রাজশাহী সীমান্তে পদ্মার ভাঙ্গনের কবল থেকে পবা উপজেলার চরখানপুর ও চরখিদিরপুর মৌজায় বাংলাদেশের ভূ-খণ্ড রক্ষায় কাজ করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। তাদের সহায়তা করছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) জওয়ানরা।
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, ওই মৌজা দু’টি ভেঙ্গে নদীগর্ভে বিলীন হলে আন্তর্জাতিক যৌথ নদী কমিশনের চুক্তি অনুযায়ী যৌথ জলসীমানার অর্ধেক দাবি করবে ভারত। অর্থাত্ ভাঙ্গনের কারণে বাংলাদেশ তার ভূমি হারাতো। এ বিষয়ে দৈনিক ইত্তেফাকসহ প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় খবর প্রকাশের পর সরকারের পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের টনক নড়ে। তড়িঘড়ি পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) মাধ্যমে ভূ-খণ্ড রক্ষা তথা ভাঙ্গন প্রতিরোধের জন্য প্রায় এক কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। সমপ্রতি ওই দু’টি মৌজার তিনটি অতি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অস্থায়ী প্রতিরক্ষামূলক কাজ শুরুও করেছে পাউবো।
পাউবো সূত্র জানায়, প্রাথমিকভাবে চরখানপুর সীমান্ত ফাঁড়ির সামনের ৭০ মিটার, সীমান্তের ১৬৩ নম্বর পিলারের সামনের প্রায় ৫০ মিটার এবং চরখিদিরিপুর সীমান্ত ফাঁড়ির সামনের আরো প্রায় ৭০ মিটার জলভাগ রক্ষায় অস্থায়ী ভাঙ্গন প্রতিরোধমূলক কাজ শুরু হয়েছে। রাজশাহী পাউবোর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিন বলেন, বিজিবি চরখানপুর বর্ডার আউটপোস্ট থেকে ৩৬ মিটার দূরে বর্তমানে পদ্মা নদীর ভাঙ্গনের অবস্থান। জরুরি ভিত্তিতে ভাঙ্গন প্রতিরোধমূলক কাজ শুরু না করলে পুরো বিওপি পদ্মাগর্ভে চলে যেত। গত ১০ জুলাই বিওপি থেকে পদ্মার ভাঙ্গনের দূরত্ব ছিল ৬০ মিটার।
বর্তমান চরখানপুর মৌজাকে স্থানীয়রা চরতারানগর হিসেবে অভিহিত করেন। অথচ চরখানপুর থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার উত্তরে অবস্থান ছিল চরতারানগর মৌজার। চরতারানগর মৌজা কয়েক বছর আগেই পদ্মাগর্ভে বিলীন হয়েছে। চরখানপুর মৌজায় পদ্মার ভাঙ্গন ৫০০-৭০০ মিটার অতিক্রম করলেই বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত স্পর্শ করবে। চরখানপুর থেকে পূর্ব দিকে চরখিদিরপুর পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার এলাকা জুড়ে পদ্মার ভাঙ্গন চলছে। পদ্মার ভাঙ্গন প্রতিরোধে স্থায়ী ব্যবস্থা নিতে না পারলে মৌজা দু’টি পদ্মাগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তখন যৌথ নদী কমিশনের চুক্তি অনুযায়ী এই এলাকার জলভাগের অর্ধেক কর্তৃত্ব দাবি করতে পারবে ভারত।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, পবা উপজেলার সোনাইকান্দি, খরচাকা, গহমাবোনা ও খোলাবো মৌজা এবং চারঘাট উপজেলার ইউসুফপুর এলাকায় পদ্মার ভাঙ্গনে সীমান্ত এলাকা পদ্মাগর্ভে বিলীন হওয়ায় আন্তর্জাতিক যৌথ নদী কমিশনের চুক্তি অনুযায়ী ওইসব এলাকার জলভাগের অর্ধেক কর্তৃত্ব করছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। ওইসব এলাকায় প্রায়ই বিএসএফের সহায়তায় ভারতীয় দুষ্কৃতকারীরা বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে জমির ফসল লুণ্ঠন এমনকি কৃষক ও জেলেদের ধরে নিজ দেশের ভূ-খণ্ডে নিয়ে জিম্মি করে রাখে। বিজিবির চরখানপুর বিওপি কমান্ডার খলিলুর রহমান বলেন, কাজ শুরু হওয়ায় আশা করা যাচ্ছে ভাঙ্গন প্রতিরোধ করে বাংলাদেশের ভূমি রক্ষা সম্ভব হবে। তিনি বলেন, গত ১০ জুলাই পদ্মার ভাঙ্গন এলাকা থেকে ১৬৩ নম্বর সীমান্ত পিলারের অবস্থান ছিল প্রায় ২০০ মিটার দূরে। গত দুই সপ্তাহের ভাঙ্গনে দূরত্ব কমে ১১৯ মিটারে দাঁড়িয়েছে। বিজিবির চরখিদিরপুর বিওপি থেকে কয়েক মিটার দূরে চলছিল পদ্মার ভাঙ্গন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পাউবো ঠিকাদারের শ্রমিকরা ভাঙ্গন প্রতিরোধে ২৫০ কেজি বালুভর্তি জিও ব্যাগ পদ্মায় ফেলছে। বিজিবি চরখানপুর বিওপির সামনে প্রায় ৭০ মিটার এলাকা জুড়ে জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে। পাউবোর প্রধান প্রকৌশলী আব্দুর রব বলেন, চরখানপুর ও চরখিদিরপুর মৌজার তিনটি অতি ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্টে পদ্মার ভাঙ্গন প্রতিরোধে অস্থায়ী কাজ চলছে। এ কাজ না করলে বাংলাদেশের ভূমি হারানোর আশঙ্কা ছিল। আগামী সপ্তাহের মধ্যে তিনটি পয়েন্টেই ভাঙ্গন প্রতিরোধ সম্ভব হবে। আগামী শুষ্ক মৌসুমে ওই এলাকায় স্থায়ী ভাঙ্গন প্রতিরোধমূলক প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে।
