প্রধানমন্ত্রীর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়কে রাজনীতিতে স্বাগত জানিয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, জয় যদি রাজনীতি করতে চান, আমরা তাকে বাধা দেবো না বরং বলবো জনগণের কাছে আসুন। আর আশা করবো রাজনীতিতে যে পরিশীলিত ভাষা রয়েছে, কথা বলার সময়ে তিনি তা প্রয়োগ করবেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘পত্রিকায় দেখলাম আজ (বুধবার) নাকি তার অভিষেক। আমরা যতটুকু জানি, অভিষেক হয় রাজপুত্রের। তবুও আমরা তার অভিষেক দেখার অপেক্ষায় রয়েছি।’
গতকাল বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবে ’৯০-এর ডাকসু ও সর্বদলীয় ছাত্রঐক্য ফোরাম আয়োজিত ‘প্রধানমন্ত্রী ও সজীব ওয়াজেদ জয় কর্তৃক বিএনপির সিনিয়র ভাইস-চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে নিয়ে কটূক্তির প্রতিবাদ’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, জয় দেশে এসেছেন, কতদিন থাকবেন তা আমরা জানি না। কারণ তিনি ’ডাবল সিটিজেন’। তার প্রথম কথাতেই মানুষ সন্দেহ করতে শুরু করেছে। আওয়ামী লীগের ক্ষমতায় আসার বিষয়ে তথ্য তিনি পেয়েছেন কোথায়।
গাালিগালাজ ও কটূক্তি করে তারেক রহমানকে আটকে রাখা যাবে না মন্তব্য করে ফখরুল বলেন, যার মেধা, সম্ভাবনা ও প্রতিভা থাকে তাকে চাপা দিয়ে রাখা যায় না। তারেক রহমান আমেরিকা থেকে উড়ে এসে নেতৃত্ব দিতে আসেননি। দীর্ঘদিন ধরে তিনি মাটি ও মানুষের সঙ্গে সম্পৃক্ত। মির্জা ফখরুল বলেন, এ যাবত্ যত জরিপ হয়েছে, তাতে উদীয়মান জনপ্রিয় রাজনীতিক হিসেবে তারেক রহমানের নাম এক নম্বরে এসেছে।
তিনি বলেন, পাঁচ সিটিতে জনগণ বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীকে ভোট দিয়ে সরকারকে ’আসসালামু আলাইকুম’ জানিয়ে দিয়েছে। ১/১১ আর ফিরে আনতে দেয়া হবে না—প্রধানমন্ত্রীর এমন বক্তব্য প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা কোনো অসাংবিধানিক সরকার সমর্থন দেইনি। আপনারাই তাদের সমস্ত কর্মকাণ্ডের বৈধতা দেয়ার কথা বলেছেন।
তিনি বলেন, সরকার দেশের মানুষকে নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হচ্ছে বলেই প্রকাশ্যে মানুষকে গুলি করে হত্যা করা হচ্ছে। দেশের আইন-শৃঙ্খলার পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে।
অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব আমান উল্লাহ আমান, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ড. আসাদুজ্জামান রিপন, নাজিম উদ্দিন আলম, শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক খায়রুল কবির খোকন, যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল আলম নিরব, সহ-তথ্য বিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান হাবিব, সাবেক ছাত্রনেতা কামরুজ্জামান রতন, আজিজুল বারি হেলাল, এবিএম মোশাররফ হোসেন প্রমুখ।
