ঢাকার মতিঝিল ও গুলিস্থানে একসময় ছিনতাই চক্রের হোতারা অবস্থান করলেও এখন তারা ছড়িয়ে পড়েছে শহরের বিভিন্ন স্থানে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য স্থান যাত্রাবাড়ি, পল্টন, শাহবাগ, মালিবাগ, সাতরাস্তার মোড়, ফার্মগেট, আগারগাঁ, শ্যামলী, মিরপুর ১, মিরপুর ১০। ছিনতাইচক্রের সদস্যরা মোটর সাইকেলে চড়ে মহড়া দেয়। ওঁত পেতে থাকে রিকশা বা হেঁটে চলা কোনো ব্যক্তির হাতে ব্যাগ কিংবা মূল্যবান কোনো জিনিসপত্র আছে কিনা। সুযোগ-সুবিধা মতো পথচারী ও যাত্রীদের পিছু নেয় আর মোটর সাইকেলে বসে মূল্যবান জিনিসপত্র টেনে দ্রুত স্থান ত্যাগ করে। ছিনতাইয়ের কবলে পড়ে শুধু জিনিসপত্র খুইয়ে নিস্তার মেলে না অনেকের। কখনো কখনো আঘাত পেয়ে মৃত্যুশয্যায়ও যেতে হয়। অতি সমপ্রতি আগারগাঁ দিয়ে একজন মহিলা রিকশায় করে বাড়ি ফিরছিলেন। পিছনে আসা একটি মোটর সাইকেল মহিলাটির ভ্যানিটি ব্যাগ টেনেহিঁচড়ে নিয়ে পালিয়ে যায়। মহিলাটি মাথায় আঘাত পান। লুটিয়ে পড়েন রাস্তায়। হাসপাতালে টেস্ট করানো হলে ডাক্তার জানান মাথায় রক্ত জমাট বাধায় অস্ত্রপচার করা ছাড়া উপায় নেই। টানা তিন মাস হাসপাতালে চিকিত্সা করানোর পর এখন তিনি সুস্থ আছেন। মোটর সাইকেলে আরোহী ছিল দুই জন। খুব কাছেই আগারগাঁ পুলিশ বক্স থাকলেও ছিনতাইকারীদের ধরতে পুলিশের কোনো তত্পরতা দেখা যায়নি।
এছাড়া চলন্ত সিএনজির বাম্পারে দাড়িয়ে ঢুঁ মারা চক্রও সক্রিয়। সাধারণত ঢুঁ মারা চক্রের সদস্যদের বয়স চৌদ্দ থেকে পঁচিশের মধ্যে। ঢুঁ মারা চক্রের সদস্যরা সিএনজির পিছনের বাম্পারে দাঁড়িয়ে থাকে। চলন্ত অবস্থায় ব্লেড দিয়ে সিএনজির ছাদের প্লাস্টিকের বডি (ছাতি আকৃতির) কেটে হাত ঢুকিয়ে যাত্রীদের গলার চেন, মোবাইল টেনে নিয়ে দ্রুত নেমে পড়ে। আর এই ঢুঁ মারার স্থান হয় এমন জায়গা যেখান দিয়ে পালিয়ে যাওয়া খুব সহজ। ঢুঁ মারা চক্রের নিরাপদ স্থান হাতিরঝিল, সাতরাস্তার মোড়, কাকলি, বিশ্বরোড। সন্ধ্যার পর প্রায়শ ঢুঁ মারা চক্রের কবলে পড়তে হয় যাত্রীদের। ব্যস্ত নগরীর লোকসম্মুখে এসব ঘটনা ঘটলেও প্রত্যক্ষদর্শী যেমন দেখেও দেখে না তেমনি এখানেও পুলিশ নীরব ভূমিকা পালন করে। সাতরাস্তা মোড় ও মগবাজার দুই স্থানেই পুলিশ বক্স থাকলেও ঢুঁ মারা চক্র এখানে সক্রিয়।
মাঝে মাঝে পুলিশ বাহিনী পিছু নিয়ে এসব ছিনতাইচক্রের সদস্যদের পাকড়াও করতে সমর্থ হয়। কিন্তু আইনি ফাঁকফোকর দিয়ে এরা কিছুদিনের মধ্যেই জামিন পেয়ে আবারও জড়িয়ে পড়ে এই পেশায়। প্রতি বছর বিশেষ করে রমজান মাসে ছিনতাই বৃদ্ধি পায়। তাই এ ব্যাপারে কার্যকরী ও যথাযথ ব্যবস্থা নেবার জন্য সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
মো. মাসুদ জাবেদ সিকদার
মিরপুর, ঢাকা
