মুলতবি আবেদন

সালাহউদ্দিন কাদেরের বিরুদ্ধে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু

আপডেট : ২৮ জুলাই ২০১৩, ২২:৩৯
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী এমপি’র বিরুদ্ধে মামলায় যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু করেছে রাষ্ট্রপক্ষ। গতকাল রবিবার বিচারপতি এটিএম ফজলে কবীরের নেতৃত্বাধীন যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ মামলার সাক্ষ্য-প্রমাণের বিষয়ে যুক্তি উপস্থাপন করেন রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি জেয়াদ আল মালুম ও সুলতান মাহমুদ। যুক্তি উপস্থাপন অসমাপ্ত অবস্থায় মামলার কার্যক্রম আজ সোমবার পর্যন্ত মুলতবি করা হয়েছে। এদিকে, প্রধান বিচারপতিকে লেখা সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি শামীম হাসনাইনের একটি চিঠি সংযুক্ত করে মামলার কার্যক্রমে মুলতবি চেয়ে আবেদন করেছেন সালাহউদ্দিন কাদেরের আইনজীবী ব্যারিস্টার ফখরুল ইসলাম। তিনি ট্রাইব্যুনালে বলেন, এর আগের মুলতবি আবেদনের সময় বিচারপতি শামীম হাসনাইনের লেখা চিঠিটি আমরা প্রদর্শন করতে পারিনি। কিন্তু এবার বিচারপতি শামীম হাসনাইনের চিঠিটি পেয়েছি। তা আবেদনপত্রের সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়েছে। চিঠিতে বিচারপতি শামীম হাসনাইন সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর পক্ষে ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দেয়ার বিষয়ে তার আগ্রহের কথা জানিয়েছেন। গত ২২ জুলাই প্রধান বিচারপতি বরাবর এ চিঠি লেখেন বিচারপতি হাসনাইন। চিঠিতে বিচারপতি শামীম হাসনাইন লিখেছেন, আমি জানতে পেরেছি যে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযুক্ত সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী সাফাই সাক্ষী হিসেবে আমার নাম দিয়েছেন। আমি স্বীকার করছি যে, পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয়ে আমি সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী সহপাঠী থাকায় আসামিপক্ষের সাক্ষী হিসেবে আমার নাম দেয়া হয়েছে। সালাহউদ্দিন কাদের ১৯৭১ সালের মে মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে আগস্ট মাস পর্যন্ত পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে ছিলেন। আমার কয়েকজন সহকর্মী বিচারপতি বলেছেন, আমি হাইকোর্ট বিভাগের একজন বর্তমান বিচারপতি হওয়ায় কোনো আদালতে সাক্ষী হিসেবে উপস্থিত হওয়ার ক্ষেত্রে বাধা রয়েছে। একদিকে পেশাগত বিধি মানার বাধ্যবাধকতা ও অন্যদিকে বিবেকের দায় আমার মধ্যে কাজ করছে। এ অবস্থায় আমি আপনার পরামর্শ ও সিদ্ধান্ত চাইছি। এ বিষয়ে আপনার যে কোন সিদ্ধান্তে আমার সম্মতি থাকবে। চিঠির এই বিষয়বস্তুর কথা উল্লেখ করে ব্যারিস্টার ফখরুল বলেন, বিধি অনুযায়ী ট্রাইব্যুনালে এসে বিচারপতি শামীম হাসনাইনের সাক্ষ্য দেয়ার জন্য আমরা পর্যাপ্ত সময়ের আবেদন করছি। তখন ট্রাইব্যুনাল বলেন, এ আবেদনের শুনানি গ্রহণের প্রয়োজন থাকলে আগামীকাল (সোমবার) কার্য তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে। গতকাল যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু করেন জেয়াদ আল মালুম। তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি সেনারা এদেশে নৃশংসতম হত্যাকাণ্ড চালায়। এ সময় জামায়াতে ইসলামী, মুসলিম লীগসহ কয়েকটি রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা পাকিস্তানি সেনাদের সহায়তা করে। তিনি বলেন, আজ ট্রাইব্যুনালে বর্তমান সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন কাদেরের বিচার হচ্ছে না। বরং ১৯৭১ সালে মুসলিম লীগ নেতা ফজলুল কাদের চৌধুরীর ছেলের বিচার হচ্ছে। এর পর সুলতান মাহমুদ সীমন একে একে তিনটি অভিযোগের বিষয়ে সাক্ষীদের দেয়া সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে ট্রাইব্যুনালে যুক্তি উপস্থাপন করেন। তিনি দাবি করেন, এ তিনটি অভিযোগে রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষীদের দেয়া সাক্ষ্য মিথ্যা প্রমাণ করতে পারেনি আসামিপক্ষ। এ সময় সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত ছিলেন।