বাংলা একাডেমী দেশব্যাপী লোকসাহিত্য সংগ্রহের উদ্দেশ্যে ‘লোকজ সংস্কৃতি বিকাশ কর্মসূচি নামে একটি প্রকল্প হাতে নিলে ৬৪টি জেলায় ৬৪ জন ‘প্রধান সমন্বয়কারী’ নিয়োগ দেয়া হয়। জেলার আয়তনভেদে প্রত্যেক ‘প্রধান সমন্বয়কারী’র অধীনে ৩ থেকে ৬ জন করে সংগ্রাহক নিয়োগ দেয়া হয়। উদ্দেশ্য ৬৪ জেলার নিজ নিজ সংস্কৃতি নিয়ে ৬৪টি গ্রন্থ প্রকাশ করা। প্রত্যেক ‘প্রধান সমন্বয়কারী’কে নির্দেশ দেয়া হয় তারা যেন পাণ্ডুলিপি পুস্তক আকারে প্রকাশের উপযোগী করে বাংলা একাডেমীতে জমা দেন। ‘প্রধান সমন্বয়কারী’ নিজ নিজ জেলার সংগ্রহকারীদের কাছ থেকে পাণ্ডুলিপি সংগ্রহ করেন। সংগৃহীত পাণ্ডুলিপিগুলো একত্র করে তথ্য ও তত্ত্ব যাচাই করেন। তারপর পাণ্ডুলিপিটি সংশোধন, পরিবর্ধন ও পরিমার্জনপূর্বক গ্রন্থের আকারে প্রকাশের উপযোগী করে বাংলা একাডেমীতে জমা দেন। সম্প্রতি ময়মনসিংহ জেলার ‘লোকজ সংস্কৃতি বিকাশ কর্মসূচি’র আওতায় সংগৃহীত লোকসাহিত্য ‘বাংলাদেশের লোকজ সংস্কৃতি’ নামে একটি গ্রন্থ বাংলা একাডেমী প্রকাশ করেছে। এই গ্রন্থটির ‘প্রধান সম্পাদক’ হয়েছেন বাংলা একাডেমীর মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান। এবং ‘নির্বাহী সম্পাদক’ হয়েছেন বাংলা একাডেমীর সচিব মো. আলতাব হোসেন। আর ‘প্রধান সমন্বয়কারী’কে রাখা হয়েছে ‘সহযোগী সম্পাদক’ হিসাবে। বিষয়টি আমাদের বোধগম্য হচ্ছে না। একজন প্রতিষ্ঠান প্রধান কী করে তার দাপ্তরিক কাজের জন্য ব্যক্তিগত কৃতিত্ব নিতে পারেন? তিনি তো পাণ্ডুলিপিগুলো কোনো রূপ সংশোধন, পরিমার্জন ও পরিবর্ধন করেননি। তবে কী বিচারে তিনি ‘প্রধান সম্পাদক’ হবেন? আমাদেরকে ‘প্রধান সমন্বয়কারী’ হিসাবে নিয়োগ দেয়ার সময় মৌখিকভাবে বলা হয়েছিল, প্রত্যেক জেলার ‘প্রধান সমন্বয়কারী’ হবেন ঐ জেলা থেকে সংগৃহীত লোকজ সংস্কৃতি গ্রন্থের ‘প্রধান সম্পাদক’। সুতরাং ৬৪টি জেলার সংগৃহীত লোকজ সংস্কৃতি বিষয়ক প্রকাশিতব্য ৬৪টি গ্রন্থের ‘প্রধান সম্পাদক’ হবেন ঐ জেলার ‘প্রধান সমন্বয়কারী’। এ ব্যাপারে বাংলা একাডেমীসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
ড. মো. আবদুল করিম মিঞা,
সহযোগী অধ্যাপক, বাংলা,
আনন্দ মোহন কলেজ, ময়মনসিংহ
ও প্রধান সমন্বয়কারী
টাঙ্গাইল জেলা, লোকজ সংস্কৃতি বিকাশ কর্মসূচি,
বাংলা একাডেমী, ঢাকা
