‘বালি’ সুইজারল্যান্ডের জুতা তৈরির প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠানের দুই ধরনের জুতা আছে এলিফ্যান্ট রোডের এক্সিলেন্ট শোরুমে। বিক্রেতা ইব্রাহিম খলিল বলেন, ৫০ হাজার ও ৩৫ হাজার টাকার বেশ কয়েক জোড়া ‘বালি’ জুতা ঈদ উপলক্ষে বিক্রি হয়েছে। এমন ব্যতিক্রমী ব্যান্ডের জুতাও ঈদ উপলক্ষে বিক্রি হচ্ছে। ঈদ ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে নগরীর জুতার দোকানে বাড়ছে ভিড়। প্রচুর আগ্রহ নিয়ে ক্রেতারা জুতা কিনছেন বলে জানান বাটার রিটেইল ম্যানেজার বিশ্বজিত্ রায়। বিক্রেতারা বলেন, বাজারে ভাল মানের দেশি-বিদেশি জুতা থাকলেও দাম একটু বেশি। তবে মধ্যম দামের জুতার প্রতি ক্রেতাদের মনযোগ বেশি।
কেমন জুতা চাই
অ্যাপেক্স সুজের মার্কেটিং জেনারেল ম্যনেজার খন্দকার স্বনন শাহরিয়ার বলেন, এ বছর কালারফুল জুতার প্রতি সবার আগ্রহ বেশি। বরাবর মেয়ে ও শিশুরা কালারফুল জুতা কিনলেও এবার ছেলেদের নীল, সবুজ, লাল, মেরুন, চকলেট প্রভৃতি রঙের জুতা কিনতে দেখা যাচ্ছে। আড়ং’র মার্কেটিং ম্যানেজার আব্দুর রউফ বলেন, পাথরের জমকালো কাজ করা পেন্সিল হিল ও স্লিপারের প্রতি এবারের ঈদে তরুণীদের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। বাজার ঘুরে দেখা গেছে, পিউসোল, এক্সক্লুসিভ পেন্সিল হিল, স্লিপার, পাম্প সু, জারা, অপেরা, প্রভৃতি নামে থাইল্যান্ড, চীন, দুবাই ও পাকিস্তান থেকে আসা মেয়েদের জুতাগুলোর ভাল চাহিদা আছে। ছেলেদের এডিডাস, হাস পাপিস, নাইকি, কুমা, কাপ্পা প্রভৃতি বিদেশি ব্র্যান্ডের জুতার প্রতি আকর্ষণ বেশি। এর পাশাপাশি দেশে তৈরি জুতার কদরও কম নয়। রাজধানীতে বাটা, অ্যাপেক্স, ফরচুনা, জেনিস, বে এম্পোরিয়াল, রাদু, বিআইএস, পেগাসাসসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শাখাগুলোতে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় দেখা যায়। ঈদ উপলক্ষে বাটা ১ হাজার নতুন ডিজাইনের জুতা এনেছে। তাদের সাথে প্রতিযোগিতা করে অ্যাপেক্স এনেছে ৯ শতাধিক নতুন ডিজাইনের জুতা-স্যান্ডেল। শিশুদের জন্য আছে কমবেশি সব রকমের দেশি-বিদেশি জুতা। ধানমন্ডি থেকে বসুন্ধরা সিটি শপিং কমপ্লেক্সে এসে ফ্যালকন সুজ থেকে জুতা কিনলেন শায়লা ইসলাম। সাথে আছেন তার বোন ও মেয়ে। তিনি নিজের জন্য এক জোড়া মধ্যম হিলের জুতা নিলেন। আর কিনলেন মেয়ের জন্য পেন্সিল হিল ও বোনের জন্য স্লিপার জুতা। শায়লা বলেন, অনেক রকমের ডিজাইন থাকলেও রুচিশীল ডিজাইন কম। আর দাম একটু বেশিই।
দাম কেমন
বাটার রিটেইল ম্যানেজার বিশ্বজিত্ রায় বলেন, বাটার বিশাল পরিসরে পরিবারের সবার জন্য যেমন জুতা করে, তেমন সব শ্রেণীর কথাও মাথায় রাখে। তাই বাটায় ৩শ থেকে ১০ হাজার টাকা দামের জুতা পাওয়া যাবে। এছাড়া মেয়েদের স্লিপার জুতা পাওয়া যাবে ৬শ থেকে ১৫শ টাকার মধ্যে। স্টোনের কাজ করা স্লিপার ৩ হাজার টাকায়। আর মেয়েদের হিল জুতা ২ হাজার থেকে ৪ হাজার টাকার মধ্যে। অন্যদিকে ছেলেদের স্যান্ডেল পাওয়া যাবে ৭শ থেকে আড়াই হাজার টাকায়। আর দেশি-বিদেশি জুতা পাওয়া যাবে ৩ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকার মধ্যে। শিশুদের জুতা পাওয়া যাবে ৪শ থেকে ৪ হাজার টাকায়। এছাড়া গুলিস্তান, সদরঘাট, নিউমার্কেট, গাউছিয়া, ফার্মগেট, মোহাম্মদপুর, মিরপুরে মার্কেট ও ফুটপাতগুলোতে স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য আছে বিভিন্ন রকমের জুতা ও স্যান্ডেল। এসব জুতার দাম ১৫০ থেকে ২৫০ টাকা।
নকল হতে সাবধান
জুতার এ কেনাবেচা চলবে ঈদের দিন ভোর পর্যন্ত। আর এ সময়ে প্রচণ্ড ভিড়ে অসত্ ব্যবসায়ীরা দেশি-বিদেশি নানা ব্র্যান্ডের নামে নকল জুতা বিক্রি করে থাকে। তাদের কাছ থেকে সর্তক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন বাটার রিটেল ম্যানেজার বিশ্বজিত্ রায়। তিনি দাম দিয়ে নকল জুতা না বিক্রি করতে সংশ্লিষ্ট জুতার শোরুম ও ডিলারদের পরামর্শ দিয়েছেন।
