মনপুরায় ভাঙা বেড়িবাঁধ দিয়ে ঢুকছে জোয়ারের পানি

আপডেট : ২৮ জুলাই ২০১৩, ২২:৩৫
পূর্ণিমায় জোয়ারে বেড়ে গেছে মেঘনা নদীর পানি। এ কারণে জেলার মনপুরা উপজেলায় দ্বিতীয়বারের মত ওয়াপদার প্রায় ২ কিলোমিটার ভাঙ্গা বেড়িবাঁধ দিয়ে দক্ষিণ সাকুচিয়া, হাজিরহাট ও মনপুরা ইউনিয়নে জোয়ারের পানি আসছে। এর ফলে ১০ গ্রামের প্রায় ২০ হাজার মানুষ পানিবন্দী অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছে। এছাড়া দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানি ও খাদ্য সংকট। পানিবন্দী থাকায় নষ্ট হয়েছে আমন ধানের বীজতলাসহ আউশ ধানের ফসল। বর্তমানে প্রায় ৫ শতাধিক পরিবার খোলা আকাশের নিচে বাস করছে। এদিকে চরাঞ্চলগুলোতে জোয়ারের পানি অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় ঘরবাড়ি তলিয়ে গেছে। ফলে প্লাবিত এলাকার মানুষ ঘর ছেড়ে আশ্রয় নিয়েছে উঁচু জায়গায়। প্লাবিত এলাকায় দেখা দিয়েছে খাদ্য ও পানির অভাব। এবার জোয়ারের পানিতে উপজেলার প্রায় ৫ হাজার ঘরবাড়ি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়। সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, পূর্ণিমায় জোয়ারে গত মাসের ২৫ জুন ৪নং দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়নের বাতির খাল, তালতলা, সূর্যমুখীসহ প্রায় দেড় কিলোমিটার ওয়াপদার বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে যায়। এ কারণে ঐ ইউনিয়নের প্রায় সবকয়টি গ্রাম পানিতে প্লাবিত হয়। বেড়িবাঁধ পুনঃনির্মাণ না করায় আবার গত মঙ্গলবার ৪নং দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়নের সবকয়টি গ্রাম পুনরায় তলিয়ে যায়। এবার জোয়ারের পানিতে ভেসে যায় পুকুরের মাছ। হয়েছে মানুষের বাড়িঘর নষ্ট। এখনো পানির নিচে তলিয়ে রয়েছে আমন ধানের বীজতলা। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এ উপজেলার মানুষ জোয়ারের পানি আসার পূর্বে ঘরবাড়ি ছেড়ে উঁচু জায়গায় কিংবা বেড়িবাঁধের ওপর আশ্রয় নেয়। ভাটি হলে আবার বাড়ি ফেরে। একইভাবে হাজিরহাট ইউনিয়নের সোনারচর, চরঞ্জান, চর মরিয়ম গ্রাম জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয়। এছাড়াও ১নং মনপুরা ইউনিয়নের রামনেওয়াজ বাজারের পশ্চিম ও পূর্বপাশের ভাঙ্গা বেড়িবাঁধ দিয়ে জোয়ারের পানিতে আন্দিরপাড়, মাছুয়াখালী, সীতাকুণ্ড ও ইশ্বরগঞ্জ গ্রামসহ পুরো ইউনিয়ন প্লাবিত হয়ে যায়। স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, বর্তমানে একদিকে বৃষ্টি অন্যদিকে বাড়ির উঠানে কিংবা ঘরের ভেতরে পানি উঠায় রান্না করতে পারছেন না প্লাবিত এলাকার মানুষ। রমজান মাসে অনেকেই রান্না করতে না পারায় ঠিকমত রোজা রাখতে পারছেন না। অনেক মহিলাকে কলস নিয়ে বিশুদ্ধ পানি আনতে বেড়িবাঁধ দিয়ে যেতে দেখা গেছে। এছাড়া বিচ্ছিন্ন চরকলাতলী, ঢালচর ও চরনিজামের মানুষ বর্তমানে খোলা আকাশের নীচে বাস করছে। প্লাবিত এলাকায় এখনো কোন ত্রাণ বা সাহায্য পৌঁছায়নি। দেখা যায়নি ভাঙ্গা বেড়িবাঁধ নির্মাণের কোন উদ্যোগ। তবে পানিবন্দী এলাকার দুর্গত মানুষের জন্য ২৫ টন চাল বরাদ্দ পেয়েছে বলে উপজেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন অফিস সূত্রে জানা যায়।