পটুয়াখালী ৩ আসনের নির্বাচিত এমপি গোলাম মওলা রনি ও তাঁর লোকজনদের দ্বারা প্রহূত হয়েছেন একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলের দুই সাংবাদিক। ঘটনার পর থেকেই বিষয়টি উঠে আসে আলোচনার কেন্দ্রে। ‘চুদুরবুদুরে’র পর এটিই এখন ‘টক অব দ্য কান্ট্রি’। ঘটনার পর থেকেই রনির হাতে প্রহূত হওয়ার ভিডিও ফুটেজটি বারবার প্রচারিত হয় বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে। দুই পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে করা মামলায় আদালত প্রথমে রনিকে জামিন দিলেও পরবর্তী সময়ে জামিন বাতিল করে গ্রেফতারের নির্দেশ দেন। যার পরিপ্রেক্ষিতে মহাজোট সরকারের আমলে প্রথম কোনো এমপি গ্রেফতার হন। বর্তমান মহাজোট সরকারের আমলে সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনা এটিই প্রথম নয় এমনকি রনির লোকজনদের হাতে সাংবাদিক পেটানোর ঘটনাও এই প্রথম নয়। সরকারের শুরুতেই ২০০৯ সালে রনির সাংবাদিক পেটানোয় হাতেখড়ি। গলাচিপা উপজেলার দুটি নদী ভরাটের বিরুদ্ধে বিভিন্ন পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পর সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালায় ‘ভাইয়া’ বাহিনী। মামলা করা হয় বিভিন্ন পত্রিকার বিরুদ্ধে। গোলাম মওলা রনি মূলত বিতর্কিত মন্ত্রী পদ্মাসেতুর গলার কাঁটা সৈয়দ আবুল হোসেনের মন্ত্রিত্ব পাওয়ার তত্ত্ব শুনিয়ে প্রথম আলোচনায় আসেন। তারপর সরকারের বিভিন্ন প্রভাবশালী নেতা সম্পর্কে মন্তব্য করে আলোচনায় থেকেছেন গত সাড়ে চার বছর। প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ায় তাঁর উপস্থিতি ছিল সরব। সময়ে সময়ে বিরোধীদলের সংসদে অনুপস্থিতি এবং সরকারি দলের কর্তাব্যক্তিদের ত্রুটি-বিচ্যুতি ও মন্তব্যের সমালোচনা করেছেন তিনি। লিখেছেন শেয়ারবাজারের ধস নিয়েও। সরকারি দলে থেকেও তাঁর ‘অসরকারি’ কথাবার্তায় জনমনে তাঁর প্রতি একটি গ্রহণযোগ্যতার আসনও সৃষ্টি হয়েছিল। কিন্তু প্রত্যক্ষভাবে তাঁর দ্বারা সাংবাদিক প্রহারের ঘটনা আশাবাদী সাধারণ মানুষকে হতাশ করেছে, করেছে বিস্মিত। টিভি টকশোর সুবক্তা এই এমপির কাছ থেকে এমন অপ্রত্যাশিত আচরণে সাধারণ মানুষ হতবাক। আরো অবাক করে ঘটনার ভিডিও প্রকাশ হওয়ার পরও ঘটনায় তাঁর সম্পৃক্ততা সম্পর্কে নির্লজ্জ অস্বীকৃতি। নীতিবাগীশ এই এমপির এমন ন্যক্কারজনক ঘটনা সত্যিই কি বাংলাদেশের রাজনীতিবিদদের দ্বৈত চরিত্র ও মিডিয়াপেষণ নীতির বহিঃপ্রকাশ নয় ?
আশা ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ
