মোবারক মাহে রমজান

আপডেট : ২৯ জুলাই ২০১৩, ২২:৫৭
আজ ২০ রমজান। মাগফেরাতের দশকের শেষ দিন। আগামীকাল থেকে শুরু হবে নাজাতের দশক। ফরজ নামাজান্তে মুনাজাতে ঈমানদার রোজাদারগণ বিগত জীবনের সকল ভুল-ভ্রান্তির কথা স্মরণ করে চোখের পানি ফেলে দরবারে ইলাহীতে ক্ষমা চাইবেন। আজীবন সত্য ও ন্যায়ের পথে অবিচল থাকার জন্য পরওয়ারদেগারের কাছে শপথ গ্রহণ করবেন। রমজানের সবচেয়ে বড় দান লাইলাতুল ক্বদর তালাশ করার জন্য আজকের দিনগত রাত হতেই ই’তেকাফে রাত্রি জাগরণ করে ইবাদত-বন্দেগীতে নিজেদেরকে নিয়োজিত করবেন। কেননা রসূল (স.) ক্বদর রাতের যে বিবরণ দিয়েছেন তা নাজাতের দশকের পাঁচটি বেজোড় রাতের মধ্যে নিহিত। তার প্রথম রাত আজ। যেহেতু বেজোড় পাঁচটি রাতের যেকোনো রাতে লাইলাতুল ক্বদর হতে পারে সে অনুযায়ী আজকের রাতটিও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। আমরা তো খেলাধুলা, বিভিন্ন অনুষ্ঠান দেখে পার্থিব অনেক কারণে রাত্রি জাগরণ করে থাকি। যেখানে পাঁচটি রাত নির্ধারিত। আর এর মধ্যে কোন একটি রাতে ক্বদর রয়েছে। যার ফজিলত হাজার মাস অর্থাত্ ৮৩ বছর ৪ মাস একাধারে ইবাদতের সওয়াবের চেয়েও অধিক ও জীবনের সকল গোনাহ হতে নিষ্কৃতি লাভের নিশ্চয়তা রয়েছে। তাহলে কেনো আমরা বছরে পাঁচটি রাত জাগরণ করে আল্লাহর ইবাদতের মাধ্যমে নিজেকে জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্ত করবো না? যখন রমজানের এই শেষ দশক আসতো তখন রসূল (স.) নিজে মসজিদে ই’তেকাফ করতেন। সে সময় তাঁর স্ত্রীরা ও সাহাবীরা ই’তেকাফ করতেন। একুশে রাত হতেই তাঁরা ক্বদর খুঁজতেন। রমজানের একটিমাত্র নির্দিষ্ট রাত সাতাশের রাতে কেবল লাইলাতুল ক্বদর অনুষ্ঠিত হয় না। বরং তা কখনো একুশ, কখনো তেইশ, কখনো পঁচিশ, কখনো সাতাশ আবার কখনো উনত্রিশের রাতে হয়ে থাকে। এজন্য এক সাহাবী আবু কিলাবাহ (রা.) বলেন, লাইলাতুল ক্বদর রমজানের শেষ দশকের বেজোড় রাতগুলোতে পরিবর্তিত হতে থাকে (মুসান্নাফ আবদুর রাযযাক - ৪র্থ খণ্ড -২৫২ পৃ:)। আর ঐ মহিমান্বিত রাতে কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে— যে রাতের মহিমা বর্ণনা করে একটি সূরা অবতীর্ণ হয়েছে— ‘আমি আল কুরআন নাজিল করেছি মর্যাদাপূর্ণ রাতে। তুমি কী জানো সেই (মর্যাদাপূর্ণ) রাত কি? মর্যাদাপূর্ণ এ রাতটি হাজার মাসের চেয়ে উত্তম। এতে (ফেরেশতা ও তাদের সরদার) রূহ তাদের মালিকের সব ধরনের আদেশ নিয়ে (জমিনে) অবতরণ করে। সে আদেশ বার্তাটি হচ্ছে চিরন্তন) প্রশান্তি, ঊষার আবির্ভাব পর্যন্ত থাকে (সূরা ক্বদর ১-৫ আয়াত)। সুতরাং আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা শেষ দশকের পাঁচটি বেজোড় রাতে বিনিদ্র অবস্থায় আমাদের ক্ষমা প্রার্থনা, দোয়া-মুনাজাত, জিকির-আজকার ও ইবাদত বন্দেগীর মাধ্যমে অতিবাহিত করে মহিমান্বিত রজনী ক্বদর বা মার্যাদা প্রাপ্ত হওয়ার সৌভাগ্য দান করুন, আমীন। ই-মেইল: [email protected]