শিক্ষণ শিখন ও ফলাবর্তনের সমন্বিতরূপই সৃজনশীল

আপডেট : ০২ আগস্ট ২০১৩, ১৮:১৫
মো: কবির হোসেন (সুজন) প্রভাষক, ব্যবস্থাপনা বিভাগ নিকুঞ্জ মডেল কলেজ, খিলক্ষেত, ঢাকা। শিক্ষা হলো শিক্ষার্থীর সমাজ কাঙ্ক্ষিত আচরনের তুলনামূলক স্থায়ী পরিবর্তন যার মাধ্যমে সে পরিবর্তিত সামাজিক পরিবেশের সাথে খাপ খাইয়ে চলতে পারে। আর বিষয় বস্তুগত জ্ঞানের পাশাপাশি শিক্ষকের জ্ঞান বিতরণের পদ্ধতি, ব্যক্তিগত কলা কৌশলকে বলা হয় শিক্ষণ। যেহেতু ব্যক্তিগত কলা কৌশল জড়িত তাই আমরা একে কলা বলে অভিহিত করতে পারি। পক্ষান্তরে এই শিক্ষনের ফলশ্রুতিতে শিক্ষার্থীর আচরণের অপেক্ষাকৃত স্থায়ী পরিবর্তনকে বলা হয় শিখন। আর শিখন প্রক্রিয়ায় বিচ্যুতি নির্ণয় করে প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদান করার প্রক্রিয়াকে বলা হয় ফলাবর্তন। আর এই শিক্ষণ, শিখন ও ফলাবর্তন কিছু তত্ত্বের উপর ভিত্তি করে করা হয় বলে এগুলোকে শিক্ষণতত্ত্ব বলা হয়। আর বিষয়ভিত্তিক শিক্ষণ শিখনের ফলে শিক্ষার্থীর কতটুকু আচরনিক উদ্দেশ্য হাসিল হবে তার পূর্ব প্রত্যাশিত রূপই হলো শিখনফল। শিক্ষণ শিখনের ফলে একজন শিক্ষার্থী কতটুকু আয়ত্ব করতে পেরেছে এবং তার পারিপার্শ্বিকতার আলোকে যতটুকু বুঝতে পেরেছে এই দুটোর সংমিশ্রণের মাধ্যমে সুনির্দিষ্ট কোন ঘটনা বা উদ্দীপক বা বিষয়কে যখন সে নিজের মত করে নতুন রূপে নতুন আঙ্গিকে উপস্থাপন করে সেটাই হলো শিক্ষার্থীর সৃজন। আর এই সৃজনকে যখন কাঠামোবদ্ধভাবে উপস্থাপন করা হয় তখন সেটা হলো সৃজনশীল। আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় স্কুল এবং কলেজ পর্যায়ে বর্তমানে সৃজনশীলের জয় জয়কার। শিক্ষক তার পঠিত জ্ঞানের আলোকে বিভিন্ন সুনিপুন কৌশল প্রয়োগ করে সুনির্দিষ্ট একটি বিষয় শিক্ষার্থীর সামনে উপস্থাপন করবে, শিক্ষার্থী তার শিক্ষকের উপস্থাপিত তথ্যের বা ব্যাখ্যার ভিত্তিতে কতটুকু আয়ত্ব করতে পেরেছে বা কতটুকু বুঝতে পেরেছে তা তার আচরনের মাধ্যমে স্থায়ী ভাবে প্রকাশ করবে এবং শিক্ষক তার শিখনীয় উপস্থাপিত আচরণ বা কাজে শিক্ষার্থীর কাছ থেকে কোন দূর্বলতা পেলে তা দূরীকরনে প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদান করে তার আচরনের নির্ভুল স্থায়ী রূপে প্রতিস্থাপনের চেষ্টা চালাবে। অর্থাত্ এখানে প্রথমে শিক্ষকের শিক্ষণ, শিক্ষার্থীর শিখন এবং শিক্ষণ শিখনের আলোকে