কারখানার নিরাপত্তা কৌশল ঠিক করতে ইইউ প্রতিনিধি দল ঢাকায়

আপডেট : ২৯ জুলাই ২০১৩, ২৩:০৯
গার্মেন্টস কারখানার নিরাপত্তা রক্ষায় নেয়া ‘অ্যাকশন প্ল্যান’ বাস্তবায়নের কৌশল ঠিক করতে গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় ঢাকায় এসেছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের উদ্যোগে গঠিত ‘অ্যাকর্ড অন ফায়ার অ্যান্ড বিল্ডিং সেফটি ইন বাংলাদেশ’ এর প্রতিনিধি দল। এ সফরে আগামী ৯ মাসের মধ্যে পরিদর্শন কার্যক্রম বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হবে। চুক্তি বাস্তবায়নে গঠিত স্টিয়ারিং কমিটির কার্যক্রমও নির্দিষ্ট করা হবে। এ জন্য ইতিমধ্যে ৬ সদস্যের একটি স্টিয়ারিং কমিটি করা হয়েছে। এর মধ্যে পাঁচজন ইউরোপের ক্রেতা প্রতিষ্ঠান ও শ্রমিক অধিকার সংগঠনের সদস্য ও একজন রয়েছেন বাংলাদেশের শ্রমিক নেতা রায় রমেশ চন্দ্র। আজ মঙ্গলবার থেকে প্রতিনিধি দলটি এ খাতসংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠক শুরু করবে। এ লক্ষ্যে তারা বাংলাদেশ সরকার, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের রাষ্ট্রদূত, বিজিএমইএ, বিকেএমইএ, এমপ্লয়ার্স ফেডারেশন ও শ্রমিক সংগঠনের সঙ্গে বৈঠকে মিলিত হওয়ার কথা রয়েছে। বৈঠক হবে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও), বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট), রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক), ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সসহ বিভিন্ন দাতা সংস্থার সঙ্গে। গত এপ্রিল মাসে রানা প্লাজায় ভয়াবহ ধসের পর বাংলাদেশের গার্মেন্টস কারখানায় শ্রমিক অধিকার রক্ষায় মালিক পক্ষের উদাসীনতা বিশ্বব্যাপী দারুণ আলোচনার জন্ম দেয়। এ অবস্থায় ইউরোপীয় শ্রমিক অধিকার সংগঠন ইন্ডাস্ট্রি অল ও ইউএনআই গ্লোবাল-এর উদ্যোগে গত মে মাসের মাঝামাঝি ৩০টি ক্রেতা প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করা হয়। বর্তমানে চুক্তিতে স্বাক্ষরকারীর সংখ্যা ৮০ ছাড়িয়ে গেছে। সূত্র জানায়, চুক্তি অনুযায়ী আগামী এক বছরের মধ্যে তাদের অর্ডার সরবরাহকারী কারখানা পরিদর্শন করে সেখানের নিরাপত্তা মান নিয়ে প্রতিবেদন দাখিল করবে। ক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশের কারখানার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহায়তা করবে। স্টিয়ারিং কমিটির সদস্য ও ইন্ডাস্ট্রি অল বাংলাদেশ কাউন্সিলের মহাসচিব রায় রমেশ চন্দ্র ইত্তেফাককে বলেন, চুক্তি অনুযায়ী আগামী পাঁচ বছরে ওই সব ক্রেতা বাংলাদেশে সংশ্লিষ্ট কারখানায় অর্ডার বন্ধ করবে না। আর অগ্নি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়নে তারা আর্থিক সহায়তা করবে। সফরের বিষয়বস্তু সম্পর্কে রায় রমেশ বলেন, ‘মূলত চুক্তি বাস্তবায়নের প্রাথমিক পদক্ষেপগুলোর একটি হলো প্রতিনিধি দলের এ সফর। শ্রমিকের নিরাপত্তা জোরদারে কারখানা কর্মপরিবেশ উন্নয়নেই আমরা কাজ করব।’ পাঁচ সদস্যের এই প্রতিনিধি দলে রয়েছেন ইউরোপের বড় ক্রেতা প্রতিষ্ঠান সিএন্ডএ’র ফিলিপ চেম্বারলিন, ইনডিটেক্স এর অ্যালেক্স গঞ্জালেজ, সুইজারল্যান্ড ভিত্তিক শ্রমিক অধিকার সংগঠন ইন্ডাস্ট্রি অল এর মনিকা কেম্পার্ল, ইউএনআই গ্লোবাল ইউনিয়নের ক্রিস্টি হফম্যান।