লালগালিচার জৌলুসের সম্মিলন শুরু

আপডেট : ১৪ মে ২০১৯, ২০:৩২

 

দক্ষিণ ফরাসি উপকূলের শহর কানে গতকাল শুরু হয়েছে ৭২তম কান চলচ্চিত্র উত্সব। বিশ্বের অসংখ্য চলচ্চিত্রানুরাগী এরইমধ্যে নোঙর ফেলেছেন সেলুলয়েডের তীর্থস্থান খ্যাত সাগর পাড়ের শহর কানে। আমেরিকান নির্মাতা জিম জারমাশের ‘দ্য ডেড ডোন্ট ডাই’ সিনেমার প্রদর্শনীর মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এই উত্সব শেষ হবে ২৫ এপ্রিল। সেদিনই জানা যাবে এই আসরে সর্বোচ্চ পুরস্কার স্বর্ণপাম অর্থাত্ পাম ডিঅ’র বিজয়ীর নাম।

রূপালি পর্দায় গল্পের বৈচিত্র্য আর লালগালিচার জৌলুসের সম্মিলনে অসংখ্য চলচ্চিত্রপ্রেমী হাজির হলেও বলিউডের কেউ এখনো পৌঁছাননি। তবে জমকালো রেড কার্পেটে বলিউডের তারকাদের এবারো দেখা মিলবে। আগামীকাল দীপিকা পাডুকোন হাজির হবেন স্বকীয়তা নিয়ে। কানের লালগালিচায় সোনম কাপুর দ্যুতি ছড়াবেন ২০ ও ২১ মে। আগামী ১৯ মের পর কানে দেখা যাবে ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চনকেও।

এবারের উত্সবেও চালু করা হয়েছে ‘রেডিও ফেস্টিভ্যাল’। এটি হলো অফিশিয়াল অনলাইন রেডিও সম্প্রচার কার্যক্রম।

গতকাল থেকে ২৫ মে পর্যন্ত পালে দ্য ফেস্টিভ্যাল ভবনের মেডিটারেনিয়ান হলে অবস্থিত এই স্টেশনে প্রচার হবে কান সৈকতের আড্ডা, সাক্ষাত্কার, বিনোদন ও লাইভ পারফরম্যান্স। এবারের প্রতিযোগিতা বিভাগের প্রধান বিচারক আলেহান্দ্রো গঞ্জালেক ইনারিতু।

টানা দ্বিতীয়বারের মতো স্ট্রিমিং সার্ভিসের কারণে প্রেক্ষাগৃহে নেতিবাচক প্রভাব পড়ায় কানে জায়গা পায়নি নেটফ্লিক্সের কোনো চলচ্চিত্র। তবে সবাই বলছেন এজন্য কানে কোনো প্রভাব পড়বে না।

 

কানে হাসিমুখের লড়াকু নারী

লড়েই যাচ্ছেন অ্যাম্বার হ্যার্ড। মাত্র ১৫ মাস একই ছাদের তলায় বসবাসের সময় জনি ডেপের কাছে অবর্ণনীয় শারীরিক নির্যাতনের শিকার হন তিনি। ছাড়াছাড়ির পর তা নিয়ে পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন ‘অ্যাকুয়াম্যান’ তারকা। সেই অভিযোগের দায়ে সাবেক স্বামীর কাছ থেকে এখন বিভিন্নভাবে হুমকি পাচ্ছেন তিনি। এদিকে ৪০০ কোটি টাকার মানহানির মামলা করলেন ‘পাইরেট অব দ্য ক্যারেবিয়ান’ খ্যাত হলিউড তারকা জনি ডেপ। তবুও মামলা ছাড়ছেন না অ্যাম্বার হ্যার্ড।

জনি ডেপের প্রসঙ্গ নিয়ে তাঁকে কথা বলতে হলো কান শহরে পা রেখেও। হাসিমুখেই সাংবাদিকদের বলে দিয়েছেন, ‘লড়াই করবো। এছাড়া অধিকার আদায় কিংবা বিচার পাওয়ার অন্য কোনো পন্থা আমার জানা নেই। সততা আমার পাশে আছে।’

তাঁর এই বিষয়টি ছাড়াও ফ্যাশনের কারণে আলাদা নজর কেড়েছেন তিনি। তাইতো বিমানবন্দর থেকে বের হতে না হতেই আলোকচিত্রীরা ক্লিক থামালেন না। বিমানবন্দরে তাঁকে দেখা যায় সাদা টি-শার্ট ও লাইট ওয়াশ জিন্সে। তার ওপর লাল ও নানারঙের মিশ্রণের একটি জ্যাকেটও ছিল।

