হাইওয়েতে পণ্য পরিবহন এবং যাত্রীদের কাছ থেকে কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সব ধরনের চাঁদাবাজি বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। সেতু বিভাগের সচিব ও আইজিপিকে এ নির্দেশ দেয়া হয়েছে। একইসঙ্গে চাঁদাবাজি বন্ধে কি পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে তা প্রতিবেদন আকারে আদালতে দাখিল করতেও বলা হয়েছে। বিচারপতি কাজী রেজাউল হক ও বিচারপতি এবিএম আলতাফ হোসেনের ডিভিশন বেঞ্চ গতকাল রবিবার স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে এই আদেশ দেন। এছাড়া পণ্য পরিবহনে চাঁদাবাজি অবিলম্বে বন্ধের কেন নির্দেশ দেয়া হবে না তাও জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে আদালত। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে স্বরাষ্ট্র সচিব, বাণিজ্য সচিব, যোগাযোগ সচিব, সেতু বিভাগের সচিব, আইজিপি, ডিআইজিকে (হাইওয়ে পুলিশ) রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
প্রসঙ্গত শনিবার একটি জাতীয় দৈনিকে ‘পণ্যের দাম বাড়াচ্ছে পুলিশের চাঁদাবাজি’ এবং ‘পথে পথে চাঁদাবাজি’ শিরোনামে দুটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশে সবজির একটি বড় উত্স বগুড়ার মহাস্থান হাট। বগুড়া শহরের ১২ কিলোমিটার উত্তরে রংপুর-ঢাকা মহাসড়কে অবস্থিত এই হাট থেকে ঢাকা বা চট্টগ্রামে আসতে আসতেই সবধরনের সবজির দর বেড়ে যাচ্ছে ১০ থেকে ২০ গুণ পর্যন্ত। এর বড় কারণ পণ্য পরিবহনের সময় পথে পথে চাঁদাবাজি। হিসেবটা এ রকম—বগুড়ার মহাস্থান হাট থেকে চট্টগ্রামের রিয়াজউদ্দিন বাজারের দূরত্ব ৪৩৯ কিলোমিটার। এজন্য ট্রাক ভাড়া দিতে হয় ৩০ হাজার টাকা। এর বাইরে দীর্ঘ এই মহাসড়কের পথে পথে পণ্যবাহী একটি ১০ টনের ট্রাককে চাঁদা দিতে হয় প্রায় সাড়ে ২২ হাজার টাকা। প্রতিবেদন দুটি আমলে নিয়ে হাইকোর্ট এ আদেশ দেয়। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট বিশ্বজিত রায় উপস্থিত ছিলেন।
