রাজশাহীতে টিসিবি ডিলাররা বিপাকে

আপডেট : ২৯ জুলাই ২০১৩, ২১:৪৬
চলতি রমজানের শুরু থেকেই রাজশাহীতে নিত্যপণ্যের দাম স্থিতিশীল রয়েছে। এমনকি কোন কোন পণ্যের দাম নিম্নমুখী। বিশেষ করে টিসিবির মাধ্যমে যেসব পণ্য খোলাবাজারে বিক্রি শুরু করা হয়, সেসব পণ্যের দাম দফায় দফায় কমছে। এতে বিপাকে পড়েছেন মজুতদার ও টিসিবি ডিলাররা। রাজশাহী মহানগরী ও পার্শ্ববর্তী বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, চলতি রমজানের আগেই টিসিবি’র পণ্য বাজারজাত শুরু হওয়ায় অসাধু ব্যবসায়ীরা সুবিধা করতে পারেননি। টিসিবির মাধ্যমে নিত্যপণ্য বাজারজাত শুরুর কারণে আরেক দফা দাম কমেছে চিনি, ছোলা, ভোজ্যতেল ও ডালের দাম। টিসিবি’র ডিলাররা খোলাবাজারে প্রতিকেজি চিনি ৪৪ টাকা, মসুর ডাল ৭০ টাকা, ছোলা ৫৬ টাকা, প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন ১০৫ টাকা, বোতলজাত ১২১ টাকা, পামতেল ৭৫ টাকায় বিক্রি করছেন। আর খুচরা বাজারে প্রতিকেজি চিনি ৪২ থেকে ৪৪ টাকা, মসুর ডাল ৬৮ থেকে ৭০ টাকা, ছোলা ৫০ থেকে ৫৬ টাকা, খোলা সয়াবিন ১০০ থেকে ১০৫ টাকা, বোতলজাত ১২০ থেকে ১৩০ টাকা ও পামতেল ৭০ থেকে ৭২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। টিসিবি ও খুচরা বাজারে এসব পণ্যের দাম প্রায় কাছাকাছি থাকায় এবং খুচরা বাজারে কোন কোন পণ্যের দাম টিসিবির চেয়ে কম হওয়ার কারণে টিসিবির ডিলারদের কাছে ক্রেতাদের তেমন ভিড় নেই। ফলে বেকায়দায় পড়েছেন টিসিবির ডিলাররা। তারা বলছেন এসব পণ্য এখন বাজারে যে দামে বিক্রি হচ্ছে সে দামে বিক্রি করলে তাদের লোকসান দিতে হবে। টিসিবির রাজশাহী আঞ্চলিক প্রধান মাহবুবুর রহমান তালুকদার স্বীকার করেন, কিছু পণ্যের দাম টিসিবির চেয়ে খুচরা বাজারে কম। এক্ষেত্রে ডিলারদের লোকসানের বিষয়টি সরকারের বিবেচনার বিষয়। বাজারে দাম কম থাকায় টিসিবির পণ্য উত্তোলনে ডিলারদের আগ্রহ কম। নগরীতে ৮২ জনসহ বিভাগে টিসিবির ৪০২ ডিলার নিয়োগ করা হয়েছে। ঈদের আগ পর্যন্ত সকল ডিলারকে ৩টি করে ডিও দেয়া হয়েছে। রমজানের আগে প্রথম ডিওতে পণ্য উত্তোলন করেন প্রায় ১শ’ ডিলার, ২য় ডিওতে পণ্য উত্তোলন করেন প্রায় ১৫ ডিলার। গত ২২ জুলাই তৃতীয় ডিও’র পণ্য উত্তোলন শুরু হয়েছে। কিন্তু এতে শনিবার পর্যন্ত পণ্য উত্তোলন করেছেন মাত্র দু’জন ডিলার। এদিকে খুচরা বাজারে নিত্যপণ্যের দাম কম থাকায় বেকায়দায় পড়েছেন মজুতদাররা। রমজান উপলক্ষে অন্যান্য বছরের মতো এবারো যারা বিভিন্ন পণ্য মজুদ করেছিলেন, দাম কমার কারণে তাদের লোকসান গুণতে হচ্ছে। তবে রমজানের শুরুতে পেঁয়াজ, কাঁচামরিচ ও মুরগির দাম বাড়লেও চলতি সপ্তাহে দাম কমেছে। গতকাল সোমবার খুচরা বাজারে প্রতিকেজি দেশি পেঁয়াজ ৪২ টাকায়, ভারতীয় পেঁয়াজ ৩৩/৩৪ টাকায়, কাঁচামরিচ ৬০ টাকায়, ব্রয়লার মুরগি ১৪০ টাকায়, সোনালী ২৫০ টাকায় ও দেশি মুরগি ২৯০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। গতকাল খুচরা বাজারে প্রতিকেজি মোটাচাল গুটিস্বর্ণা ৩২/৩৩ টাকা, লাল স্বর্ণা ও পারিজা ৩৩/৩৪ টাকা, বিআর-আটাশ নতুন ৩৪/৩৭ টাকা, মিনিকেট ৩৮/৪৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে । সবজির মধ্যে প্রতিকেজি আলু ১২ টাকা, বেগুন ২৫/৩০ টাকা, পটল ৬/৮ টাকা, শশা ৩০/৩৫ টাকা, ঢেঁড়স ১২/১৪ টাকা, পেঁপে ৫/১০ টাকা, মিষ্টিকুমড়া ১৪/২০ টাকা, করোলা ১৬/২০ টাকা, তরই (চিচিংগা) ১৪/২০ টাকা, লাউ প্রতিটি ১০/১২ টাকা, প্রতি হালি কলা ৮/১০ টাকা, লেবু ১০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। প্রতি কেজি মুগডাল ছোটদানা ১৩০, বড়দানা ৮০, এ্যাংকর ডাল ৪৪ টাকা, প্যাকেট আটা ৩৩/৩৪ টাকা, খোলা আটা ২৮/৩০ টাকা বিক্রি হয়েছে। তবে বাজারে মাছের দাম এখনো বেশি। প্রতিকেজি ছোট মাছ ২২০/৭৫০ টাকা, রুই-কাতলা ২১০/৩৫০ টাকা, সিলভার কার্প ১৩০/১৫০ টাকা, পাংগাস ১৩৫/১৬৫ টাকা, ইলিশ ৪৫০ থেকে ৮৫০ টাকা, গরুর মাংস ২৬০/২৮০ টাকা, খাসির মাংস ৪০০/৫০০ টাকা, প্রতি হালি সাদা ডিম ২৮ টাকা ও লাল ডিম ৩০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।