কৈডাঙ্গা রেলের ব্রিজে কয়েক বছরে নিহত শতাধিক

আপডেট : ০১ আগস্ট ২০১৩, ২২:৪১
ঈদের সময় উত্তরাঞ্চল ও দক্ষিণাঞ্চলের আন্তঃনগর ট্রেনগুলোর ছাদে অসংখ্য যাত্রী ভ্রমণ করে। এ কারণে জেলার ভাঙ্গুড়া উপজেলার বড়াল ব্রিজ ও দিলপাশার স্টেশনের মাঝামাঝি রেলের কৈডাঙ্গা ব্রিজের অবকাঠামোটি অপেক্ষাকৃত নিচু হওয়ায় প্রতি বছর ঈদের সময় এখানে ১০/১৫ জন যাত্রী প্রাণ হারায়। এ পর্যন্ত ট্রেনের ছাদে যাওয়া নিহত যাত্রীর সংখ্যা শতাধিক বলে জানা গেছে। এদিকে গত বছর ইত্তেফাকে এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের পর ব্রিজটি ৩ ফুট উঁচু করার প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়া আসন্ন ঈদের সময় ট্রেনের ছাদে থাকা যাত্রীদের অকালমৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা করতে কৈডাঙ্গা ব্রিজের উভয়পাশে নিরাপত্তা কর্মী নিয়োগ করেছেন ভাঙ্গুড়া ইউপি চেয়ারম্যান। রেল কর্তৃপক্ষ এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে। উল্লেখ্য, এই রুটে প্রতিদিন ২২টি আন্তঃনগর ট্রেন চলাচল করে। রেল অফিসসূত্রে জানা যায়, ২০০৭ সালে ১২ জন, ২০০৮ সালে ১১ জন, ২০০৯ সালে ১৭ জন, ২০১০ সালে ৮ জন, ২০১১ সালে ১২ জন ও ২০১৩ সালের জুন পর্যন্ত ৫ জন মারা গেছে। সংশ্লিষ্টসূত্রে আরো জানা যায়, কৈডাঙ্গা ব্রিজ অতিক্রমের সময় ছাদের যাত্রীরা না শুয়ে অসাবধানবশত বসে থাকায় ব্রিজের অবকাঠামোর সাথে মাথায় আঘাত লেগে মারা যান। নিহতদের বেশিরভাগই অজ্ঞাতপরিচয়ের হওয়ায় কোনদিনই স্বজনরা তাদের প্রিয় মানুষটির মৃতদেহের সন্ধান পায় না। এ কারণে পাবনা আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলামের কবরস্থানে তাদের লাশ দাফন হয়। ১৯১৩ সালে ব্রিটিশরা কৈডাঙ্গা ব্রিজটি তৈরি করেন। এতে থ্রু টাইপের গার্ডার রয়েছে। রেলওয়ে প্রকৌশল বিভাগ ব্রিজের অবকাঠামোর উচ্চতা যথাযথ দাবি করলেও অন্যান্য ব্রিজের চেয়ে কৈডাঙ্গা ব্রিজ একটু নিচু বলে সংশ্লিষ্টরা স্বীকার করেছে। অনেকদিন আগে থেকেই এই ব্রিজটির সংস্কারের দাবি করা হলেও রেল বিভাগ এখন পর্যন্ত কোন ব্যবস্থা নেয়নি। রেলওয়ের চিফ ইঞ্জিনিয়ার রফিকুল আলম বলেন, গত বছর দৈনিক ইত্তেফাকে এ সংক্রান্ত রিপোর্ট ও বিভাগীয় তথ্যের ভিত্তিতে এই ব্রিজের অবকাঠামো আরো ৩ ফুট উঁচু করার প্রকল্পের দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। আমরা আশা করছি, প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে অকাতরে আর কারো প্রাণ ঝরবে না। এদিকে আসন্ন ঈদের সময় ট্রেনের ছাদে থাকা যাত্রীদের অকালমৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা করতে কৈডাঙ্গা ব্রিজের উভয়পাশে নিরাপত্তা রক্ষী নিয়োগ করেছেন ভাঙ্গুড়া ইউপি চেয়ারম্যান মো. আমির হোসেন। ২ জন গ্রাম পুলিশ ও কয়েকজন উদ্যোগী ব্যক্তিসহ ৭ সদস্যের একটি দল ঈদের ৪ দিন আগে থেকে পরবর্তী ১০ দিন পর্যন্ত রাত-দিন দায়িত্ব পালন করবেন। তারা সতর্ক সংকেত দিয়ে সব আন্তঃনগর ট্রেন ধীরগতিতে ব্রিজ পারাপারে ব্যবস্থা করবেন। এ সময় ট্রেনে ডাকাতি রোধ করতে কৈডাঙ্গায় পুলিশ টহল জোরদার করা হয়েছে বলে ভাঙ্গুড়া থানার ওসি সুব্রত কুমার সরকার জানিয়েছেন। একইসঙ্গে মাইকে ছাদে থাকা যাত্রীদের ঝুঁকিপূর্ণ ব্রিজ সম্পর্কে সাবধান করা হবে বলে ইউপি চেয়ারম্যান আমির হোসেন জানান। এছাড়া ভাঙ্গুড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ আসাদুল হক জানান, ট্রেনের চালকদের এই সতর্ক সংকেত ও নির্দেশ মানতে বলা হয়েছে।