বিদায় মাহে রমজান

আপডেট : ৩১ জুলাই ২০১৩, ২২:৪২
আজ ২২ রমজান ও নাজাতের দশকের দ্বিতীয় দিন। রসূল (স.) লাইলাতুল ক্বদর তালাশ করার জন্য যে পাঁচটি বেজোড় রাতের কথা বলেছেন, তার মধ্যে আজকের দিবাগত রাতটিও অন্যতম। যারা জীবনের সকল গোনাহ্ থেকে পরিত্রাণ লাভ করতে চান ও আল্লাহর সন্তুষ্টি হাছিল করতে চান তাদের উচিত আজকের রাতেও জাগরণ করে আল্লাহর কাছে তওবাহ-এস্তেগফার করা ও ইবাদত-বন্দেগীতে শামিল হওয়া। কেননা রসূল (স.) বলেছেন, তোমরা লাইলাতুল ক্বদর তালাশ করো রমজানের শেষ দশকের বেজোড় রাতগুলোতে (বুখারী, মুসলিম, মেশকাত, তিরমিজী ও ইবনে মাজাহ)। একবার মহানবী (স.) এই মহিমান্বিত রজনীটি খোঁজার জন্য পুরো রমজান মাস ই’তেকাফ করেন। যেমন বিখ্যাত সাহাবী আবু সাঈদ খুদরী (রা.) বলেন, রসূল (স.) একদা রমজানের প্রথম দশক ই’তেকাফ করলেন। তারপর দ্বিতীয় দশকও ই’তেকাফ করেন। তারপর তাঁবু থেকে মুখটা বের করে বললেন, আমি লাইলাতুল ক্বদর খোঁজার জন্য রমজানের প্রথম ও দ্বিতীয় দশক ই’তেকাফ করলাম। তারপর আমাকে বলা হলো, ঐ রাত শেষ দশকে আছে। অতএব, তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি আরো ই’তেকাফ করতে পছন্দ করে সে যেন আবার ই’তেকাফ করে। ফলে সাহাবীরা তাঁর সাথে আবার ই’তেকাফ করলেন (মুসলিম, মেশকাত)। উক্ত হাদীসগুলো হতে স্পষ্ট প্রতীয়মান হয় যে, লাইলাতুল ক্বদর রমজানে হয় এবং শেষ দশকের বেজোড় পাঁচ রাতে হয়। বেজোড় রাতের ব্যাখ্যায় মহানবী (স.) বলেন, লাইলাতুল ক্বদর রমজানের শেষ দশকের একুশ, তেইশ, পঁচিশ, সাতাশ ও ঊনত্রিশের রাতে হতে পারে। যে ব্যক্তি ঐ রাত ইবাদতে অতিবাহিত করবে আল্লাহ তার পূর্বের সব গুনাহ মাফ করে দেবেন। কিছু মানুষের বিশ্বাস লাইলাতুল ক্বদর কেবল সাতাশের রাতে হয়। কিন্তু এ ধারণা সঠিক নয়। কারণ নবী করীম (স.) এর যুগে একবার লাইলাতুল ক্বদর একুশে রাতে হয়েছিল (বুখারী, মুসলিম, মেশকাত ও আবু দাউদ)। আবদুল্লাহ ইবনে উনায়েসের (রা.) বর্ণনা থেকে জানা যায় যে, আর একবার রসূল (স.) এর জামানায় লাইলাতুল ক্বদর তেইশের রাতে হয়েছিল (মুসলিম ১ম খণ্ড-৩৭০ পৃ.)। রসূল (স.) এর চাচা আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, একদা রমজানে আমাকে স্বপ্নে বলা হলো যে, আজকের রাত ক্বদরের রাত। তখন আমি তন্দ্রালু অবস্থায় দাঁড়ালাম। অতঃপর রসূল (স.) এর তাঁবুর সাথে সেঁটে গেলাম। তারপর আমি নবী (স.) এর কাছে এলাম। তখন তিনি নামাজ পড়ছিলেন। এরপর আমি ঐ রাতটির খোঁজ-খবর নিয়ে জানলাম যে, ওটা ছিলো তেইশের রাত। হযরত আবু কেলাবাহ (রা.) বলেন, লাইলাতুল ক্বদর রমজানের শেষ দশকের বেজোড় পাঁচটি রাতে পরিবর্তিত হতে থাকে (মুসান্নাফ আবদুর রাযযাক, ৪র্থ খণ্ড)। সুতরাং পাঁচটি বেজোড় রাতে যারা জাগরণ করবে তারা অবশ্যই লাইলাতুল ক্বদর পাবে। বিশেষ করে যারা দশদিন ই’তেকাফে আছেন ও বেজোড় পাঁচটি রাত ইবাদতে অতিবাহিত করবেন তাদের ভাগ্যে অবশ্যই ক্বদর জুটবে। e-mail : [email protected]