ঈদে ব্যস্ত তালতলীর রাখাইন তাঁতীরা

আপডেট : ৩১ জুলাই ২০১৩, ২১:৪৯
ঈদকে সামনে রেখে তালতলীর রাখাইন পাড়ায় নারী তাঁত শিল্পীদের কর্মব্যস্ততা বেড়ে গেছে। বছরের অধিকাংশ সময় অলস কাটালেও এসময়ে রাখাইন নারীদের দম ফেলার সময় থাকে না। হস্তচালিত তাঁতে কাপড় বুননের খটখট শব্দে মুখরিত হয়ে উঠেছে তাঁত সমৃদ্ধ তালতলীর রাখাইনপাড়াগুলো। মিয়ানমার থেকে আমদানিকৃত সুতা দিয়ে শাড়ি, লুঙ্গি, চাদর, শার্ট পিস, ব্যাগ ও গামছা বুনে যাচ্ছেন তাঁতীরা। ঈদ বাজার ধরতে নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। রাখাইন তাঁতীদের উত্পাদিত বস্ত্রের কদর রয়েছে দক্ষিণাঞ্চলসহ দেশের সর্বত্র। তাদের তাঁতে উত্পাদিত রং বেরঙের সুতা দিয়ে তৈরি লতাপাতা ফুল ও বিভিন্ন কারুকাজ সমৃদ্ধ এ সকল বস্ত্র সকলের নজর কাড়ে। রোজা ও কোরবানির ঈদ এবং শীত মৌসুমে এসব কাপড়ের ব্যাপক চাহিদা থাকে। তালতলীর উসিট মং জানান, বড়বগী ইউনিয়নের তালতলীপাড়া, ছাতনপাড়া, মনুখেপাড়া, আগাঠাকুরপাড়া, নিশানবাড়ীয়া ইউনিয়নের সওদাগরপাড়া, তালুকদারপাড়া ও সোনারচর ইউনিয়নের কবিরাজপাড়া, তাঁতিপাড়া, লাউপাড়া ও অংকুজানপাড়ায় রাখাইন পল্লীগুলোতে ১২ থেকে ১৪টি করে অন্তত অর্ধশতাধিক হস্তচালিত তাঁত রয়েছে। কোন কোন পাড়ায় একই পরিবারে ২ থেকে ৩টি তাঁত রয়েছে। স্বাধীনতার পূর্বে তালতলীর এ তিনটি ইউনিয়নে প্রায় অর্ধশত রাখাইন পাড়া ছিল। তখন তাঁত কারখানার সংখ্যাও এখনকার চেয়ে অনেক বেশি ছিল। প্রতিটি পাড়ায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা তাঁত কারখানাগুলোতে বাহারি কাপড় উত্পাদনের কাজ চলতো সারাবছর। সে সময় এ কাপড় তৈরির আয়ের উপরই পুরোপুরি নির্ভরশীল ছিল রাখাইন পরিবারগুলো। রাখাইন সমাজে এমন নিয়মও চালু ছিল- যে মেয়ে তাঁতের কাজ জানত না, সে মেয়ের বিয়েই হতো না। আজ আর সে সবের প্রচলন নেই। সে কালে তাঁতের কাঁচা মালের প্রচুর অভাব ছিল। মিয়ানমার থেকে আনা সুতোসহ সকল কাঁচামালের খরচ মিটিয়ে যে দামে তৈরি পোশাক বিক্রি হতো তাতে প্রায়ই লোকসান গুণতে হতো তাঁতীদের। তাঁত শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে গিয়ে এক পর্যায়ে ঋণে জর্জরিত হয়ে যান তারা। কালক্রমে ঝিমিয়ে পড়ে তালতলীর রাখাইন তাঁত শিল্প। এ অবস্থায় কিছু কিছু রাখাইন পল্লীর তাঁতীরা পিতৃপেশা হিসাবে হস্তচালিত তাঁত কারখানা এখনও চালু রেখেছেন। ঈদে বাড়তি আয়ের আশায় দিন রাত অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন তাঁতীরা। রাখাইনদের তাঁত বস্ত্র ক্রয় করতে দূর-দূরান্ত থেকে অনেকে আসেন তালতলীতে। তালতলীতে উত্পাদিত এসব বস্ত্র মূলত কুয়াকাটা এবং কক্সবাজারের রাখাইন দোকানগুলোতে সরবরাহ করা হয়। পর্যটকদের কাছে এসব বস্ত্রের যথেষ্ট চাহিদা রয়েছে।