অধিকাংশ দল এখনো আয় ব্যয়ের হিসাব জমা দেয়নি

আপডেট : ২৯ জুলাই ২০১৩, ২৩:০৮
নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধিত ৩৯টি রাজনৈতিক দলের অধিকাংশ এখনো বার্ষিক আয়-ব্যয়ের হিসাব জমা দেয়নি। আগামীকাল বুধবার নির্ধারিত সময় থাকলেও ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও প্রধান বিরোধী দল বিএনপি সময় বৃদ্ধিরও আবেদন করেনি। সোমবার পর্যন্ত কমিশনে মাত্র ১৩টি রাজনৈতিক দল আয়-ব্যয়ের হিসাব জমা দিয়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইসি সচিবালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ সাদিক ইত্তেফাককে বলেন, ‘প্রতিবছরের ন্যায় এবারো আয়-ব্যয়ের হিসাব চেয়ে দলগুলোর কাছে পত্র দেয়া হয়েছে। ৩১ জুলাই পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দেয়া হয়েছে। আশা করছি, দলগুলো নির্ধারিত সময়ের মধ্যে হিসাব জমা দেবে। কমিশনের হিসাব অনুযায়ী গতকাল পর্যন্ত যে ১৩টি দল হিসাব জমা দিয়েছে সেগুলো হলো-লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি), গণফোরাম, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা), জাকের পার্টি, বাংলাদেশের সাম্যবাদী দল, গণতন্ত্রী পার্টি, বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশন, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি, ন্যাশনাল পিপলস পার্টি, বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-বাংলাদেশ ন্যাপ ও বাংলাদেশ মুসলিম লীগ-বিএমএল। সময় বৃদ্ধি চেয়ে আবেদন করেছে-বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি, জাতীয় পার্টি-জেপি, ঐক্যবদ্ধ নাগরিক আন্দোলন। গত ১১ জুন রাজনৈতিক দলের আয়-ব্যয়ের হিসাব চেয়ে নির্বাচন কমিশন থেকে তাগাদা পত্র দেয়া হয়। পত্রে ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে হিসাব জমাদানের জন্য সময়সীমা বেঁধে দেয়া হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আইনানুযায়ী আয়-ব্যয়ের হিসাব জমা দিতে আহ্বান জানানো হয় নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে। তবে প্রতিবছর কমিশনের বেঁধে দেয়া সময়ের মধ্যে হিসাব জমা দিচ্ছে না দলগুলো। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুযায়ী নিবন্ধিত প্রতিটি রাজনৈতিক দলকেই প্রতি বছর ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে আগের পঞ্জিকা বছরের আর্থিক লেনদেনের হিসাব কমিশনে জমা দেয়া বাধ্যতামূলক। এক্ষেত্রে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোকে রেজিস্টার্ড চার্টার্ড একাউন্টিং ফার্ম দ্বারা দলের হিসাব অডিট করাতে হবে। ২০০৮ সাল থেকে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ সংশোধন করে রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন এবং প্রতি বছরের আয়-ব্যয়ের হিসাব কমিশনে জমা দেয়ার বিধান বাধ্যতামূলক করা হয়। এ হিসাবে সদস্য সংগ্রহসহ কোন খাত থেকে কত টাকা আয় হয়েছে, কত টাকা ব্যয় হয়েছে, বিল-ভাউচারসহ তার পূর্ণাঙ্গ তথ্য কমিশনে জমা দিতে হবে। গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশ ১৯৭২-এর ৯০-এইচ (১) (সি) ধারায় বলা হয়েছে, কোন নিবন্ধিত দল পরপর তিন বছর তথ্য দিতে ব্যর্থ হলে কমিশন সংশ্লিষ্ট দলের নিবন্ধন বাতিল করতে পারবে।