গার্মেন্টসে নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় সমন্বিত কাজ চায় ইউরোপ

আপডেট : ৩০ জুলাই ২০১৩, ২২:৪২
বাংলাদেশের গার্মেন্টস খাতের নিরাপত্তার উন্নয়নে ইউরোপের ক্রেতা ও শ্রমিক অধিকার সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত ‘অ্যাকর্ড অন ফায়ার অ্যান্ড বিল্ডিং সেফটি ইন বাংলাদেশ’ এর প্রতিনিধি দল গতকাল মঙ্গলবার তৈরি পোশাক মালিকদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বৈঠকে আমেরিকা ভিত্তিক ক্রেতাদের সমন্বয়ে গঠিত ‘অ্যালায়েন্স’ ও বাংলাদেশ সরকার গঠিত ‘ন্যাশনাল অ্যাকশন প্ল্যান’ নিয়ে সমন্বিতভাবে কাজ করার বিষয়ে উভয় পক্ষ একমত হয়েছে। কী উপায়ে এই কার্যক্রম এগিয়ে যাবে তা নিয়ে আলোচনার পর এটি চূড়ান্ত করা হবে। ইউরোপভিত্তিক এই উদ্যোগের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহ জানিয়েছে আমেরিকান অ্যালায়েন্স। বৈঠক শেষে বিজিএমইএ সভাপতি আতিকুল ইসলাম উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, সরকার গঠিত ন্যাশনাল অ্যাকশন প্ল্যান, উত্তর আমেরিকার অ্যালায়েন্স ও ইউরোপের উদ্যোগ—সবার লক্ষ্য প্রায় অভিন্ন। এ জন্য তিনটি উদ্যোগের কার্যক্রম সমন্বিতভাবে করতে হবে। কারণ উভয় অঞ্চলের পক্ষ থেকে তাদের অর্ডার সরবরাহকারী কারখানা পরিদর্শনের কথা বলা হয়েছে। এমন কারখানা রয়েছে, যারা উভয় অঞ্চলের ক্রেতার অর্ডার সরবরাহ করে। আবার অনেকে রয়েছে যারা এই দুই অঞ্চল বাদে অন্য অঞ্চলের ক্রেতার পণ্য তৈরি করে। আমাদের উদ্দেশ্য সব কারখানা যথাযথ পরিদর্শনের আওতায় আসুক। এ জন্য একটি সুনির্দিষ্ট মান ঠিক করে কারখানা পরিদর্শন করতে হবে। সমপ্রতি সাভারের রানা প্লাজা ধসে এক হাজার ১৩২ জন শ্রমিকের প্রাণহানির পর কারখানায় শ্রমিকদের নিরাপত্তায় ভবন ও অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থার মানোন্নয়নে একটি জোট গঠন করে ইউরোপ ভিত্তিক ক্রেতারা। এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে বাংলাদেশের যে সব কারখানা থেকে তারা পোশাক ক্রয় করেন সেসব কারখানার মানোন্নয়নে তহবিল ব্যয় করতে তারা একটি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছেন। এতে সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলো তহবিল দেবে। এই উদ্যোগে ইতিমধ্যে ৮৪টি ইউরোপীয় ক্রেতা প্রতিষ্ঠান স্বাক্ষর করেছে। এর নাম দেয়া হয়েছে ‘অ্যাকর্ড’। গতকাল তাদের প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হলো। আইনগত বাধ্যবাধকতার দোহাই দিয়ে এই উদ্যোগে স্বাক্ষর করতে সম্মত হয়নি যুক্তরাষ্ট্রের ক্রেতারা। পরে কানাডার ক্রেতাদের সমন্বয়ে তারা একটি জোট গঠন করে । এই জোটের উদ্দেশ্যও প্রায় অভিন্ন। বৈঠক শেষে প্রতিনিধি দলের প্রধান ফিলিপ চেম্বারলিন বলেন, আমাদের সবার উদ্দেশ্য এক। গঠনমূলক আলোচনা হয়েছে। বিষয়টি বেশ জটিল। তবে বাংলাদেশের গার্মেন্টস খাতকে টেকসই ও নিরাপদ করতে আমাদের কাজ শুরু হলো। এটি অব্যাহত থাকবে। পাঁচ সদস্যের এই প্রতিনিধি দলে আরো রয়েছেন ইনডিটেক্স এর অ্যালেক্স গঞ্জালেস, সুইজারল্যান্ড ভিত্তিক শ্রমিক অধিকার সংগঠন ইন্ডাস্ট্রি অল এর মনিকা কেম্পার্ল, ইউএনআই গ্লোবাল ইউনিয়নের ক্রিস্টি হফম্যান। তাদের সাথে রয়েছেন বাংলাদেশের প্রতিনিধি ও শ্রমিক নেতা রায় রমেশ চন্দ্র। বৈঠক শেষে রায় রমেশ বলেন, আমাদের ন্যাশনাল অ্যাকশন প্ল্যান, অ্যাকর্ড ও অ্যালায়েন্স নিয়ে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। কী উপায়ে তাদের সমন্বিত করা যায় তা-ই এখন প্রধান কাজ। আমাদের সেই চেষ্টা চলছে। আজ থেকে আমাদের কাজ শুরু হয়েছে। তবে বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, ইউরোপীয় এই উদ্যোগে ৬ সদস্যের একটি স্টিয়ারিং কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটিতে বিজিএমইএ বা সরকারের কোন প্রতিনিধি নেই। বিজিএমইএ এই কমিটিতে মালিকপক্ষ ও সরকারের প্রতিনিধি রাখার যৌক্তিকতা তুলে ধরে বলেছে, যেহেতু বিজিএমইএ এই কার্যক্রমের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে সে জন্য তাদের প্রতিনিধি থাকা দরকার। গতকালের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিজিএমইএ’র সাবেক সভাপতি সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন, আব্দুস সালাম মুর্শেদী, অ্যামপ্লয়ার্স ফেডারেশনের সভাপতি ফজলুল হক, বিকেএমইএ’র সহ-সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম প্রমুখ।