চরফ্যাশনে মিলছে না ইলিশ

দেনার বোঝা মাথায় নিয়ে পালিয়েছে ১০ হাজার জেলে

আপডেট : ২৯ জুলাই ২০১৩, ২১:৪৮
এখন শ্রাবণ মাস । জেলেদের হিসেবে ইলিশের ভরা মৌসুম । কিন্তু চরফ্যাশনের জেলেদের জালে ইলিশ মিলছে না। ফলে ঘাটে অলস সময় কাটাচ্ছে উপকূলের হতাশাগ্রস্ত ৬০ হাজার জেলে । দাদনের দায়ে দিশেহারা প্রায় ১০ হাজার জেলে পেশা ছেড়ে পালিয়ে গেছে। দাদনভুক্ত জেলেরা পালিয়ে যাওয়ায় আড়ত্ মালিকদের সহস্রাধিক ট্রলার ঘাটে পড়ে আছে । সামরাজ ঘাটের কামাল মাঝি জানান, ১৩ হাজার টাকা ট্রিপ খরচ করে মাছ বিক্রি করে পেয়েছেন ৩২শ’ টাকা। ঢালচর ঘাটের শহীদ মাঝি জানান, ৪০ হাজার টাকা ট্রিপ খরচ করে ৫টি মাছ নিয়ে তিনি ঘাটে ফিরেছেন। খলিল মাঝি জানান, দুইদিন সমুদ্রে থেকে ২৮ হাজার টাকার ডিজেল এবং ২০ জন স্টাফ খরচসহ ৪০ হাজার টাকা খরচ করে মাছ মিলেছে ১০টি। আড়তে এই ১০টি মাছ বিক্রি করে পেয়েছেন মাত্র ৩৮২৫ টাকা। সমুদ্রগামী অপর ট্রলারের মাঝি হালিম বয়াতী দুইদিনে প্রায় ৪০ হাজার টাকা খরচ করে ৫টি মাছ নিয়ে ঘাটে ফিরেছেন । বিক্রি করেছেন মাত্র ১৫৩০ টাকা। ঢালচর বেপারী ঘাটের মাঝি হান্নান বেপারী ১৭ জন স্টাফসহ দুইদিন নিকট সমুদ্রে জাল ফেলে ১২টি মাছ নিয়ে ঘাটে ফিরেছেন। সামরাজ ঘাটের আড়ত্ মালিক ইয়াছিন আরাফাত জানান, চরফ্যাশন উপকূলের বেতুয়া ,পাতিলা, বকসী , কচ্ছপিয়া, ঢালচর , খেজুর গাছিয়া , সামরাজ, বেড়ী ভাঙ্গা,কাঙালী ,ইলিশের এই মৌসুমে ৫০/৬০ হাজার জেলে রয়েছে । মৌসুমের শুরু থেকে এ পর্যন্ত ৩ মাসে ইলিশ শূন্যতায় হতাশ জেলেরা ঘাটে বসে অলস সময় কাটাচ্ছে। দাদনের টাকা সাধ্যের বাহিরে চলে যাওয়ায় মহাজনের দেনার আতংকে অনেক জেলে ট্রলার ছেড়ে পালিয়ে গেছে। ঢালচর ঘাটের বিসমিল্লাহ ফিসের হিসাবরক্ষক নূরে আলম জানান,তার আড়তে দাদনভুক্ত প্রায় দেড়শ’ জেলে পালিয়ে গেছে । আড়ত্ মালিকরা জানিয়েছেন, গোটা উপজেলায় দাদনের প্রায় ৬শ কোটি টাকা পরিশোধে ব্যর্থ হয়ে গত এক সপ্তাহে প্রায় ১০ হাজার জেলে পালিয়ে গেছে।