রোহিঙ্গাদের ‘মধ্যপ্রাচ্য’ এখন কক্সবাজার!

আপডেট : ৩১ জুলাই ২০১৩, ২১:৪৯
বাংলাদেশি টাকার মান বেশি হওয়ায় মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের কাছে কক্সবাজার এখন অনেকটা মধ্যপ্রাচ্যের মতোই। এদেশের এক টাকা মিয়ানমারের ১২ টাকার সমান হওয়ায় এর সুযোগ নিতে রোহিঙ্গারা এদেশে অনুপ্রবেশে মরিয়া হয়ে উঠেছে। গত এক বছরে সীমান্তরক্ষী বিজিবি সদস্যরা বিভিন্ন পয়েন্টে অভিযান চালিয়ে ১৮ হাজার অবৈধ অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গাকে মিয়ানমারে পুশব্যাক করলেও বিজিবি’র চোখ ফাঁকি দিয়ে অধিকাংশ রোহিঙ্গা কক্সবাজারের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে অবস্থান করছে। জানা গেছে, টেকনাফের নয়াপাড়া শরণার্থী ক্যাম্পে রেজিষ্টার্ড ১৮ হাজার, লেদার মুছনী ও বাহারছড়া ইউনিয়নের উপকুলীয় এলাকায় ঝাউবাগান দখল করে বসবাস করছে অর্ধ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা। এছাড়া উখিয়ার কুতুপালং শরণার্থী ক্যাম্পে সাড়ে ১০ হাজার এবং তত্সংলগ্ন বনভূমির জায়গা দখল করে অবৈধভাবে বসবাস করছে প্রায় ৬০ হাজার রোহিঙ্গা । সব মিলিয়ে কক্সবাজারের বিভিন্ন উপজেলার উপকূলীয় এলাকা, পাহাড়ী জনপথসহ বিভিন্ন লোকালয়ে ৫ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা ছড়িয়ে ছিটিয়ে অবস্থান করছে। একাধিক রোহিঙ্গার সাথে কথা বলে জানা যায়, এখানে দৈনিক ৫শ’ টাকার মজুরী পেলে মিয়ানমারের মুদ্রায় তা দাঁড়ায় ৬ হাজার কিয়াত। টাকা ও কিয়াতের মধ্যে ব্যাপক তফাতের কারণে এখানে অল্প টাকা উপার্জন করে মিয়ানমার নিয়ে যেতে পারলে তা পাচ্ছে ১২ গুণ। সমপ্রতি উপকূলীয় এলাকা চোয়াংখালী ঘুরে দেখা যায়, ৫ শতাধিক জেলে নৌকায় রোহিঙ্গা শ্রমিকেরা দৈনিক ৫শ’ থেকে ৭শ’ টাকা মজুরীতে কাজ করছেন। চোয়াংখালী গ্রামের আমির হামজার মালিকানাধীন ফিশিং বোটে কর্মরত রোহিঙ্গা শ্রমিক নাজির হোছেন (৪৫) ও সালামত উল্লাহ (৩২) জানান, তারা এখানে খুব আরামে আছেন। মাস শেষে প্রাপ্ত মজুরীর টাকা মিয়ানমারে পাঠালে সংসারের ব্যয় মিটিয়েও অনেক উদ্বৃত্ত থাকে। কুতুপালং অবৈধ রোহিঙ্গা বস্তিতে বসবাসরত কয়েকজন রোহিঙ্গা বলেন, মিয়ানমারের টাকার চেয়ে এদেশের টাকার মান অনেকগুণ বেশি হওয়ায় তাদের জন্য কক্সবাজার শহর এখন মধ্যপ্রাচ্য হিসাবে চিন্তা করলেও ভুল হবে না। কারণ বাংলাদেশের ১০০ টাকা সেদেশে পাঠালে ১২০০ টাকা পাওয়া যায়। এজন্য রোহিঙ্গা শ্রমিকরা কাজ করতে এদেশে আসার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সংগ্রাম কমিটির আহ্বায়ক অধ্যক্ষ হামিদুল হক চৌধুরী বলেন, রোহিঙ্গারা এদেশে একবার ঢুকতে পারলে আর ফেরত যায় না। ফলে অবৈধ রোহিঙ্গার সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এদের তালিকা তৈরী করে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো প্রয়োজন।