আজ ১৯ রমজান। আমরা মাগ-ফেরাতের দশকের প্রায় শেষ অংশে চলে এসেছি। আর মাত্র একদিন পরেই শুরু হবে নাজাতের দশক। পবিত্র রমজান মাস আত্মশুদ্ধির মাস, মানসিক উত্কর্ষ সাধনের মাস ও দৈহিক সুষমা পূর্ণতার মাস। এ মাসেই মুমিন আধ্যাত্মিক সাধানার চরম উত্কর্ষ লাভ করেন। আর এ মাসেই রয়েছে এমন একটি রাত, যা হাজার মাস থেকে উত্তম। সেই রাত্রির পূর্ণ সাওয়াব লাভ করার জন্য ইতিকাফ-এর গুরুত্ব ও উপকারিতা অপরিসীম।
কেননা দুনিয়ার সব রকম ঝামেলা থেকে নিজেকে মুক্ত করে, নিভৃতে আল্লাহর ইবাদত করার জন্য ইতিকাফ করা হয়। ইতিকাফকারী পুরুষ ও মহিলা বহু ধরনের গুনাহ থেকে বেঁচে থাকতে পারেন। বান্দা ইতিকাফ অবস্থায় আল্লাহতালার দরবারে উপস্থিত থাকেন। এজন্য আল্লাহর কাছে তিনি খুবই মর্যাদাসম্পন্ন হন এবং আল্লাহতায়ালা তাকে রহমত অনুগ্রহ ও ক্ষমার দৃস্টিতে দেখেন। বিশেষ করে রমজান মাসে ইতিকাফের ফযীলত ও গুরুত্ব অত্যধিক। উম্মুল মুমেনীন হয়রত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত্ল তিনি বলেন, রসূল (স.) রমজানের তৃতীয় দশক আগমন করলে সারারাত জেগে থাকতেন, নিজের পরিবার-পরিজনকে জাগিয়ে রাখতেন, (ইবাদত-বন্দেগীতে) কঠোর পরিশ্রম করতেন এবং উম্মুল মুমেনীনগণ থেকে দূরে থাকতেন (মুসলিম)।
হয়রত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূল (রা.) রমজানের তৃতীয় দশকে পরিশ্রম করতেন, যে রকম কঠোর পরিশ্রম অন্য সময়ে করতেন না। (মুসলিম) হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (সা.) প্রত্যেক রমজানে দশদিন ইতিকাফ করতেন, কিন্তু যে বছর তিনি ইনতিকাল করেছেন সে বছর বিশদিন ইতিকাফ করেছেন। (বুখারী)
হযরত উবাই ইবনে কাব (রা.) থেকে বর্ণিত যে, রসূল (স.) রমজানের শেষ দশদিন ইতিকাফ করতেন। কিন্তু এক বছর তিনি ইতিকাফ করেননি, এজন্য পরের বছর ২০ দিন ইতিকাফ করেছেন (আবু (দাউদ)। হযরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত আছে যে, রসূল (স.) সর্বদা রমজানের শেষ দশদিন ইতকাফ করতেন। কিন্তু এক বছর তিনি সফর করেছিলেন সেজন্য পরের বছর বিশদিন ইতিকাফ করেছেন (ইবনমাজা)। আবদুল্লাহ ইব্ন ওমর (রা.) বলেন, রসূল (স.) রমজানের শেষ ১০ দিন ইতিকাফ করতেন। বর্ণনাকারী রাফি (রা.) বলেন, আবদুল্লাহ ইব্ন ওমর (রা.) আমাকে মসজিদের সেই স্থানটি দেখিয়েছে যেখানে রসূল (স.) ইতিকাফ করেছেন (ইব্ন মাজা)। হযরত ইব্ন ওমর (রা.) রসূল (স.) থেকে বর্ণনা করেন, রসূল (স.) যখন ইতিকাফ করতেন তখন তার জন্য বিছানা বিছানো হতো (আবু লুবাবা ইব্ন মুনযির (রা.)-এর তাওবার খুঁটির পাশে (ইব্ন মাজা)। রমজানের শেষ দশদিন ইতিকাফ যা সুন্নাতে মুয়াক্কাদা কিফায়া। মহল্লাবাসীর কোন একজন তা আদায় করলে অন্য সকলে দায়মুক্ত হবে। আর কেউ আদায় না করলে সকলেই তরকে সুন্নাতের জন্য দায়ী হবে। আল্লাহপাকের সাথে বান্দার সেতুবন্ধনের শ্রেষ্ঠতম মাধ্যম হলো ইতিকাফ। বিশেষ করে লাইলাতুল কদরের পূর্ণ সওয়াব হাসিল করার জন্য খালেছ নিয়তে ইতিকাফে বসতে হবে। আল্লাহ্পাক আমাদের সেই তাওফীক দান করুন্ল আমিন।
ই-মেইল: [email protected]
