একাত্তরে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর একেএম ইউসুফের বিরুদ্ধে ১৩টি অভিযোগ গঠন করেছে যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। গতকাল বৃহস্পতিবার বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনাল অভিযোগ গঠন শেষে আগামী ৫ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপক্ষের সূচনা বক্তব্য ও সাক্ষ্য গ্রহণের তারিখ ধার্য করেছেন। তার বিরুদ্ধে গণহত্যা, হত্যা, নির্যাতন, ধর্মান্তরকরণসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের বিভিন্ন অভিযোগ গঠন করা হয়েছে।
তবে একেএম ইউসুফ তার বিরুদ্ধে আনা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। গতকাল তার জামিনের আবেদন করে আসামিপক্ষ। গতকাল অভিযোগ গঠনের শুরুতেই ইউসুফের সংক্ষিপ্ত জীবনবৃত্তান্ত তুলে ধরা হয়। অভিযোগ গঠনের আদেশে বলা হয়, রাজাকার বাহিনীর প্রতিষ্ঠাতা ও খুলনা শান্তি কমিটির প্রধান ছিলেন ইউসুফ। তিনি একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধকালে বাগেরহাটের ভাষাবাজার, কচুয়া, শাখারীকাঠি বাজার, রায়েন্দাবাজার, তাপালবাড়ি বাজারসহ বিভিন্ন স্থানে গণহত্যা, হত্যা, নির্যাতন-নিপীড়ন, ধর্মান্তরকরণসহ নানা ধরনের অপরাধ করেছেন। অভিযোগ গঠনের পর একেএম ইউসুফের কাছে তিনি দোষী না নির্দোষ জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি একেবারেই নির্দোষ। আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ভিত্তিহীন।
অভিযোগ গঠনের বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি হূষিকেশ সাহা সাংবাদিকদের বলেন, জামায়াতের এ নেতার বিরুদ্ধে ১৩টি অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। যদিও রাষ্ট্রপক্ষ ১৫টি অভিযোগ ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করেছিলো। অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সাইফুর রহমান বলেন, রাষ্ট্রপক্ষের আনা অভিযোগ সত্য নয়। উল্লেখ্য, রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনে গত ১ জুলাই ইউসুফের বিরুদ্ধে মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য ট্রাইব্যুনাল-১ থেকে ট্রাইব্যুনাল-২ এ স্থানান্তর করেন। রাষ্ট্রপক্ষ গত ৮ মে ইউসুফের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে তাকে গ্রেপ্তারের আবেদন জানায়। ১২ মে ট্রাইব্যুনাল তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করলে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাকে তার বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে।
