ঈদুল ফিতরের খুত্বার গুরুত্ব ও শুভেচ্ছা বিনিময়

আপডেট : ০১ আগস্ট ২০১৩, ১৯:৩৬
নবী (স.) সমস্ত খুত্বাই ‘আল হামদু লিল্লাহ’ দ্বারা শুরু করতেন (যাদুল মা’আদ ১ম খণ্ড পৃঃ)। তাই ইমাম মালিককে এক ব্যক্তি এ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন যে, তিনি ইমামের সাথে ঈদুল ফিতরের সালাত পড়ার পর খুত্বাহ শোনার আগে চলে যেতে পারেন কি? তিনি বললেন, না ততক্ষণ তিনি যেতে পারবেন না যতক্ষণ ইমাম না যান (মু’আত্তা ইমাম মালিক ৬৪ পৃঃ)। ঈদের দিনে ‘খাস করে’ মুসাফাহ এবং কোলাকুলি ও আলিঙ্গন করার ব্যপারে কুরআন ও হাদীসে কোন প্রমাণ পাওয়া যায় না। তবে কোন কোন হাদীস দারা প্রমাণিত হয় যে, কোন মুসলিম ব্যক্তির সাথে সাক্ষাত হলেই তাকে সালাম করতে হবে (মুসলিম মিশকাত ১৩৩পৃৃঃ)। এবং মুসাফাহও করতে পারে। যেমন আনাস (র.) বলেন, এক ব্যক্তি একদা বললো, হে আল্লাহর রসূল! আমাদের মধ্যকার কোন ব্যক্তি তার অতএব যারা সুন্নাতে রসূলের আশেখ তাদের উচিত ঈদগাহ থেকে ফিরে ঘরে দু’রাকআত নফল সালাত পড়া। একদা ওয়াসিলাহ ঈদের দিনে রসুলুল্লাহ (স.) এর সাথে সাক্ষাত করে বলেন, তাকাব্বালাল্লাহু মিন্না ওয়ামিনকা অর্থাত্ আল্লাহ আমাদের এবং আপনার তরফ থেকে ঈদকে কবূল করুন। তখন তিনি বলেন, হ্যাঁ, তাকাব্বালাল্লাহু মিন্না ওয়ামিনকা (ইবনে আদী)। রসূলুল্লাহ (স.) বলেন, যেদিন ঈদুল ফিতরের দিন সেদিন আল্লাহ তায়ালা ফেরেশতাদের সামনে গর্ব করতে থাকেন। অতঃপর বলেন, হে আমার ফেরেশতাগণ! মজদুরের পুরস্কার কি, যে তার কাজ পুরোপুরি করেছে? তখন ফেরেশতাগণ বলেন, হে আমাদের প্রতিপালক! তার পুরস্কার তাকে পুরোপুরি এর প্রতিদিন দেয়া। এবার আল্লাহ বলেন, হে আমার ফেরেশতাগণ! আমার দাস ও দাসীরা তাদের উপর চাপানো কর্তব্য পালন করেছে। তারপর তারা উচ্চৈঃস্বরে (তাকবীর) ধ্বনি দিতে দিতে দু’আর জন্য (ঈদগাহে) রওয়ানা হয়েছে। আমার সম্মান ও গাম্ভীর্যের কসম! এবং আমার উদারতা ও উচ্চমর্যাদার কসম! আমি তাদের ডাকে অবশ্য সাড়া দেব। অতঃপর তিনি বলেন, আমি তোমাদের ক্ষমা করে দিলাম এবং তোমাদের পাপগুলি পূণ্য দ্বারা বদলে দিলাম। নবী (স.) বলেন, তাই তারা ক্ষমাপ্রাপ্ত হয়ে ফিরতে থাকে (বায়হাকীর শুআবুল ঈমান, মিশকাত ১৮৬-১৮৩ পৃঃ)। পৃথিবীর সব জাতির আনন্দের দিন রয়েছে। ঈদ হলো আমাদের আনন্দের দিন। তাই এ দিনে সব হিংসা বিদ্বেষ ভুলে গিয়ে একে অপরকে বুকে জড়িয়ে ধরার মাধ্যমে গড়ে তুলি বিশ্বভ্রাতৃত্বের সুমহান দৃষ্টান্ত। সাথে সাথে যারা ফকির, মিসকিন, অনাথ আর্ত নিপীড়িত, বঞ্চিত ও অসহায় মানুষদের মুখে হাসি ফুটাবার জন্য দান সাদকা ও সাহয্য সহযোগিতার হস্ত সমপ্রসারিত করি। ঈদের আনন্দে ভরে উঠকু সমাজ বিশ্ব। দূরে সরে যাক সকল হীনতা দীনতা সংকীর্ণতা ও পরশ্রিকাতরতা। আল্লাহ তায়ালা আমাদের সংযম সাধনাকে কবুল করে ঈদের দিনে নিষ্পাপ অবস্থায় ফেরার তাওফিক দান করুণ।