 

সমুদ্র পাড়ে ‘রাগান্বিত পাখিগুলো’

এক সময় অনেকেই অ্যাংরি বার্ড গেমস খেলতে খুবই পছন্দ করতেন। সেই অ্যাংরি বার্ড বা রাগান্বিত পাখিদের আকর্ষণীয় এবং একইসঙ্গে হাস্যকর মনে হতো। কিন্তু কান উত্সবে দেখে মনে হলো তারা মোটেও রাগান্বিত না, বরং আকর্ষণীয় ও হাস্যজ্জ্বল। সাগর পাড়ের শহর কানে লালগালিচায় ‘দ্য অ্যাংরি বার্ডস মুভি ২’-এর প্রচারণায় ব্যস্ত ছিল পুরো টিম। এই চলচ্চিত্রটির ওপর বেশ ভালোই জোর দিচ্ছেন রোভিও। এর নির্দিষ্ট কারণও আছে। দ্য অ্যাংরি বার্ডস মুভির বদৌলতে ২০১৭ সালে মোবাইল গেম ও অ্যানিমেশন স্টুডিও প্রতিষ্ঠান রোভিও বাজারে নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রেখেছিল।

কান উত্সবে জানা গেল, রোভিও এন্টারটেইমেন্ট ও সনি পিকচার্সের যৌথ প্রযোজনা এবং কলম্বিয়া পিকচার্সের পরিবেশনায় দ্য অ্যাংরি বার্ডস মুভি ২ চলচ্চিত্রটি বিশ্বব্যাপী মুক্তি পাবে আগামী ২ আগস্ট।

ছবিটির অন্যতম আকর্ষণ এতে কণ্ঠ দিয়েছেন জনপ্রিয় অভিনেতা শন পেন। এছাড়াও এর বিভিন্ন চরিত্রে কণ্ঠ দিয়েছেন ড্যানি ম্যাকব্রাইড, জশ গ্যাড, জেসন সুডেকিসসহ জনপ্রিয় সব তারকা। পরিচালক থারুপ ভ্যান ওরম্যান বলেন, ‘আমরা এই ছবিটির মাধ্যমে অ্যাংরি বার্ডকে আরো একধাপ এগিয়ে নিয়ে চাই।’

 

সবার নজরে এল ফ্যানিং

বিমানবন্দরে পা রাখলেন এল ফ্যানিং। পরনে সাদা স্যুট, হালকা আকাশি রঙের শার্ট, চোখের চশমা ও ছোট্ট ব্যাগটা লাল রঙের। ততোক্ষণে কানের আলোকচিত্রীরা হাজির! কেউ সুযোগ হাতছাড়া করলেন না। কারণ তিনি যে কানের এই আসরের সর্বকনিষ্ঠ বিচারক। মাত্র ২১ বছরে এত বড় আসরের এই দায়িত্বে, ভাবা যায়? এ কারণেই তিনি সবার নজরে।

উত্সবের দু’দিন আগে কান শহরে পা রাখেন তিনি। এরপর অংশ নেন সংবাদ সম্মেলনে। সেখানে তিনি বলেন, ‘অন্যরকম লাগছে। এর আগে যখন কানে পা দিয়েছি এমনটা লাগেনি। উত্সবের শেষ পর্যন্ত আছি, যেহেতু এটা আমার দায়িত্ব। এ কয়েকদিন অনেক ভালো যাবে।’

বেড়ে ওঠার পর ২০১৬ সালে কানের অফিসিয়াল সিলেকশনে থাকা নিকোলাস উইন্ডিং রেফনের ‘দ্য নিয়ন ডেমন’ ছবিতে দেখা যায় এল ফ্যানিংকে। এরপরের বছর কানে পাম ডিঅ’র-এর দৌড়ে থাকা সোফিয়া কপোলার ‘দ্য বিগাইল্ড’ ছবিতেও অভিনয় করেন তিনি। একই আসরে আউট অব কম্পিটিশনে দেখানো হয় তাঁর ‘হাউ টু টক টু গার্লস অ্যাট পার্টিস’। ছবিটি পরিচালনা করেছেন জন ক্যামেরুন মিচেল। যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যে জন্ম এল ফ্যানিংয়ের। এরইমধ্যে ৩০টিরও বেশি ছবিতে অভিনয় করেছেন তিনি। এ তালিকায় রয়েছে সুপার এইট (২০১১), মেলফিসেন্ট (২০১৪), টোয়েন্টিয়েথ সেঞ্চুরি ওমেন (২০১৬) প্রভৃতি।