বর্ষা ক্লাস ফাইভে পড়ে। আইডিয়াল স্কুল এন্ড কলেজে। এইতো কিছুদিন আগে অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা শেষ হলো। পরীক্ষার জন্য মা গ্রামের বাড়ি যায়নি। এবার মধু মাসটা বিফলে কেটেছে। বর্ষার আরেকটি বোন আছে। নাম বৃষ্টি। বৃষ্টির বয়স চার বছর। বর্ষার বাবা পুলিশ অফিসার। মা টিচার। তাই বর্ষার সারাদিন বৃষ্টিকে নিয়েই কাটে।
দুদিন আগে বৃষ্টির হঠাত্ জ্বর হলো। বর্ষার ইচ্ছে ছিল পরীক্ষার পর ছুটিতে গ্রামের বাড়িতে যাবে। ছুটিতো হলোই না। উল্টো ২২ তারিখে পরীক্ষা শেষ হতেই ২৩ তারিখ থেকে ক্লাস শুরু। এছাড়া বৃষ্টির জ্বর। তাই বর্ষা এবারও গ্রামে যাবার আশা বাদ দিলো।
বর্ষাকালতো এসে গেল। এমন বর্ষায়ই জন্ম হয়েছিল বর্ষা আর বৃষ্টির। বর্ষা তার বাবার সাথে বাইকে করে স্কুলে যায়। মুগদায়। তানভীনা মিসকে বর্ষা অনেক ভয় পায়। তাকে দেখলেই তার হাত-পা কাঁপে। কিন্তু পছন্দও করে। বর্ষা স্কুলে যাওয়ার পথে নানা ঘটনা দেখে। এগুলো কখনো তার মনে আনন্দ দেয়, আর কখনও দেয় কষ্ট।
বর্ষা একদিন বাবার সাথে স্কুলে যাচ্ছে। ৬.৪৫ এ ক্লাস শুরু হয়, তাই তারা ৬.৩০ এ রওনা দেয়। যদি দেরি হয় তাহলে লাকী মিসের কাছে বকা খেতে হয়। বর্ষা যাওয়ার পথে হঠাত্ রাস্তায় একটা ভিড় দেখতে পেল। সামনে জ্যাম। তাই তারা রাস্তায় দাঁড়িয়ে রইল। বর্ষা দেখলো তার বাবার মতই একটা লোক বাইক উঠানোর চেষ্টা করছে একটা গর্ত থেকে। পাশে বসে বৃষ্টির সমবয়সী একটা মেয়ে কাঁদছে। বর্ষার বাবা এগিয়ে গেলেন। জানতে চাইলেন কি হয়েছে। বর্ষা দেখলো ঘড়িতে ৬.৩৮ বাজে। সেরেছে। আর সাত মিনিট বাকি আছে। সে তার বাবাকে বলল, “বাবা, চলো না, লাকী মিস রাগ করলেন!” তার বাবা তাকে নিয়ে স্কুলে নামিয়ে দিয়ে সে জায়গায় আবার গেলেন। বর্ষা বাসায় এসে জানতে পারলো কী একটা কারণে সেখানে গর্ত করা হয়েছিল। বৃষ্টির পানিতে গর্তটা বোঝা যাচ্ছিল না। তখন সেই বাইকটা গর্তে পড়ে যায়। এতে মেয়েটা অনেক ব্যথা পায়। বর্ষার খুব কষ্ট হলো। মনে হলো বর্ষাকালটা আসলেই ফালতু। রাস্তার যা অবস্থা হয়।
সেদিন স্কুলে যাবার পর আকাশটা একেবারে কালো রং ধারণ করলো। বর্ষা বুঝলো আজ বৃষ্টি হবে। সাবিনা মিস নীল রঙের শাড়ি পরেছেন। মনে হচ্ছে তার মধ্যেই বর্ষা আবির্ভূত হয়েছে। রত্না মিসকে সুন্দর লাগছিল। যাই হোক সেদিন স্কুল থেকে যাওয়ার পথে হঠাত্ বৃষ্টি নামলো। সে দেখলো ফুটপাতে থাকা বাচ্চাগুলো বৃষ্টিতে ভিজছে আর আনন্দ করছে। বর্ষার খুব ভালো লাগলো। সে খুব খুশি হলো। ঘরবাড়ি নেই তবুও তাদের কত আনন্দ। তখন বর্ষা ভাবলো, বর্ষাকালের বৃষ্টির জন্যইতো তাদের এতো আনন্দ। তাই বর্ষা বর্ষাকালকে খুব প্রিয় ঋতু বলে আখ্যায়িত করলো।
এভাবে বর্ষার বর্ষাকালকে একেক সময় একেক রকম লাগে। বর্ষা আমাদের কত্ত উপকার করে, আবার ক্ষতিও করে। মূলত মানুষের জন্যই এ ক্ষতি হয়। মানুষেরা যদি গর্ত না করে রাখতো, তাহলে তো এ দুর্ঘটনাটা ঘটতো না। বর্ষা এ ঋতুর সবদিক বিবেচনা করে এ ঋতুকে একটি ভালো ঋতু বলে আখ্যায়িত করে। এসব চিন্তা করতে করতে সে মায়ের বুকে মাথা রেখে ঘুমিয়ে যায়। কালকে স্কুলে যেতে হবে তো!
সদস্য নম্বর-৬৬
আইডিয়াল স্কুল এন্ড কলেজ।
