আম বাগানে ক্ষতিকর কীটনাশক ব্যবহারের পরিবর্তে পরিবেশ বান্ধব সেক্স ফেরোমন ফাঁদ ব্যবহারের মাধ্যমে ফলের মাছি (কীট) নিয়ন্ত্রণ করে অতিরিক্ত লাভের মুখ দেখেছেন পবা উপজেলার নওহাটা পৌরসভার আমচাষি সাইফুর রহমান শ্যামা।
আমের সবচেয়ে বড় শত্রু ফল ছিদ্রকারী মাছি। এই মাছি আম ছিদ্র করে ভেতরে প্রবেশ করায় ফলের ব্যাপক ক্ষতি করে। এটিকে দমন করতে স্থানীয় আমচাষিরা বিভিন্ন ক্ষতিকর কীটনাশক ব্যবহার করে থাকেন। অথচ উক্ত কীটনাশক মানবদেহের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। তাই কৃষিবিদরা আম ছিদ্রকারী মাছি দমনে বাগানে পরিবেশবান্ধব সেক্স ফেরোমন ফাঁদ ব্যবহারের পরামর্শ দিয়ে থাকেন।
কৃষি বিভাগের পরামর্শ মেনে চলতি মৌসুমে নওহাটার বাগসারা এলাকার মৃত হাজী আনিসুর রহমানের ছেলে সাইফুর রহমান শ্যামা তার প্রায় ৬০ বিঘার আম বাগানে সেক্স ফেরোমন ফাঁদ ব্যবহার করে ভাল ফলন পেয়েছেন। শ্যামা বলেন, তিনি নওহাটার উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মজিবর রহমানের তত্ত্বাবধানে তার আম বাগানে ফলের মাছি দমনে পরিবেশ বান্ধব সেক্স ফেরোমন ফাঁদ ব্যবহার করেন। এতে এবার তার বাগানে পোকার আক্রমণ কমেছে। পাশাপাশি ক্ষতিকর কীটনাশকের ব্যবহারও কমেছে। ফলে অর্থ সাশ্রয়ও হয়েছে। তিনি এবার প্রায় ২০ লাখ টাকার আম বিক্রি করেছেন। একই পরিমাণ আম বাগান থেকে তিনি গত বছর আম বিক্রি করেছিলেন ১২ লাখ টাকার।
উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মজিবর রহমান বলেন, বাগানে আমের গুটি মার্বেল দানার মত হবার পর থেকে ফল ছিদ্রকারী মাছি পোকার (ফ্রুটফ্লাই) আক্রমণ শুরু হয়। এতে আমের ব্যাপক ক্ষতি হয়। এই পোকা দমনে আমচাষিরা বিভিন্ন ক্ষতিকর কীটনাশক ব্যবহার করেন। কিন্তু মানবদেহের জন্য ওইসব কীটনাশক মারাত্মক ক্ষতিকর। উপরন্তু কীটনাশক ব্যবহার করেও তেমন কাজ হয় না। এতে আম ছিদ্রকারী পোকা পুরোপুরি ধ্বংস হয় না। এসব ক্ষেত্রে আম বাগানে সেক্স ফেরোমন ফাঁদ ব্যবহার করলে শতকরা ৮০ ভাগ পোকা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। সেক্স ফেরোমন ফল ছিদ্রকারী পোকার স্ত্রী মথের গন্ধযুক্ত লিউর দিয়ে তৈরি এক ধরনের পদ্ধতি। এই লিউর একটি ছিদ্রযুক্ত প্লাস্টিকের বোতল বা কৌটার মধ্যে রাখা হয়। এর গন্ধে পুরুষ পোকা আকৃষ্ট হয়ে ওই কৌটা বা বোতলে প্রবেশ করে এবং বোতলের নিচে থাকা পাউডার মিশ্রিত পানিতে পড়ে মরে যায়।
এদিকে সাইফুর রহমান শ্যামার আম বাগানে সেক্স ফেরোমন ফাঁদ প্রযুক্তি ব্যবহারের সাফল্য এলাকার অন্যান্য আমচাষিদেরও যথেষ্ট উত্সাহিত করেছে। তারাও আগামী বছর নিজেদের আম বাগানে এই পদ্ধতি ব্যবহারের আগ্রহ প্রকাশ করে কৃষি বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছেন।
