জামায়াতের নিবন্ধনের রিটের ওপর আজ রায়

আপডেট : ৩১ জুলাই ২০১৩, ২২:৪২
রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধনের বৈধতার প্রশ্নে দায়েরকৃত রিট আবেদনের ওপর আজ বৃহস্পতিবার রায় ঘোষণা করবে হাইকোর্ট। আবেদনের ওপর জারিকৃত রুলের চূড়ান্ত শুনানি গ্রহণের প্রায় দেড় মাস পর মামলাটি রায় ঘোষণার জন্য রাখা হয়েছে। বিচারপতি এম. মোয়াজ্জাম হোসেন, বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি কাজী রেজাউল হকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের বৃহত্তর বেঞ্চ এ রায় দেবেন। গত ১২ জুন এ রিট আবেদনের রুলের ওপর শুনানি গ্রহণ সম্পন্ন করে আদালত। এরপর মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়। হাইকোর্টের দৈনন্দিন কার্যতালিকায় মামলাটি আজ রায় ঘোষণার জন্য অন্তর্ভুক্ত রাখা হয়েছে। হাইকোর্টের রায়ের ওপরই নির্ভর করবে জামায়াত আগামী সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে কি পারবে না? নিবন্ধন অবৈধ ও বাতিল ঘোষিত হলে দলটির নির্বাচনে অংশ নেয়ার কোন সুযোগ থাকবে না বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা। এ প্রসঙ্গে অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট এম কে রহমান সাংবাদিকদের বলেন, আজ হাইকোর্টের বৃহত্তর বেঞ্চ জামায়াতে ইসলামীকে নির্বাচন কমিশনের দেয়া নিবন্ধনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দাখিল করা রিট আবেদনের ওপর রায় ঘোষণা করবেন। হাইকোর্ট যে রায় দেবেন সেই মোতাবেক নির্বাচন কমিশনকে কাজ করতে হবে। অপরদিকে জামায়াতের আইনজীবী ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক বলেন, যে কোন রাজনৈতিক দলের নিবন্ধনের বৈধতার বিষয়টি ইসির উপর ছেড়ে দেয়া উচিত। কারণ ইসির সাংবিধানিক ক্ষমতা রয়েছে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার। রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট আবেদন দায়ের করেন বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশনের সেক্রেটারি জেনারেল সৈয়দ রেজাউল হক চাঁদপুরী, জাকের পার্টির মহাসচিব মুন্সি আবদুল লতিফ, আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান-এর সভাপতি হুমায়ূন কবির, সম্মিলিত ইসলামী জোটের প্রেসিডেন্ট জিয়াউল হাসানসহ ২৫ ব্যক্তি। আবেদনে বলা হয়, চার কারণে জামায়াত রাজনৈতিক দল হিসাবে নিবন্ধন পেতে পারে না। জামায়াত নীতিগতভাবে জনগণকে সকল ক্ষমতার উত্স বলে মনে করে না। সেই সঙ্গে আইন প্রণয়নে জনপ্রতিনিধিদের নিরঙ্কুশ ক্ষমতাকেও স্বীকার করে না। জামায়াত একটি সাম্প্রদায়িক দল; কিন্তু গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশ অনুসারে কোনো সাম্প্রদায়িক দল নিবন্ধন পেতে পারে না। আবেদনে আরো বলা হয়, নিবন্ধন পাওয়া রাজনৈতিক দল ধর্ম-বর্ণ-লিঙ্গের কোনো বৈষম্য করতে পারবে না; কিন্তু জামায়াতের শীর্ষ পদে কখনো কোনো নারী বা অমুসলিম যেতে পারবেন না। আবেদনে বলা হয়, কোনো রাজনৈতিক দলের বিদেশে কোনো শাখা থাকতে পারবে না। অথচ জামায়াত বিদেশের একটি সংগঠনের শাখা। তারা স্বীকারই করে, তাদের জন্ম ভারতে। বিশ্বজুড়ে তাদের শাখা রয়েছে। ২০০৯ সালের ২৭ জানুয়ারি এ রিট আবেদনের ওপর বিচারপতি এবিএম খায়রুল হক (পরবর্তীতে প্রধান বিচারপতি) ও বিচারপতি মো. আবদুল হাইয়ের হাইকোর্ট বেঞ্চ জামায়াতের নিবন্ধনের বৈধতার প্রশ্নে রুল জারি করেন। রুলে রাজনৈতিক দল হিসেবে ২০০৮ সালের ৪ নভেম্বর ইসিতে দাখিলকৃত বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন কেন আইনগত কর্তৃত্ব বহির্ভূত এবং গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের ৯০বি(১)(বি)(২) ও ৯০(সি) ধারার লঙ্ঘন ঘোষণা করা হবে না মর্মে জানতে চাওয়া হয়। জামায়াতের আমির মতিউর রহমান নিজামী, সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ এবং নির্বাচন কমিশন সচিবকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়। জারিকৃত এই রুল বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন ডিভিশন বেঞ্চে শুনানির জন্য নেয়া হয়; কিন্তু পরবর্তীতে ওই বেঞ্চের এখতিয়ার পরিবর্তিত হওয়ায় এই রুলের ওপর তখন আর শুনানি হয়নি। এদিকে গত ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ দিকে রিট আবেদনের ওপর চূড়ান্ত শুনানির লক্ষ্যে একটি বেঞ্চ নির্ধারণ করে দিতে প্রধান বিচারপতির কাছে আবেদন করেন রিট আবেদনকারিগণের আইনজীবী ব্যারিস্টার তানিয়া আমীর। এ আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি এম মোয়াজ্জাম হোসেনের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চকে রুলের ওপর শুনানির জন্য এখতিয়ার প্রদান করেন প্রধান বিচারপতি। গত ১০ মার্চ আবেদনটি শুনানির জন্য উত্থাপিত হলে এই আবেদনের সঙ্গে সাংবিধানিক ও আইনগত প্রশ্ন জড়িত থাকায় বৃহত্তর বেঞ্চ গঠনের জন্য বিষয়টি প্রধান বিচারপতির কাছে পাঠায় হাইকোর্টের ওই ডিভিশন বেঞ্চ। এরপর প্রধান বিচারপতি মো. মোজাম্মেল হোসেন বিচারপতি এম মোয়াজ্জাম হোসেনকে প্রধান করে তিন সদস্যের বৃহত্তর বেঞ্চ গঠন করে দেন। ওই বেঞ্চেই গত এপ্রিল মাসে রুলের ওপর চূড়ান্ত শুনানি শুরু হয়। উল্লেখ্য, জামায়াতের নিবন্ধন নিয়ে রুল জারির পর ২০০৯ সালের ডিসেম্বরে একবার, ২০১০ সালের জুলাই ও নভেম্বরে দুই বার এবং ২০১২ সালের অক্টোবর ও নভেম্বরে দুই বার দলটি তাদের গঠনতন্ত্র সংশোধন করে নির্বাচন কমিশনে জমা দেয়। এসব সংশোধনীতে দলের নাম ‘জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ’ পরিবর্তন করে ‘বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী’ করা হয়।