পোশাক মিলবে এখানে। হাতে তৈরি সূচিকর্ম, বাঁশ, বেত, হোগলাপাতা, নারকেলের মালাই দিয়ে তৈরি শো-পিচ, তালের আঁশ, পাটের পুতুল, শো-পিস, পাটের ম্যাট, ফুলদানি, কয়েনপার্স পাওয়া যাচ্ছে।
পঞ্চমতলায় খাবারের মধ্যে রয়েছে, ক্যামিকেল মুক্ত মুড়ি, ঢেঁকি ছাঁটা লাল চাল, হাতে তৈরি চিড়া, তিলের তেল, সরিষার তেল, ঘি, আটা, আচার, মুসর ডাল, মাসকালায়ের ঢাল, চালের গুঁড়া, সব ধরনের মসলা, চিড়া-কাউন এর মোয়া, নারকেলের নাড়ুর মত দেশীয় ঐতিহ্যবাহী খাবারের সমারহ।
দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে ছিঁটিয়ে থাকা ক্ষুদ্র নারী উদ্যোক্তাদের পণ্য সামগ্রী বাজারজাত করতেই মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহায়তায় ২০১১ সালে জয়িতা প্রতিষ্ঠিত হয় ।
