মিসরে ব্রাদারহুড রাজপথ ছাড়বে না

আপডেট : ২৮ জুলাই ২০১৩, ২২:৩৬
মিসরের ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসির সমর্থকরা সরকারি হুমকি উপেক্ষা করে রাজধানী কায়রোয় একটি মসজিদের আশেপাশে অবস্থান ধর্মঘট বজায় রেখেছেন। শনিবার নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে বহু মুরসি সমর্থক নিহত হওয়া সত্ত্বেও দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গিকার করেছেন। শনিবারের ব্যাপক প্রাণহানির পর পরিস্থিতি এখনো শান্ত রয়েছে। খবর বিবিসি ও এএফপির। মুরসির রাজনৈতিক দল মুসলিম ব্রাদারহুডের মুখপাত্র জিহাদ আল-হাদাদ বলেন, কায়রোর পূর্বপ্রান্তের রাবা আল-আদাওয়ো মসজিদের চারপাশে হাজার হাজার নারী, পুরুষ এবং শিশুরা শান্তিপূর্ণ অবস্থান নিয়েছেন। ব্রাদারহুডের সমর্থন দিন দিন বাড়ছে উল্লেখ করে জিহাদ বলেন, প্রয়োজনে এক বছরের বেশি পর্যন্ত আমরা অবস্থান করবো। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ ইব্রাহিম অবস্থান ধর্মঘট প্রতিহত করার ঘোষণা করার পর মুরসি সমর্থকরা মসজিদের আশপাশে ব্যারিকেড জোরদার করেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, মসজিদের ভেতরে ওই অবস্থান কর্মসূচি জনগণের জন্য বিপজ্জনক। সরকার শিগগিরই বিষয়টির সুরাহা করবে। ব্রাদারহুডের বক্তারা শনিবার রাতে বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে বলেন, তারা তাদের দাবি থেকে এক চুলও সরবেন না। তারা প্রেসিডেন্ট পদে মুরসির পুনর্বহাল চান। কায়রোর অন্যান্য জায়গা থেকে খণ্ড খণ্ড সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে। পোর্ট সাঈদে মুরসির এক সমর্থকের জানাজায় গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। মুরসির সমর্থকরা দাবি করছেন- নিহতের সংখ্যা ১০০রও বেশি। ডাক্তারদের কাছ থেকে নিহতের একই তথ্য পাওয়া গেছে। তবে সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় দাবি করছে- নিহতের সংখ্যা ৭৮ জন। কায়রোতে এরকম একটা রক্তাক্ত সংঘাতের আশঙ্কা করা হচ্ছিল গত কদিন ধরেই; কিন্তু কিভাবে এই সংঘাত শুরু হয় তা নিয়ে পরষ্পরবিরোধী বক্তব্য পাওয়া গেছে। তবে ব্রাদারহুড অভিযোগ করছে- সামরিক বাহিনী হত্যার উদ্দেশ্যে জনতাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ব্রাদারহুডের সমর্থকদের রাস্তা ছাড়ার নির্দেশ দেয়ার কয়েক ঘণ্টা পর নিরাপত্তা বাহিনী তাদের সরিয়ে দিতে অভিযান শুরু করে। ইব্রাহিম তারেক নামে কায়রোর একজন ব্যবসায়ী জানান, বিক্ষোভকারীরা সিক্সথ অব অক্টোবর ব্রিজের দিকে আসতে থাকলে পুলিশ তাদের ব্রিজের নিচে থামিয়ে দেয়। বিক্ষোভকারীরা সামনে এগুতে শুরু করলে পুলিশ ব্যাপক সংখ্যায় কাঁদানে গ্যাস ছোঁড়ে। এদিকে দেশটির সর্বোচ্চ সুন্নি নেতা আল-আজহার মসজিদের ইমাম বিষয়টি তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন। গত ৩রা জুলাই মিসরের সেনাবাহিনী মুরসিকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর এটাই এ যাবত্কালের সবচেয়ে ভয়াবহ সহিংসতার ঘটনা। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি রক্তপাতের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এক বিবৃতিতে তিনি শান্তিপূর্ণ সমাবেশ ও বাক স্বাধীনতার অধিকারের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের জন্য দেশটির কর্তৃপক্ষকে আহ্বান জানিয়েছেন। মিসরের ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ আল বারাদিও এ ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন। তার ভাষায়, ‘ব্যাপক শক্তি প্রদর্শন’ করা হয়েছে। বামপন্থি ও নিরপেক্ষ ব্যক্তিদের জোট ন্যাশনাল স্যালভেশন ফ্রন্ট প্রাণহানির ঘটনায় গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তবে জোটটি মুসলিম ব্রাদারহুডের বিরুদ্ধে উস্কানিমূলক কর্মকাণ্ডেরও অভিযোগ করেছেন। তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী রিসেফ তায়িপ এরদোগান মিসরের ঘটনাকে হত্যাযজ্ঞ উল্লেখ করে এর নিন্দা জানিয়েছেন। তবে মিসরের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ছাড়া আর কিছু ব্যবহার করেনি। একইসঙ্গে ইসলামপন্থিদের বিরুদ্ধে নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণের অভিযোগ করা হয়।