ফলাবর্তন লক্ষ্য করা যায়। সৃজনশীল পদ্ধতিতে একজন শিক্ষক তার বিষয় বস্তুগত জ্ঞানের আলোকে একটি বিষয় শিক্ষার্থীর সামনে উপস্থাপন করবে এবং শিক্ষার্থী তার আলোকে কোন বিষয় বা ঘটনা বা উদ্দীপক হতে উত্তর বের করে তার নিজস্ব বুদ্ধিমত্তার আলোকে প্রকাশের চেষ্টা করবে এবং শিক্ষক এর বাস্তবতা পর্যালোচনা করে পরবর্তীতে আরো সুনিপুনভাবে উপস্থাপনের পরামর্শ দেয়। অর্থাত্ শিক্ষণ + শিখন + ফলাবর্তন = সৃজনশীল। এই সৃজনশীল পদ্ধতিতে একদিকে যেমন শিক্ষার্থীর সামনে শিখন পদ্ধতি উপস্থাপনে শিক্ষকের সৃজনশীলতা থাকতে হবে, পাশাপাশি শিক্ষার্থীকে সৃজনশীল মনোভাব নিয়ে পড়ার জন্য উজ্জীবিত করতে হবে এবং শ্রেণিকক্ষে একজন শিক্ষক বার বার নতুনত্বের আলোকে যখন শিখন পদ্ধতি উপস্থাপন করবে তখন শিক্ষার্থী তার সবল ও দূর্বল দিকগুলো চিহ্নিত করে পরিপূর্ণ সৃজনশীল শিক্ষা পাবে। আর তার পূর্বশর্ত হলো প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত শিক্ষক। অর্থাত্ সৃজনশীল পদ্ধতিতে সকল শিক্ষককে সৃজনশীল দক্ষতায় দীক্ষিত হতে হবে। তখনই একজন শিক্ষার্থী সৃজনশীল শিক্ষা পাবে। তাই কোন বিষয়ে সৃজনশীল পদ্ধতি চালুর পূর্বেই সংশ্লিষ্ট সকল শিক্ষককে প্রশিক্ষণের আওতায় নিয়ে আসা উচিত। তা না হলে পদ্ধতি নিয়ে মতানৈক্য তৈরী হবে এবং পদ্ধতির ভুল ব্যাখ্যা হতে পারে। কারণ এই পদ্ধতিতে বিভিন্ন বিষয়ভেদে কিছুটা পার্থক্য রয়েছে। তাই আমাদের দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাার উন্নতি করতে হলে সেই শিক্ষা পদ্ধতির সঠিক প্রয়োগ থাকা চাই। না হলে ভিন্ন ভিন্ন মতবাদের সৃষ্টি হলে পুরো শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য তা ক্ষতির কারণ হতে পারে। তাই এই নতুন প্রজন্মকে সুশিক্ষায় শিক্ষিত করে তুলতে হলে বর্তমান আধুনিক সময়োপযোগী সৃজনশীল পদ্ধতির সৃজনশীল মনোভাবে শিক্ষার্থীকে তৈরী করে তুলতে হবে। আর তার ফলে নিজের প্রতি তাদের যেমন আস্তা বাড়বে নিজে নিজে লেখার বা নিজে কিছু করার স্বকীয়তা পাবে তার মানে মুখস্থ নির্ভরতা কমবে। তাই আমরা বলতে পারি, এই সৃজনশীল পদ্ধতি শিক্ষাতত্ত্বের সকল পদ্ধতির নির্যাস মাত্র। যার ফলে শিক্ষার্থী নিজেই কোন ঘটনাকে যুক্তিযুক্তভাবে উপস্থাপন করবে এবং এর আলোকে প্রশ্ন তৈরী করে তার ব্যাখ্যা প্রদান করবে আর তার ফলে আমরা এর পদ্ধতির মানে সৃজনশীল পদ্ধতি পুরোপুরি সফলতা পাব।