রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন (রাসিক) নির্বাচনের বড় সফলতা আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে ধরে রাখতে রীতিমতো আটঘাট বেঁধে মাঠে নামছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোট। তাদের ধারণা, আসন্ন দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বৃহত্তর রাজশাহীর ১৯টি সংসদীয় আসনে সিটি নির্বাচনের প্রভাব পড়বে। নগরীর পরিবেশ উন্নয়ন ও সৌন্দর্য বৃদ্ধিসহ উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে ব্যাপক অবদান সত্ত্বেও রাসিক নির্বাচনে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনের পরিবর্তে যুবদল নেতা মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলকেই বেছে নিয়েছেন ভোটাররা। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ঐক্যের কারণেই ফলাফল পক্ষে গেছে বিএনপির। একারণেই তারা উজ্জীবিত। ১৮ দলীয় জোট সংসদ নির্বাচনে বৃহত্তর রাজশাহীর সবগুলো আসন পুনঃরুদ্ধারের লক্ষ্যে কাজ করছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
অন্যদিকে রাসিক নির্বাচনে নিজেদের ভুল ও মতবিরোধ থেকে শিক্ষা নিয়ে দলের তৃণমূল নেতাকর্মীদের সক্রিয় করার মাধ্যমে আওয়ামী লীগের নেতারা বৃহত্তর রাজশাহীর সবগুলো আসন ধরে রাখার চেষ্টা করছেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। ২০০৮ সালের রাসিক নির্বাচনে খায়রুজ্জামান লিটনের ব্যাপক বিজয়ের প্রভাব পড়েছিল বৃহত্তর রাজশাহীর চার জেলার ১৯টি সংসদীয় আসনে। এসব আসনের সবগুলোতেই ২০০৮ সালের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিজয়ী হয়েছিলেন আওয়ামী লীগ ও মহাজোটের প্রার্থীরা। এবার এই ফল নিজেদের পক্ষে যাবে বলে আশা করছে ১৮ দলীয় জোট।
রাজশাহীতে এখই নির্বাচনী হাওয়া লাগতে শুরু করেছে সম্ভাব্য প্রার্থীদের গায়ে। তারা বিভিন্নভাবে মনোনয়ন তত্পরতা শুরু করেছেন। জানা গেছে, রাজশাহী-১ (তানোর-গোদাগাড়ী) আসনে আওয়ামী লীগ থেকে বর্তমান এমপি ও শিল্প প্রতিমন্ত্রী ওমর ফারুক চৌধুরী, বিএনপি থেকে সাবেক মন্ত্রী ও এমপি ব্যারিস্টার আমিনুল হক, জেলা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাজেদুর রহমান মাকর্নী ও সাবেক যুগ্ম-সচিব গোলাম মুর্তুজা, জামায়াতের অধ্যাপক মুজিবুর রহমান; রাজশাহী-২ (সদর) আসনে মহাজোট থেকে বর্তমান এমপি ফজলে হোসেন বাদশা, বিএনপি থেকে যুগ্ম-মহাসচিব, সাবেক মেয়র ও এমপি মিজানুর রহমান মিনু এবং দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিএনপির আরেক যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী; রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনে আওয়ামী লীগ থেকে বর্তমান এমপি মেরাজ উদ্দিন মোল্লা, সংরক্ষিত সংসদ সদস্য জিনাতুন নেতা তালুকদার, কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য মিসেস আক্তার জাহান, জেলা আওয়ামী লীগের এক নম্বর যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ, জেলা কৃষক লীগ সভাপতি রবিউল আলম বাবু; বিএনপি থেকে জেলার সহ-সভাপতি তোফাজ্জল হোসেন তপু, সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট কামরুল মনির, মহানগর সাধারণ সম্পাদক শফিকুল হক মিলন, সিনিয়র সহ-সভাপতি নজরুল হুদা, সাংগঠনিক সম্পাদক মতিউর রহমান মন্টু ও যুবদলের কেন্দীয় কমিটির সদস্য রায়হানুল আলম রায়হান; মহানগর জামায়াতের আমির আতাউর রহমান, ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি ডা. মোহাম্মাদ জাহাঙ্গীর এবং মহানগর কমিটির সাবেক সহকারী সেক্রেটারি ও পবা উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোকবুল হুসাইন; রাজশাহী-৪ (বাগমারা) আসনে আওয়ামী লীগ থেকে বর্তমান এমপি ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হক ও এ্যাডভোকেট ইব্রাহিম হোসেন; বিএনপি থেকে সাবেক মন্ত্রী সরদার আমজাদ হোসেন, সাবেক এমপি আবু হেনা, বিএনপি নেতা আব্দুল গফুর, উপজেলা চেয়ারম্যান ডিএম জিয়াউর রহমান জিয়া; রাজশাহী-৫ (পুঠিয়া-দুর্গাপুর) আসনে আওয়ামী লীগ থেকে বর্তমান এমপি কাজী আবদুল ওয়াদুদ দারা, সাবেক এমপি তাজুল ইসলাম মোহাম্মদ ফারুক ও ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা আহসানুল হক মাসুদ; বিএনপি থেকে জেলার সভাপতি নাদিম মোস্তফা ও অধ্যাপক নজরুল ইসলাম অথবা তার ছেলে ব্যারিস্টার আবু বাক্কার সিদ্দিক রাজন, রাজশাহী-৫ (বাঘা-চারঘাট) আসনে আওয়ামী লীগ থেকে বর্তমান এমপি শাহরিয়ার আলম, স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি এ্যাডভোকেট লায়েব উদ্দিন লাবলু, সাবেক এমপি রায়হানুল হক; বিএনপি থেকে সাবেক এমপি আজিজুর রহমান, চারঘাট উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও চেয়ারম্যান আবু সাঈদ চাঁদ ও বাঘা উপজেলা বিএনপির সভাপতি নুরুজ্জামান খান মানিক নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার আশায় গণসংযোগ শুরু করছেন।
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে উজ্জীবিত বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীরা। অন্যদিকে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখার চেষ্টায় আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীরা নির্বাচনী এলাকা চষে বেড়াচ্ছেন। দলীয় কেন্দ্রীয় কর্মসূচির বাইরে সম্ভাব্য প্রার্থীদের মতবিনিময়, ইফতার মাহফিল ও গণসংযোগের মাধ্যমে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালাচ্ছেন। এমনকি দলীয় মনোনয়ন লাভের জন্য দৌড়ঝাপ শুরু করে দিয়েছেন। এছাড়া সম্ভাব্য প্রার্থীরা নিজ নিজ এলাকায় পোস্টার সাটিয়ে জনগণকে রমজান ও ঈদের আগাম শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন। প্রতিদিন কোনো না কোনো বাজার, মোড় কিংবা জনবহুল এলাকায় সম্ভাব্য প্রার্থীদের উপস্থিতিতে ইফতার পার্টি জমে উঠছে। সবমিলিয়ে রাজশাহীর ৬টি নির্বাচনী এলাকাতেই চলে এসেছে আগাম উত্সবের আমেজ।
